নারীমুক্তি যুগে যুগে

সালমা বিনতে শফিক

শনিবার , ২১ মার্চ, ২০২০ at ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ
112

নারী দিবসের অনুষ্ঠানমালা চলেছে সপ্তাহব্যাপী। কোথাওবা টানা দু’সপ্তাহ জুড়ে। বৈশ্বিক দুর্যোগ করোনা ভাইরাস হামলে পড়ার আশংকাকে আমলে না নিয়ে।
সন্দেহ নেই যুগে যুগে অনেক এগিয়েছে পৃথিবীর নারীরা। উনিশ শতক থেকে বিশ শতক পাড়ি দিয়ে আজকের একুশ শতকে কোথায় নেই মেয়েরা! কিন্তু সব মেয়ে কী জানে এমন একটা বিশেষ দিন আছে পৃথিবীতে কেবল মেয়েদের জন্য? নারীশক্তি উদযাপনের জন্য? এই দিবসের ইতিহাস আর তাৎপর্যই বা কী?
নারী দিবসের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার স্থিরচিত্র ও ঘটনাপ্রবাহ সম্বলিত প্রতিবেদন দেখে তা কিন্তু মনে হয় না। প্রকৃতপক্ষে নারী দিবসের ইতিহাস না জেনে উদযাপিত হয় নারী দিবসের অনেক আয়োজন। উনিশশো সতের সালের আট মার্চে রাশিয়ার শ্রমজীবী নারীগণ রচনা করেন সেই ইতিহাস। ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই-এ রাজপথে নামেন। শতবর্ষ পেরিয়ে গেছে সেই মহান দিবসের।
আজ সে ইতিহাস বলবনা। আজ বরং অন্য কিছু গল্প হোক, তবে ইতিহাসেরই পাতা থেকে।
১। ফরাসী সম্রাট নেপোলিয়ন মেয়েদের শিক্ষিত হতে বলেছিলেন। ‘ওমেন অব চার্ম নয়, ওমেন অব ভারচু’ – এইটুকুতে আমরা তাকে নারীমুক্তির ঈশ্বর বানিয়ে ফেলেছি। সন্তান তথা উত্তরাধিকার না দিতে পারার অপরাধে অনেক ভালোবাসার সম্রাজ্ঞী জোসেফাইনকে পরিত্যাগ করে বয়সে বাইশ বছরের ছোট অস্ট্রিয়ার রাজকন্যা মেরী লুইসের পাণিগ্রহণ করেন তিনি নির্দ্বিধায়, সেকথা আমরা মনে রাখি না।
মেরী লুইসের সঙ্গে নেপোলিয়নের মালা বদলের দেড় দশক আগে ফরাসী রানী মেরী আঁতোনেতে, যে কিনা অস্ট্রিয়ারই রাজকন্যা ছিল (সম্পর্কে মেরী লুইসের পিতামহী), তার বিলাস ব্যসনে ত্যক্তবিরক্ত হয়ে উন্মত্ত ফরাসী জনতা তার শিরোশ্ছেদ করে নিয়েছিল গিলোটিন যন্ত্রের সাহায্যে। বিপ্লবের বরপুত্র হয়ে আবির্ভূত হন মহামতি (!); ইতিহাসের মহানায়ক। সাধারণ সৈনিক থেকে সেনানায়ক, তারপর ধীরে ধীরে প্রধান শাসনকর্তা, রাষ্ট্রপতি- এইটুকু না-হয় ঠিক আছে। কিন্তু তাঁর তো মন ভওে না। সম্রাট হয়ে মুকুটটা পরিধান করতে না পারলে স্বস্তি আসে না। আত্মম্ভরিতা, দাম্ভিকতার চূড়ান্ত দেখিয়ে সাম্রাজ্যবাদের জাল ছড়িয়ে দিলেন ইউরোপ জুড়ে। আমাদের ভারতবর্ষে আসার বড় অভিপ্রায় ছিল তাঁর। ঠিক সময় করে উঠতে পারেননি। বিজিত জনপদের কল্যাণে ম্যালা কাজ করেছেন; সমাজ সংস্কার, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কার, আইন সংহিতা রচনা- মাত্র এক দশকে সব ওলট পালট করে দিয়ে ইউরোপের ভাগ্যবিধাতা বনে গিয়েছিলেন।
