নতুন সড়ক পরিবহন আইন ও প্রাসঙ্গিক কিছুকথা

মোহাম্মদ ইউসুফ

রবিবার , ৩ নভেম্বর, ২০১৯ at ৬:১০ পূর্বাহ্ণ
81

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সড়ক নিরাপত্তাসংক্রান্ত বৈশ্বিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে সড়কদুর্ঘটনায় বছরে ২৪হাজার ৯৫৪জন মানুষ মারা যায়।দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ এক্ষেত্রে তৃতীয়। সড়কের এ মড়ক থেকে জনগণকে বাঁচাতে মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩ এবং মোটরযান বিধিমালা ১৯৮৪ অকার্যকর করে নতুন আইনের বিধি তৈরি করছে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন আইনের বেশিরভাগ ধারার জরিমানা ১০-৫০ গুণ বাড়ানো হয়েছে। কিছু কিছু ধারার জরিমানা ১০০গুণ বেড়েছে। আগের ৩মাস কারাদণ্ডের বদলে ৩বছর করা হয়েছে। নতুন এ আইনের বিধিমালা পুরোপুরি প্রণীত না হলেও গত ১নভেম্বর ২০১৯ থেকে বিশাল দণ্ডসংবলিত নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর শুরু হয়েছে। শুধু আইন করে সড়ক-মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল থামানো যাবে না। এ আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। নতুন আইন সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের পরিষ্কার ধারণা দিতে হবে। একথা সত্য যে, পরিবহনব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলার জন্যে মালিক ও শ্রমিকসংগঠনের পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশই দায়ী।
পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সংশ্লিষ্ট সকলের চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলার মূল কারণ চাঁদাবাজি। বিআরটিএ কে দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে এটিকে ঢেলে সাজাতে হবে। দক্ষ চালক তৈরির জন্যে দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ চালক-প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় নামানো রোধ করতে হবে। জনগণকে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। সর্বোপরি, সড়কদুর্ঘটনার কারণগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

x