নারীমুক্তি ও বাল্যবিয়ে রোধে আরিয়ার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

নিজাম সিদ্দিকী

শনিবার , ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ at ৫:১৬ পূর্বাহ্ণ
67

জন্ম, বেড়ে ওঠা তাঁর দেশের বাইরে। কিন্তু তাঁর চেতনার মশাল জ্বলে ওঠে দেশের মানুষের কথা ভেবেই। বিশেষ করে মায়ের জীবনের আহাজারিই তাঁর তারুণ্যে আঁচড় কাটে। তাঁকে উদ্বুদ্ধ করে নারীমুক্তির ঠিকানা খুঁজতে। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি ‘মাই সোলি ফাউন্ডেশন’ নামে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দাঁড় করিয়ে চলে তাঁর কর্মপ্রচেষ্টা। উদ্যোগ নেন বাল্যবিয়ে রোধসহ, নারীমুক্তি এবং নারীর স্বাবলম্বীতার নানা উপায় উদ্ভাবনের। আর প্রথম ধাপে একটি পাইলট প্রোগ্রাম নিয়ে বাংলাদেশে আসেন এবং চট্টগ্রাম থেকেই তার পাইলট প্রোগ্রামের সূচনা করেন।

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এই অবিচল কর্মদ্দ্যোগী এবং দৃঢ়চেতা তরুণীর নাম আরিয়া মুশতারী। তাঁর পৈতৃক নিবাস চট্টগ্রাম নগরের পাথরঘাটা। বাবা-মা ও এক ছোট বোনের সঙ্গে থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে। পড়াশোনা করছেন ব্যবসন কলেজ স্কুল অব বিজনেসে তৃতীয় বর্ষে, বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও স্ট্র্যাটিজি বিষয়ে।
গত বছরের ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে আরিয়া চট্টগ্রাম আসেন তাঁর পাইলট প্রোগ্রাম নিয়ে এবং প্রায় সপ্তাহ তিনেক এখানে থেকে আবার ফিরে যান যুক্তরাষ্ট্রে। ‘মাই সোলি ফাউন্ডেশনে’র মাধ্যমে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় এক বছর মেয়াদের এ প্রকল্প। এর মাধ্যমে মেয়ে শিক্ষার্থীদের বাল্যবিয়ে রোধে সচেতনতা সৃষ্টি, আর্থিক মুক্তির উপায়, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং এক্ষেত্রে তাঁদের মধ্যে নেতৃত্বের বিকাশে সহযোগিতা করা। এরপর এশিয়ার অন্যান্য দেশে এর কার্যক্রম সম্প্রসারিত করা হবে বলে জানিয়েছেন আরিয়া। কাজের সূত্রে চট্টগ্রাম এসে আরিয়া নগরীর বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উমেনসহ সীতাকুণ্ড এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা, কর্মশালার আয়োজন করেন। তুলে ধরেন তার কর্মপরিকল্পনার বিস্তারিত।
আরিয়ার কাজের মূল প্রেরণা তাঁর মা। বেড়ে ওঠার এক পর্যায়ে ১৬ বছর বয়সে মায়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার গল্পটা শুনেই চিন্তারজগতে নাড়া দেয়। ধীরে ধীরে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারলেন, বাংলাদেশে বাল্যবিয়ের ব্যাপকতা এবং নারীমুক্তির নানা প্রতিবন্ধকতার কথা। সিদ্ধান্ত নিলেন এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির। গড়ে তুললেন ‘মাই সোলি ফাউন্ডেশন’। এর অর্থ হচ্ছে ‘কখনো নি:সঙ্গতা নয়’। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে এর জন্ম। এর মাধ্যমে প্রথম সংশ্লিষ্ট বিষয়ভিত্তিক গবেষণা কাজের শুরু করেন ২০১৯ সালের মার্চে।
আরিয়া ‘মাই সোলি ফাইন্ডেশনে’র প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর মতে, মেয়েদেরকে ভাবতে হবে, তাঁরা কখনো নি:সঙ্গ নন। তাঁরা যদি শিক্ষার মাধ্যমে সচেতন হন এবং নিজেদের আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করে স্বাবলম্বী হতে পারেন তাহলে বাল্যবিয়েসহ অন্যান্য প্রতিকূলতা জয় করাও সহজ হবে। সেভাবেই তাঁদেরকে উদ্ধুদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ বিশাল কর্মযজ্ঞের আর্থিক সহযোগিতার উৎস সম্পর্কে আরিয়া জানান, নিউইয়র্কের বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনুদান এবং প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহ করেই তাঁর প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে সচল রাখা হয়েছে। নিজের কাজের ব্যাপারে প্রচণ্ড আশাবাদী আরিয়া। তাঁর ভাষায়, ‘আমি আশাবাদী, খুব আশাবাদী। বাল্যবিয়ের অবসান ঘটবে অচিরেই। এখানকার মেয়েরাও সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে এগিয়ে যাবেন অভীষ্ট লক্ষে।’