এমন যিনি পরাক্রমশালী, তিনি কিনা আইন সংহিতার চতুর্দশ পরিচ্ছদে নারীর অধিকার প্রসঙ্গে ফরাসী বিপ্লব পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনুমোদনকৃত নারী নাগরিকদের অধিকার সংক্রান্ত ঘোষণাপত্র বাতিল করে দিলেন। ভোটাধিকার তো নয়ই, বরং আইন করে স্ত্রীকে স্বামীর বশীভূত করে রাখেন, স্ত্রীদের সম্পত্তি রাখার প্রতি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। শিক্ষিত মা শিক্ষিত জাতি গঠনে সহায়ক হবে বলেই কেবল মেয়েদের শিক্ষিত করতে বলেন, অনেকটা যেমন করে আমাদের রাজা রামমোহন, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগররা করেছেন। সমাজের উন্নতির জন্যই কেবল শিক্ষিত মেয়ে দরকার, নারী জাতির উন্নতি কিংবা ভাগ্যবদলের জন্য নয় যেন।
জোয়ান অব আর্কের ফ্রান্স, ফ্রান্সের জোয়ান অব আর্ক। নেপোলিয়ন সম্রাট হিসেবে ফরাসী দেশসহ গোটা ইউরোপের তিন-চতুর্থাংশ নিজের কব্জায় আনার চারশ বছর আগে ফরাসীরাজার পক্ষ নিয়ে যুদ্ধে নেমেছিলেন কৃষক কন্যা জোয়ান। একশ বছরের যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে মুক্ত করেছিলেন ফ্রান্সকে। আজকের নারী নারীমুক্তি বিষয়ক রচনা লিখতে গেলে কিংবা বক্তৃতা দিতে গেলে নেপোলিয়নের বন্দনা করে, জোয়ানকে মনেও করেনা।
২.
তুর্কি জাতির জনক মোস্তফা কামাল পাশা যাকে আতাতুর্ক নামে সবাই জানে, সেই তিনিও ইতিহাসে নারীমুক্তির ঈশ্বর হিসেবে ব্যাপক পরিচিত। পাঁচ শতকের প্রতাপশালী ওসমানীয় শাসন ধুঁকে ধুঁকে মরছিল। কামাল এসে হাল ধরেন। প্রথম মহাযুদ্ধ পরবর্তী তুরস্ককে নতুন ছাঁচে ঢেলে সাজাতে গিয়ে প্রথমেই হাত দেন আধুনিকায়নে, পশ্চিমায়নে। শুরুটা করেন তুর্কি নারীর ভাগ্য বদলের মধ্য দিয়ে। কেমন করে? মেয়েদের ঘরের বাইরে নিয়ে আসেন, অবগুণ্ঠন খুলে নেন। খেলার মাঠে যায় মেয়েরা, নাচের আসর মাতায়। উচ্চপদস্থ পুরুষদের যোগ্য সঙ্গিনী হবার জন্য তৈরি করা হয় মেয়েদের। কদিন পর ভোটাধিকারও পেয়ে যান তুর্কি নারী। আর ভাবনা কী! কিন্তু ঘরে কী মুক্তি এসেছে নারীর? সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা?
