নজরুলের গানে প্রেম

ড. আনোয়ারা আলম

শুক্রবার , ৩১ আগস্ট, ২০১৮ at ৫:৩৩ পূর্বাহ্ণ
1047

বাংলা গানের আধুনিকায়ন বাংলা ভাষার শব্দভান্ডার সমৃদ্ধকরণ, গজলের প্রচলন, পরিশীলিত প্রেমের গানের সাথে সাধারণ শ্রেণির মানুষের গান দেশিবিদেশি লোকায়ত প্রমিত শব্দের যুৎসই ব্যবহার উপমাচিত্রকল্প কল্পচিত্র উৎপ্রেক্ষার অভিনবত্বে নজরুলের প্রেমের গান অভূতপূর্ব সুন্দর ও অতুলনীয়ভাবে অনন্য। রাগরূপের সংগে নজরুলের পরিচয় এত গভীর ছিল যে তিনি অনায়াসে মিশ্রিত রাগে বা রাগ ভেঙে গান রচনা করতে পারতেন। এমনকি তাঁর সৃষ্ট নতুন সুরের কবিত্বময় নামকরণও করেছিলেন যেমননির্ঝরণী, সন্ধ্যামালতী, বনকুন্ডলা, দোলন চম্পা, মীনাক্ষী, বেনুশ। শুধু ইন্দোইরানীয় সংগীতের মূল সূরগুলোই নয়, পৃথিবীর বহু দেশের সুরে গভীর আকুলতা কবির যা তাঁর সংগীতকে করেছে সমৃদ্ধ।

মোর প্রিয়া হবে, এসো রাণী,

দেবো খোঁপায় তারার ফুল,

কর্ণে দোলাব তৃতীয় তিমির চৈতী চাঁদের দুল।

কণ্ঠে তোমার পরাব বালিকা

হংস সারির দোলানো মালিকা।

বিজলী জরীন ফিতায় বাঁধিব মেঘ রং এলোচুল।”

ইংরেজ কবি ইয়েটস প্রিয়তমার জন্য আকাশের উদারতা ও তারকা খচিত নভোমণ্ডলের চাদর খুঁজে আনতে চেয়েছেন একটি কবিতায় এর প্রভাব কিছুটা তারকাখচিত যে প্রত্যাশার কথা ইয়েটস বলেছেন সে বৈভবে নজরুল অসাধারণ কল্পনা বিলাসে সাজিয়েছেন প্রিয়াকে। এ গানের প্রেক্ষাপট বিষয়ে শিল্পী আব্বাস উদ্দিনের স্মৃতিচারণ মূলক লেখায় “গ্রামোফোন কোম্পানির রেকর্ডিং রুমে কবি ও বন্ধুবান্ধবের আড্ডায় যদি এক লাখ টাকা পেয়ে যায় কেউ তবে কিভাবে সাজাবে প্রিয়াকেকেউ কলকাতার “কমলালয় স্টোর্সে কেউবা সুইজারল্যান্ডে কবি বসে গেলেন খাতা ও কলম নিয়ে। প্রিয়াকে সাজালেন আপন মনের মাধুরি মিশিয়ে প্রকৃতির সুষমায়।”

নজরুল সত্তায় যেন অফুরন্ত সৃষ্টির সঞ্চয় লুকানো ছিল, রূপকথার কল্পবৃক্ষে ঝাড়া দিলে যেমন সোনারুপা ঝরে পড়ত, তেমনি তার গানের গাছে নাড়া দিলেই চাইতে না চাইতে রকমারি গানের ফল টুপ করে খসে পড়ত। সংগীতের ক্ষেত্রে নজরুল এক সৃষ্টিশীল প্রতিভা যা তাকে নব নব সৃষ্টিতে অনুপ্রেরণা জোগাতো। সেই অনুপ্রেরণাতেই তিনি সংগীতের ভুবনে এক নতুন ধারা প্রবর্তন করেন।” (নারায়ণ চৌধুরী)

