নিজের গাড়ি নেই চট্টগ্রাম বিআরটিএর

আজাদী অনলাইন

শুক্রবার , ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ১২:০২ অপরাহ্ণ
249

দেশে সব ধরনের গাড়ির লাইসেন্স, ফিটনেস সার্টিফিকেট ও রুট পারমিট প্রদান করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ সড়ক দুর্ঘটনার কারণও অনুসন্ধান করতে হয় তাদের।

তবে গাড়ি নিয়েই যাদের সমস্ত কাজ, সেই বিআরটিএ’র চট্টগ্রাম বিভাগীয় অফিসেই নিজস্ব কোনো গাড়ি নেই! বাংলানিউজ

সূত্র জানায়, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে একজন বিভাগীয় উপ-পরিচালক, দু’জন বিভাগীয় সহকারী পরিচালক, জেলা ও নগরের ৩টি সার্কেলের ৩ জন সহকারী পরিচালক এবং ৯ জন মোটরযান পরিদর্শক কর্মরত রয়েছেন। তবে তাদের জন্য সরকারিভাবে কোনো ধরনের গাড়ির ব্যবস্থা রাখা হয়নি।

বিআরটিএ কর্মকর্তারা বলছেন, সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সড়কে নিয়মিত তদারকি এবং জনসচেতনতা। এ দু’টি বিষয়ে জোর দেওয়া সম্ভব হলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে। কিন্তু নিজস্ব গাড়ি না থাকায় চট্টগ্রামের মতো দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরে সড়কে সুষ্ঠু নজরদারি করা সম্ভব হচ্ছে না।

অন্যদিকে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রতিটি এলাকায় গিয়ে যে পরিমাণ সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন তাও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না নিজস্ব গাড়ি না থাকার কারণে। ফলে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। ব্যাঘাত ঘটছে দুর্ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ কাজে।

বিআরটিএ’র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৩টি বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫৩ জন, আহত হয়েছেন ৪৫ জন ব্যক্তি।

তবে বাস্তবে সড়ক দুর্ঘটনার এ পরিমাণ শতাধিক ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা বাংলানিউজকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে শুধু চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালেই চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন ৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত শতাধিক ব্যক্তি।

নিজস্ব গাড়ির ব্যবস্থা না থাকায় সড়কে সুষ্ঠু নজরদারিতে ঘাটতির কথা বাংলানিউজের কাছে স্বীকার করেছেন বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ-পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।

তিনি জানান, গাড়ির লাইসেন্স, ফিটনেস সার্টিফিকেট, রুট পারমিট প্রদান করা- এসব ডকুমেন্ট নিয়ে প্রতিটি গাড়ি সড়কে চলছে কী না তা তদারকি করা এবং দুর্ঘটনা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে গিয়ে কারণ অনুসন্ধান করা বিশাল একটি কর্মযজ্ঞ।

মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, নিজস্ব গাড়ি না থাকায় ভাড়া গাড়ি দিয়েই এসব কাজ চালাতে হচ্ছে কর্মকর্তাদের। এতে একদিকে যেমন ব্যয় বাড়ছে তেমনি যথাসময়ে ভাড়া গাড়ি না পাওয়ায় এসব কাজেও কিছুটা ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। দুর্ঘটনার আলামতও নষ্ট হচ্ছে।

তিনি বলেন, মোটরযান পরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের একটি করে মোটরসাইকেল এবং বিভাগীয় কার্যালয়ের জন্য একটি গাড়ি বরাদ্দ দিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। অফিসিয়ালি চিঠিও দিয়েছি। আশা করি, দ্রুতই চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের জন্য গাড়ি বরাদ্দ পাবো।

x