উচ্চশিক্ষিত ও ধনী পরিবারের সন্তান প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনশাস্ত্র নিয়ে পড়াশোনা করে আসা লতিফে হানিম। বহু ভাষায় পারদর্শী। আতাতুর্কের পাশে মানায় কেবল তাঁকেই। বয়সে সতের বছরের ছোট, তাতে কী! ঘর বাঁধে ওরা। ঘর কী আর তাঁদের বাঁধতে পারে? মুক্তির গান গাইতে হয় বাইরে এসে- উন্মুক্ত আকাশের নিচে, খোলামেলা হয়ে। পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত লতিফে মাথার ওড়না ফেলে দিয়ে নিয়মিত সভা সমিতিতে যান, কামালের সংস্কার ও নারীমুক্তির বন্দনা করে যান। কিন্তু কামালের বেপরোয়া রাত জাগা জলসায় আর মন বসে না লতিফের। ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। কামাল তা সইবেন কেন? রাষ্ট্রপতি বলে কথা। সহকর্মীদের বলে কয়ে সঙ্গে করে নিয়ে রেলগাড়িতে তুলে দিতে বলেন, বাপের বাড়ির পথে। তিন বছরের মাথায় চুকেবুকে যায় সবকিছু। সরাসরি ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক তিন তালাক হয়ে যায়, যদিও কামালের নব্য তুরস্কে ইসলামী কর্মকাণ্ড, এমনকি নামধাম পর্যন্ত মুছে ফেলার সব বন্দোবস্ত পাকা হয়ে যায় ইতোমধ্যে।
লতিফে চলে যান পর্দার অন্তরালে চিরদিনের মতো। তাঁর ইউরোপের সেরা এক প্রতিষ্ঠান থেকে অর্জিত শিক্ষা সনদ, পারিবারিক মর্যাদা, জীবনদর্শন কোন কিছুর কথাই পৃথিবী মনে রাখেনি এতকাল। অল্প কিছুদিন হয়- অবমুক্ত হয়েছে লতিফে হানিমের জীবনী। আফসোস! বইটির নাম- ম্যাডাম আতাতুর্ক!
৩.
‘পাহলবি ইরান’ লিখে গুগোলে খোঁজাখুঁজি করলে যেসব ছবি ভেসে ওঠে তা দেখে যে কারোরই মনে হবে- ইউরোপের কোন রাজপরিবারের পারিবারিক প্রচ্ছদ। সাজপোশাকে পুরোপুরি পশ্চিমা, ক্ষেত্রবিশেষে পশ্চিম হার মেনে নিতে বাধ্য। পাহলবি সম্রাজ্ঞীগণ যেসব পোশাক পরে জনসমক্ষে আসতেন ষাট ও সত্তরের দশকে, আজকের ব্রিটিশ রাজবধূ কেট মিডলসনও সেরকম পোশাক পরিধান করার সাহস রাখেন না। ঐতিহ্য বলে যে একটা কিছু থাকে সমাজ জীবনে ও রাষ্ট্রব্যবস্থায়, তাকে সম্পূর্ণভাবে কবর দিয়ে পাহলবি শাহগণ পারস্য দেশকে ঢেলে সাজাতে আত্মনিয়োগ করেন। কামালের মতো নারীকে ঘরের বার করেন। অবগুণ্ঠন তুলে নেয়াই কেবল নয়, পোশাকের দৈর্ঘ্য প্রস্থে এতটাই কাটছাঁট করা হয় যে লন্ডন প্যারিস নিউইয়র্ক কে পেছনে ফেলে দেয় ষাটের দশকের তেহরান।