সংগীতের জগতে নজরুল অনন্যসাধারণ গান বিষয়ে তাঁর মন্তব্য আশার কবিতা সম্পর্কে যা ইচ্ছা হয় বলুন কিন্তু গান সম্পর্কে নয়। গান আমার আহার উপলব্ধি” ড. করুণাময় গোস্বামীইরড়মৎধঢ়যু ড়ভ ঘড়ুৎঁষ্থ গ্রন্থে লেখেন “নজরুলই সম্ভবত পৃথিবীতে সর্বাধিক সংখ্যক গানের রচয়িতা। গানের সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়ে যাবেতবে সংখ্যার বিচারে তার সমৃদ্ধি ও ঐশ্বর্য নিহিত নয় বরং বাণীর বৈচিত্র্যে বিষয়ের প্রাচুর্যে এবং সুরের নব নব মহিমায়।” কাজী নজরুল ইসলামের ভেতরে ছিল গান লেখার প্রবল উৎসাহ যখনই কলম ধরেছেনগল্প মজলিশের আসরে হট্টগোলের মাঝে গ্রামোফোন কোম্পানির রেকর্ডিং এর স্টুডিওতে বসে যখন যেভাবে ফরমায়েশ পেয়েছেনগান লিখেছেন উজাড় হাতে। নজরুল প্রতিভা মূখ্যত গানকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছেবলা যায় এমন এক অলৌকিক প্রতিভা বিচিত্র ধারার গানকখনো সুরকে আত্মস্থ করে সেই সুরের ওপর বাণী সংযোজন কখনো বাণীর মাঝে সুরকে বন্দি তাঁর সৃজনশীল ভাব বাণীর রূপে কাব্যে প্রস্ফুটিত এবং গানের রূপে ঘটেছে পরিণতি নজরুল একই সাথে রোমান্টিক ও বিদ্রোহী তবে তার গানে রোমান্টিকতার যে অপূর্ব আমেজ ভাবাবেগের গাঢ়তা ও প্রাবল্যের সংগে সুরের অত্যাশ্চর্য মিলন তা বিস্ময়কর।

নজরুলের ভেতরে বিদ্রোহী সত্তা ও প্রেমিক সত্তার সমন্বয় তবে প্রেমিক সত্তাই প্রকৃত যে কারণে কবির বিদ্রোহ এক ভাষণে তিনি “আমি প্রেম দিতে এসেছিলাম, প্রেম পেতে এসেছি।” তাঁর কাব্যেও গানে এ প্রেম নারীর প্রতি, স্রষ্টার প্রতি, প্রকৃতি ও সৌন্দর্য্যের প্রতি স্বাধীনতা ও দেশের প্রতি সর্বোপরি মানুষের প্রতি।

প্রেমের গানে নজরুলের অসাধারণত্ব পাঠক মনে ছড়িয়ে দেয় আবেগবৈচিত্র্যে ভরপুর, লোক আঙ্গিকের গান, গজল গান, উচ্চাঙ্গ গান এবং কীর্তন আঙ্গিকের গান। বিষয় অনুসারে শব্দ নির্বাচনে, গজলে আরবী, ফার্সী ও উর্দু শব্দের ব্যবহার কীর্তন আঙ্গিকের গানে তৎসম সংস্কৃত শব্দের প্রাধান্য। কথিত আছেকলকাতার এক রঙ্গমঞ্চে মিশরীয় নর্তকী মিস ফরিদার নৃত্য পরিবেশনায় উর্দু গজলে ‘কিস খ্যায়রে। ম্যায় নাজনে।” আর নজরুল তাৎক্ষণিকভাবে এ গানকে বাংলা গজলের সুরে লিখলেন,

আসে বসন্ত ফুল বনে

সাজে বনভূমি সুন্দরী।”

