নাগরিক দুর্ভোগ যেন সহনীয় পর্যায়ে থাকে

শুক্রবার , ২২ মার্চ, ২০১৯ at ৬:৫৫ পূর্বাহ্ণ
71

নগরীর সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি নিয়ে হরদম কথা হচ্ছে। লেখালেখি হচ্ছে। অনেক সড়কেই এখন চলছে সেই খোঁড়াখুঁড়ির কাজ। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের নিয়মনীতি মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। কিছু সড়ক খুঁড়ে পাইপ বসানোর কাজ শেষ হলেও এখনো অরক্ষিতই রয়েছে সেগুলো। কিছু গর্তের চারপাশে উঁচু করে পাকা করে রাখা হয়েছে। অনেক সড়কে ম্যানহোলের ঢাকনা মূল সড়ক থেকে নিচে নেমে গেছে। রাস্তার মাঝখানে কেটে পাইপ বসানোর পর কোনো রকম মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়েছে, আইল্যান্ডের মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে রাস্তায় চলাচলে প্রতিনিয়ত নানা দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে যানবাহন ও পথচারীদের। বেশ কিছু সংযোগ সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছে। খোঁড়াখুঁড়ি করে রাখার ফলে সড়কের আকার কমেছে প্রায় অর্ধেক। এ কারণে নগরজুড়েই যানজটের মাত্রা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। এ বিষয়ে গত ৬ই মার্চ আজাদীতে সম্পাদকীয় রচনা করা হয়েছে। গতকাল দৈনিক আজাদীতে আবারো শিরোনাম হয় : ‘সড়ক সংস্কারের পর আবার খোঁড়াখুঁড়ি/ বর্ষায় ভোগান্তি বাড়ার শঙ্কা, ২০২১ সাল পর্যন্ত চলবে ওয়াসার পাইপ স্থাপনের কাজ’। এতে বলা হয়, ব্যাপক খোঁড়াখুঁড়িতে নগরীর নাগরিক জীবনে দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। সিটি কর্পোরেশনের সড়ক উন্নয়নের কাজ চলছে কয়েকটি এলাকায়। উন্নয়ন কাজের জন্য মাসের পর মাস ধরে চলছে সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি। বিশেষ করে আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, পোর্ট কানেক্টিং রোড, শাহ আমানত সংযোগ সড়ক, আরাকান রোড সংস্কার ও সম্প্রসারণ কাজ চলছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ের নির্মাণ কাজ শুরু করেছে মাস কয়েক আগে। ইতোমধ্যে নগরীর বারিক বিল্ডিং থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এলাকায় রাস্তায় খোঁড়াখুড়ি শুরু হয়েছে। তবে নগরীতে খোঁড়াখুঁড়ির অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। ওয়াসা নগরীতে ৬৫০ কিলোমিটার পাইপ লাইন স্থাপনের কাজ করছে। রাতে দিনে চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। জাকির হোসেন রোডে কিছুদিন আগে ওয়াসা ব্যাপক খোঁড়াখুঁড়ি করেছিল। বর্তমানে আবারো খোঁড়াখুড়ি শুরু করেছে। এতে রাস্তাটিতে প্রতিদিনই দীর্ঘ যানজট লেগে থাকে। নগরীর আইস ফ্যাক্টরি রোডে ব্যাপক খোঁড়াখুঁড়ি করতে দেখা গেছে। ওয়াসার পাইপ লাইন স্থাপন এবং পুরানো লাইন পাল্টানোর জন্য নগরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এতে বহদ্দারহাট আরাকান সড়কের একপাশ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে।
সড়ক সংস্কার কাজ থেকে শুরু করে যে কোনো উন্নয়ন কাজে এমন খোঁড়াখুঁড়ি হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সাধারণ জনগণ এই বিষয়টায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। কিন্তু দিন কি দিন যদি মানুষের এই ভোগান্তি চলে, তাহলে কি নীরব থাকা যায়! অস্বীকার করার উপায় নেই যে, চট্টগ্রাম মহানগরীতে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়হীনতা ও প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে জনদুর্ভোগ বেড়েই চলছে। তা ছাড়া সারা বছর খোঁড়াখুঁড়ি এবং ওই সকল সংস্কারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না নেওয়ায় সড়কের ভালো অংশেও খানা-খন্দকের সৃষ্টি হচ্ছে। সড়ক ও জনপদ বিভাগ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম ওয়াসা ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতার কারণে নগরজুড়ে এই বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে। মূলত ওয়াসার নতুন পানির লাইন স্থাপন ও পুরাতন লাইন মেরামতের কাজ চলমান থাকার কারণে গত কয়েক বছর ধরে এ দুরবস্থা অব্যাহত রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে সিটি মেয়র কঠোর হচ্ছেন বলে ইতোপূর্বে আজাদীতে প্রকাশিত খবরে জানা গিয়েছিল। খোঁড়াখুঁড়ির কারণে যাতে নগরবাসীর দুর্ভোগ না হয় সেটা বিবেচনায় নিয়ে কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে এমন সড়কগুলো পরবর্তী একবছরের মধ্যে কোনো সংস্থাকেই কাটার অনুমতি দিবেন না বলে মেয়র জানিয়েছিলেন। এছাড়া আগামী বর্ষায় শহরের কোনো সড়কেই কাটার অনুমতি দিবেন না বলে জানান তিনি। কিন্তু ২০২১ সাল নাগাদ যদি ওয়াসার এই রাস্তা কাটাকাটি চলে, তাহলে দুর্ভোগের নগরীতে রূপান্তর হওয়ার আশংকা করছেন অনেকে। নগরের সার্বিক স্বার্থে বাস্তবমুখী উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। জনদুর্ভোগ যেন সহনীয় পর্যায়ে থাকে। আমরা চাই প্রতিটি সংস্থার মধ্যে অভ্যন্তরীণ সমন্বয়।

x