এতো গেল রাজপথের খবর। বাড়ীতে কী চলছে? শাহের কর্মচারী, নানা প্র্রদশের শাসনকর্তাগণ এক দুই তিন করে অনেকবার ছাদনাতলায় বসে যান অনিমেষে। কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাদের উদ্ধার করেন। জন্ম দেন অগণিত সন্তানসন্ততি। সবার নাম এমনকি চেহারাও বাবা মশাইদের ভাল করে মনে থাকেনা। স্ত্রীদের দেখা দেওয়া হয় কালেভদ্রে। কারও তেমন আক্ষেপ থাকেনা। বিলাসব্যসনেরতো অন্ত নেই। সন্তানদের অনেকে প্যারিস লন্ডন সুইজারল্যান্ডে পড়তে যায়। অনেক মেয়েও উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশ যাত্রা করে।
ইরান দেশে পাহলবিদের পূর্ববর্তী কাজার রাজবংশের শাসকরাও মেয়েদের খোলামেলা হয়ে বাড়ির বাইরে যাবার অনুমোদন দিয়েছিল (বলা ভাল, রাজপরিবার কিংবা অভিজাত মেয়েদের)। ‘ডটার অব পার্সিয়া’ বইটি কাজার শাসনামলের এক প্রাদেশিক শাসনকর্তার কন্যার বয়ানে রচিত। পারস্য সাম্রাজ্যের প্রাচীন শহর সিরাজের গভর্নর পিতার ছত্রিশজন সন্তানের মধ্যে তাঁর অবস্থান পঞ্চদশ। বাবার আটজন স্ত্রীর মাঝে তাঁর মায়ের অবস্থান তৃতীয়। তবে বাবা তাঁর আদর্শ, বাবাই নায়ক। পত্র পল্লব ও বৃক্ষ বিহীন মরুর বুকে মরূদ্যান গড়ে তোলেন, জলাধারের নহর বইয়ে দেন সেই মহান বাবা। বিশাল প্রদেশের দেখভাল করেন। কেমন করে? কাদের সাহায্য নিয়ে? কাদের ঘাম শ্রম রক্ত ঝরিয়ে? প্রান্তিক মানুষদের কথা অবশ্য ইতিহাস বলে না। সাত্তারেহ ফারমেইনের সেই রচনায় চাকর বাকর শ্রেণীর মানুষ, নারীপুরুষ নির্বিশেষে সবার জীবন কাহিনী সম্পর্কে কিছুটা ধারনা লাভ করা যায়। অনেকটা আমাদের উন্নয়নের শ্লোগানের মতো। পরিসংখ্যানিক রেখাচিত্র আর আসল চেহারার মাঝে বিস্তর ফারাক।
৪.
পাহলবিদের পতনের ঘণ্টাধ্বনি বেজে ওঠে সত্তরের দশকের শেষ প্রান্তে এসে। এবার আসে ইসলামী ঢেউ; ইমাম খোমেনি ইসলামী আদর্শে ইরানকে ঢেলে সাজানোর কাজ শুরু করেন। মেয়েজাতির পোশাক ও জীবনযাত্রা নিয়ে আবারও আইন পাস হয়। খোলামেলা আঁটোসাঁটো নয়, এখন থেকে ঢিলেঢালা আলখাল্লা ছাড়া ঘরের বাইরে পা দিতে পারবেনা ইরানি নারী। মুখমণ্ডল ঢেকে রাখতেও নির্দেশনা আসে।
পাহলবিদের আমলে যারা পোশাকি মুক্তির স্বাদ পেয়েছিল, তাদের অনেকেই দেশত্যাগ করে ফ্যাশনের স্বর্গভূমি ইউরোপে গিয়ে থিতু হয়েছে। যারা পালাতে পারেনি তারা ধীরে ধীরে অভ্যস্ত করে নেয় নিজেদেরকে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে। রাতারাতি পাল্টে যায় রাজপথের চেহারা। সংক্ষিপ্ত পোশাকের নারীদের পরিবর্তে ইরানের পথে ঘাটে দেখা যায় আপাদমস্তক ঢাকা নারী, সবার রঙ এক- কালো।
একুশ শতকে এসে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে শহুরে মেয়েরা মোটামুটি স্বাভাবিক পোশাক নির্বাচনের সুযোগ লাভ করেছে। তবে অনেকেই অবরোধবাসিনী হওয়াকে শ্রেয় মনে করে অন্তপুরে বসত গড়েছে পাকাপাকিভাবে। প্রান্তিক নারীদের কথা এখানে না বললেও চলে।
৫.