এভাবে বাংলা গানের আধুনিকায়ন বাংলা ভাষার শব্দভান্ডার সমৃদ্ধকরণ, গজলের প্রচলন, পরিশীলিত প্রেমের গানের সাথে সাধারণ শ্রেণির মানুষের গান দেশিবিদেশি লোকায়ত প্রমিত শব্দের যুৎসই ব্যবহার উপমাচিত্রকল্প কল্পচিত্র উৎপ্রেক্ষার অভিনবত্বে নজরুলের প্রেমের গান অভূতপূর্ব সুন্দর ও অতুলনীয়ভাবে অনন্য। রাগরূপের সংগে নজরুলের পরিচয় এত গভীর ছিল যে তিনি অনায়াসে মিশ্রিত রাগে বা রাগ ভেঙে গান রচনা করতে পারতেন। এমনকি তাঁর সৃষ্ট নতুন সুরের কবিত্বময় নামকরণও করেছিলেন যেমননির্ঝরণী, সন্ধ্যামালতী, বনকুন্ডলা, দোলন চম্পা, মীনাক্ষী, বেনুশ। শুধু ইন্দোইরানীয় সংগীতের মূল সূরগুলোই নয়, পৃথিবীর বহু দেশের সুরে গভীর আকুলতা কবির যা তাঁর সংগীতকে করেছে সমৃদ্ধ।

সৈয়দ আলী আশরাফ “নজরুল জীবনের প্রেমের এক অধ্যায়” গ্রন্থে লেখেন তিনি আসলে সৌন্দর্যের পূজারী, ব্যক্তির উপাসক নন। যে নারীর ভিতর সেই সৌন্দর্যের বিকাশ দেখেছেন এবং সেই নারী তার মনে সেই পূজার যে আনন্দের অনুভূতি জাগ্রত করেছেন তাকে পাওয়ার জন্য ন্যায় অন্যায় সমাজের বাধা নিষেধ মানতে রাজী নন।”

কবির জীবনে প্রেম এসেছে বারে বারে তাই তাঁর বহু প্রেমের গানে বিরহের সুরপ্রথম স্ত্রী নার্গিসের সাথে বিচ্ছেদের পরে সুদীর্ঘ ১৬ বছর পরে নার্গিসের চিঠির উত্তরে লেখেন যে গান এ যুগেও যেন প্রত্যেক ব্যর্থ প্রেমিকের আর্তধ্বনি

যারে হাত দিয়ে মালা দিতে পার নাই

কেন মনে রাখ তারে

ভুলে যাও তারে ভুলে যাও

একেবারে।”

নজরুলের প্রেমের গান কাব্য গীতি ধর্মী প্রেমের সাথে বিরহ এবং আনন্দ বেদনা। যদিও নজরুলের অনেক প্রেমের গানে প্রাধান্য পেয়েছে জাগতিক চাহিদা প্ল্যাটুনিক ধারনা ভেঙে বাস্তবতার ভুবনে তার অবাধ বিচরণ বিরহের চাইতে হৃদয়রঞ্জিত রক্তের বর্ণমালায় চেয়েছেন মিলন ‘ঘুম ঘোরে এলে মনোহর নমো নমো’

বঁধু মিটিল না সাধ ভালোবাসিয়া তোমায়তাই আবার ভালোবাসিব ধরায়, মোর মনের প্রথম মুকুল, এসো প্রিয় মন রাঙায়ে, অঞ্জলী লহ মোর সংগীতে।’

চিরায়ত আদর্শ ভাব রোমান্টিকতা অতিক্রম করে নজরুল প্রেম ভাবনায় আনলেন বাস্তবতাযে কারণে বাংলা গান তাঁর স্পর্শে হয়ে ওঠে আধুনিকপ্রেমকে তিনি অনুভব করেন কর্মের প্রেরণায়শোকের সান্ত্বনাতেও

তুমি হাতখানি যবে রাখো মোর হাতের পরে।

মোর কণ্ঠ হতে সুরের গঙ্গা ঝরে।”

স্বর্গীয় প্রেমের ধরণীর বিপরীতে লেখেন

যত ফুল ভুল কণ্টক জনে

মাটির পৃথিবী তাই এতো ভাল লাগে

হেথা চাঁদে কলঙ্ক, সাধে অবসাদ

হেথা প্রেমে আছে গুরু গঞ্জনা অপবাদ।”

