নারী নিপীড়ন রোধ ও যৌতুক প্রথা বন্ধে আলেম সমাজকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে

লালদীঘি মাঠে মহাসমাবেশে প্রতিমন্ত্রী জাবেদ

রবিবার , ৭ জানুয়ারি, ২০১৮ at ৭:৫১ পূর্বাহ্ণ
113

আনজুমানে রজভিয়া নূরীয়া বাংলাদেশের উদ্যোগে ১০ম যৌতুক বিরোধী মহাসমাবেশ গতকাল ৬ জানুয়ারী শনিবার নগরীর লালদীঘি মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। আনজুমানে রজভীয়া নূরীয়ার সভাপতি আল্লামা আবুল কাশেম নূরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এম পি। তিনি বলেন, যৌতুক একটি সামাজিক ব্যাধি । যৌতুকের কারণে প্রতিদিন শত শত পরিবারে নেমে আসছে দুর্ভোগ। যৌতুকের দাবি মেটাতে না পারায় প্রতিনিয়ত গরিবের সংসার ভাঙ্গছে। যৌতুকের গ্লানি ও অভিশাপ থেকে দেশ ও সমাজকে বাঁচাতে আলেমউলামা ও ইমাম সমাজকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। প্রতিমন্ত্রী যৌতুক বিরোধী আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে এই দুষ্ট ত থেকে গরিব পরিবারগুলোকে বাঁচানোর তাগিদ দেন। আল্লামা আবুল কাশেম নূরী সূচিত এই আন্দোলনকে সারা দেশে প্রসারিত করে যৌতুকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখার আহ্বান জানান তিনি। মহাসমাবেশে উদ্বোধক ছিলেন চউক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবুদচ ছালাম। তিনি বলেন, যৌতুক দেয়ানেয়া বন্ধে বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগ চাই। নারীর প্রতি সহিংসতা ও যৌতুক প্রথা বন্ধে আলেম সমাজ ও মসজিদের ইমামখতিবদের সোচ্চার ভূমিকা রাখতে হবে। এতে প্রধান বক্তা ছিলেন ইসলামী ফ্রন্ট মহাসচিব মাওলানা এম এ মতিন। তিনি বলেন, আলেম ও ইমাম সমাজ চাইলে বড় কিছু কাজ করা যায়। এর বড় দৃষ্টান্ত আল্লামা নূরীর যৌতুক বিরোধী আন্দোলন। দেশ, সমাজ ও মানুষের প্রতি দায় ও দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি যৌতুক বিরোধী ও নারী নিপীড়ন বিরোধী আন্দোলনকে এগিয়ে নিচ্ছেন। সরকার, রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজকে তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে যৌতুকবিরোধী আন্দোলনকে চূড়ান্ত সফলতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি আলহাজ্ব মাহবুবুল আলম ও প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনি, রূপালী ব্যাংকের পরিচালক ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবু সুফিয়ান। মাহবুবুল আলম বলেন, যৌতুক নেয়াকে একটি ঘৃণ্য কাজ হিসেবে গণ্য করতে হবে। কোনো আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন যুবক যৌতুক দাবি করতে পারে না। সাংবাদিক আবু সুফিয়ান বলেন, যৌতুক দিতে না পারায় গরিব পরিবারগুলোতে আজ নেমে এসেছে দুর্ভোগের কালো ছায়া। তিনি যৌতুকমুক্ত বিয়ের জন্য যুবকদেরকে সহজ শর্তে বিনা সুদে ঋণ প্রদান এবং ম্যারেজ ফান্ড গঠনের মাধ্যমে যৌতুকমুক্ত বিয়ের খরচ জোগাতে সরকারের প্রতি দাবি জানান। ড. মুহম্মদ মাসুম চৌধুরী বলেন, যৌতুক দেবোনা এবং যৌতুক নেবোনাযুবকদের মধ্যে এই চেতনাকে জাগ্রত করতে পারলে যৌতুকের অভিশাপ থেকে পরিত্রাণ মিলবে। সভাপতির বক্তব্যে আল্লামা আবুল কাশেম নূরী বলেন, ঈমানি চেতনা ও মানবতাবোধ থেকেই আমি যৌতুকবিরোধী আন্দোলন শুরু করেছি। এই আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে সরকার, রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠনকে আমি পাশে পেতে চাই। যৌতুকমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। তিনি যৌতুকবিরোধী আইনের কঠোর প্রয়োগের দাবি জানান। প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনি বলেন, শুধু সরকার একার পক্ষে নারী নির্যাতন ও যৌতুক বিরোধী আন্দোলন সফল করা সম্ভব নয়। এই দুষ্টক্ষয় নির্মূলে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক আলহাজ্ব সৈয়দ মুহাম্মদ সেলিম ও শায়ের মুহাম্মদ মাছুমুর রশিদ কাদেরীর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মহাসমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের মহাসচিব মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসেন। যৌতুক বিরোধী প্রস্তাবনা পাঠ করেন সদস্য সচিব মুহাম্মদ জাহিদুল হাসান রুবায়েত।

প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট এর মহাসচিব আলহাজ্ব আল্লামা এম.এ মতিন। আলোচনায় অংশ নেন চবি’র ড. মুহাম্মদ জাফর উল্লাহ তালুকদার, . মুহাম্মদ এনামুল হক মুজাদ্দেদী, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি’র ড. মুহাম্মদ জালালুদ্দীন আল আযহারী, অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবু তালেব বেলাল, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্‌রাসার অধ্যাপক কামাল উদ্দীন আহমদ, আনজুমানে রজভীয়া নূরীয়া বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মুহাম্মদ নুরুল হক, আনজুমানে রজভীয়া নূরীয়া বাংলাদেশের অর্থ সচিব এড. আবদুর রশিদ দৌলতি, বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনার সাধারণ সম্পাদক সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবু আজম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার সাধারণ সম্পাদক এইচ.এম. শহীদুল্লাহ। ২য় অধিবেশনে তাফসীরুল কুরআন মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা কাযী মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম হাশেমী, উদ্বোধক ছিলেন সৈয়দ মুহাম্মদ বদরুদ্দোজা বারী। তাফসীর পেশ করেন আল্লামা নাবিল আখতার মুজাদ্দেদী, শায়খুল হাদিস আল্লামা কাজী মুহাম্মদ মুঈন উদ্দিন আশরাফী, আল্লামা ড. সৈয়্যদ এরশাদ আহমদ আল বোখারী, অধ্যক্ষ আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ হারুনুর রশিদ, আল্লমা কাযী মুহাম্মদ ইউনুচ রজভী, আল্লামা আবুল হাসান মুহাম্মদ ওমাইর রেজভী। শেষে দেশ ও বিশ্ববাসীর শান্তিকল্যাণ কামনায় মুনাজাত পরিচালনা করেন আল্লামা আবুল কাশেম নূরী । প্রেস বিজ্ঞপ্তি

x