আরব দেশের সিংহাসনে উপবেশন করার জন্য অধীর আগ্রহে বসে আছেন বাদশাহজাদা মুহাম্মদ বিন সালমান। নারীজাতির মুক্তির দিশারী হয়ে নানা যুগোত্তীর্ণ সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়ে কার্যকরও করে ফেলেছেন যুবরাজ। গাড়ি চালানোর অধিকার, রঙমহলে গিয়ে চলচ্চিত্র উপভোগের অধিকার, বড় ময়দানে গিয়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উপভোগের অধিকার থেকে শুরু করে নৈশক্লাবে গিয়ে নাচগানের অধিকারও দেয়া হয় নারী জাতিকে। রাজপুত্রের অযাচিত বদান্যতায় মুগ্ধ অভিভুত আরব নারী।
সত্যিই কী তাই! হঠাৎ করে সীমাহীন আনন্দ উল্লাস করার এই যে অধিকার, তা কী আরব ভূখণ্ডের সকল নারীর জন্য বরাদ্দ? চার দেয়ালের ঘরের ভেতর মুক্তির স্বাদ কী পায় মুক্ত নারীগণ? কাগুজে মুক্তি কী তাহলে কেবলই গণমাধ্যমে খবর ও ছবি ছাপানোর জন্যে!
সৌদি রাজপরিবার ও ধনকুবেরদের কন্যা জায়াদের হাতে তৃতীয় বিশ্বের কত শত নারী নির্যাতিত হচ্ছে প্রতিদিন, গণমাধ্যমে নিয়মিত ছাপা হচ্ছে। কোন কিছু কী বদলাচ্ছে? যুবরাজের সিংহাসনারোহন ঠেকাতে পারে, এমন সাধ্যও কী আছে পৃথিবীর কোন শক্তির? থাকলেইবা কী? বিকল্প যুবরাজ বা অন্য কেউ ক্ষমতায় এলেই কী মেয়েদেরকে তাদের নিজেদের মতো করে থাকতে দেবে?
ইতিহাস থেকে ফিরে আসি বাস্তবে। একটা কথা মনে হয় না- রাষ্ট্রনেতাগণ শাসনব্যবস্থার গোড়াতেই কেন মেয়েদের সাজ পোশাক নিয়ে যতসব আইন কানুন রচনা করেন! একজন মেয়ে কোথায় কখন কী পোশাক পরবে, সে সিদ্ধান্ত কী সে নিজে নিতে পারেনা? একজন স্বাভাবিক রুচিবোধ সম্পন্ন মেয়ে নিশ্চয় ব্যক্তিগত পছন্দের পাশাপাশি শালীনতা ও সামজিক ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়েই পোশাক নির্বাচন করবে। কেউ যদি না করতে চায়, করবেনা। তাকে কেউ কেউ বাহবা দেবে, তিরস্কারও করতে পারে কেউনা কেউ। কিন্তু তাকে কোনভাবে বাধ্য করা যায়না। কই, পুরুষের পোশাক নিয়ে তো কোন মাতামতি নেই, আইন কানুনের বাড়াবাড়ি নেই।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে গেল শতকে কতশত পরীক্ষা নিরীক্ষা হল- কেবল মেয়েরা কী কাপড় পরবে, তা নিয়ে। প্রগতির পতাকাধারীগণ বলেন অবগুণ্ঠন খুলে ফেল, ধর্মাশ্রয়ীগণ বলেন খোলসে ঢুকে পড়। শুধু কথা নয়, রীতিমত আইন প্রণীত হয় নানান ধারায়। কোন শাসক কত উদার তা বোঝা যায় সেদেশের নারীদের পোশাক আশাক আর বাহ্যিক চালচলন দেখে। খোলামেলা ও সংক্ষিপ্ত জামাকাপড়ই যেন নারীমুক্তির মানদণ্ড।
হায় নারী ! যদি নিজেই বুঝত কীসে তার মুক্তি, কোথায় মর্যাদা, আনন্দইবা কোথায়!