মিলনের রোমান্টিক আকাঙ্ক্ষা তার গানে “মোরা আর জনমে হংস মিথুন ছিলাম” “তোমারেই আমি বাসিয়াছি ভালো শতরূপে শতবার। নজরুলের প্রেমের গানে নানাভাবে প্রাধান্য পেয়েছে নারীর প্রেম ভাবনা তথাবেদনামানঅভিমানরাগঅনুরাগমিলনও বিরহ ‘তুমি আরেকটি দিন থাকো।’ ‘বঁধু আমি ছিনু বুঝি বৃন্দাবনের রাঁধিকার আঁখি জলে, ‘সই ভালো করে বিনোদবাণী বাঁধিয়া দে, “আমার ভুবন কান পেতে রয় প্রিয়তম তব লাগি। এভাবে নারী হৃদয়ের শিল্পিত প্রশস্ত এতো চমৎকারভাবে আর কোন কবি গীতিকারের ক্ষেত্রে ঘটেছে কিনা এনিয়ে সংশয় আছে। প্রেম মহিমান্বিত নজরুলের গানেপ্রেমেই শর্তহীন আনুগত্য “ওগো রানী, তোমার কাছে হার মানি আজি শেষে।” নজরুল ঐতিহাসিক প্রেমের গান লেখেনলাইলী মজনু, শিরিফরহাদ, শাহাজাহান মমতাজসেলিমনুরজাহানকে নিয়ে। প্রেমের পর্ব যেমন দর্শন, রাগ, অনুরাগ, মিলন, বিরহ স্মৃতিতর্পণ অনেক গানে। প্রেমের জন্য অভিসার “আজ নিশীথে অভিসার তোমারি পথে প্রিয়তম” এখনো ওঠেনি চাঁদ ফোটেনি তাঁরা, আসিলে ভাঙ্গা ঘরে কে মোর রাঙা অতিথি “মর্মবেদনার শেষ হলো কি এত দিনে।” প্রতীক্ষা পর্বের-“ভরিয়া পরান শুনিতেছি গান আসিবে আজি বন্ধু মোর। নজরুলের গানে প্রেমের স্মৃতিচারণ ‘ভেসে আসে সুদ্দর স্মৃতির সুরভি হায় সন্ধ্যায়” মোরা আর জনমে হংস মিথুন ছিলাম, ‘‘মনে পড়ে আজ সে কোন জনমে বিদায় সন্ধ্যা বেলায়”

গজল বলতে ফার্সীভাষায় বোঝায় প্রেমসংগীতবাংলা ভাষায় গজল গানে সর্বশ্রেষ্ঠ প্রচারক কাজী নজরুল ইসলাম। তাঁর সংগীত জীবনের প্রারম্ভিক বছরগুলোতে যে জাতীয় গজল সংগীত রচনা করে গিয়েছিলেন তার প্রত্যেকটির বাণীবন্ধনের ভেতরে প্রেমের আকুতিতবে তা মানবমানবীর প্রেমসুফী কিংবা বৈষ্ণবীয়ভাব ধারায় নয় বরং জৈব ভাবালোকে অর্থাৎ পার্থিব কিন্তু অপূর্ব কাব্যিক যেমন

আমারে চোখ ইশারায় ডাক দিলে হায় কে গো দরদী।” “এত জল ও কাজল চোখে পাষানী আনলে বল কে” “চেয়ো না সুনয়না আর চেয়োনা এই নয়ন পানে।’ কেন আন ফুল ভোরে আজি এ বিদায় বেলায়’ প্রেমের আর্তি, মিলনের ব্যাকুলতা বিরহের বেদনা, বঞ্চিত হওয়ার দীর্ঘশ্বাস, ভালোবাসার প্রতিদান না পাওয়া হৃদয়ের শূন্যতা সব ধরনের অনুভব তার অসংখ্য গজল গানেসেখানে সূক্ষ্ম সংবেদনশীলতার পরিমাণই বেশি। গালিবের মতো কামনাবাসনার সাথে বেদনার পরশ।

কাজী নজরুল ইসলাম যখন সঙ্গীতের জগতে প্রবেশ করলেনআদর্শ হিসেবে তাঁর সামনে ছিল রজনীকান্ত, রবীন্দ্রনাথ, দ্বিজেন্দ্রলাল ও অতুল প্রসাদ। সঙ্গীতস্রষ্টা হিসেবে নজরুলও এ ধারায় অনুরাগী হলেন। তবে পরম আক্ষেপে লেখেন এক নজরুল গবেষক ‘নজরুল সঙ্গীতকৃতির মূল্যায়নে সমালোচকদের মধ্যে এক ধরনের দ্বিধা লক্ষ্য করা যায়। কুক্ষণে তিনি বাংলা গজল গানের পথিকৃত হয়েছিলেন এবং কুক্ষণে সেই গজলগুলো বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।” (ব্রাহ্মমোহন ঠাকুর)

এ প্রসঙ্গে বলতে হয় ১৯২০ সালে কাজী নজরুল ইসলাম সাহিত্য ও সঙ্গীত জগতে প্রবেশ করেন এবং বিশিষ্ট কবি হিসেবে খ্যাতির শীর্ষে থাকা সত্ত্বেও ১৯৩০ সালের পর থেকে ১৯৪২ সাল পর্যন্ত সঙ্গীতসৃষ্টিতে মগ্ন হলেনএ যে কতো বড়ো আত্মত্যাগ তা সহজে অনুমেয়। ১৯৩৬ সালে ফরিদপুর জেলা মুসলিম ছাত্র সম্মিলনীতে সভাপতির অভিভাষণে তিনি বলেছিলেন “আমি বর্তমানে সাহিত্যের সেবা থেকে দেশের সেবা থেকে কওমের খিদমতগারী থেকে অবসর গ্রহণ করে সঙ্গীতের প্রশান্ত সাগর দ্বীপে স্বেচ্ছায় নির্বাসন দণ্ড গ্রহণ করেছি।’

সমালোচকদের নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে নজরুলের ঘনিষ্ঠ সহচর জগৎ ঘটক লিখেছেন “কবির সম্পর্কে অনেকেই একটা ভুল ধারণা পোষণ করেছেন, কবি যেন আড্ডা মজলিসের মধ্যেই গানের জন্ম দিয়ে ক্ষান্ত হতেন, সঙ্গীত সম্পর্কে তাঁর কোন নিভৃত চিন্তা বা নেপথ্য প্রস্তুতি ছিল না। কবিকে আমি তন্ময় হয়ে সঙ্গীতগ্রন্থ পাঠ করতে দেখেছি, দেখেছি নির্জন পরিবেশে মনের মতো সুর উদ্ভাবনের জন্য তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম, দেখেছি আহার নিদ্রা বিশ্রাম ভুলে সঙ্গীতের ধ্যানে মগ্ন অবস্থা, একদিন শুধু নয়, দিনের পর দিন।” (বহুমাত্রিক নজরুলপৃ ৫৪২)

নজরুলের বাংলা প্রীতি গীতে তারুণ্যের হৃদয়ে আকুলতা জাগিয়েছিলো তাঁর প্রেমের গান উচ্ছ্বাসে, অনুরাগে, বিরহে আমাদের অনুভব ও স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি, যা বলে দেয় তিনি তার কালের অন্যতম প্রেমের কবিভারতীয় সংগীতযন্ত্রের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তাঁর গানের সুরের যে বৈচিত্র্য যে চাঞ্চল্য তা সময়ের প্রবাহে গভীরভাবে উপলব্ধ হবে। এখনো নজরুলের সঙ্গীতকর্মের সৌন্দর্যের সামগ্রিক ভাণ্ডার উদ্‌্‌ঘাটিত হয়নি। যা গবেষণার দাবি রাখে।

সহায়ক গ্রন্থবহুমাত্রিক নজরুলহাসান হাফিজ সম্পাদিত

কাজী নজরুল ইসলাম জন্মশত বার্ষিকী স্মারকগ্রন্থআবদুল মান্নান সৈয়দ সম্পাদিত

x