নগরে আত্মগোপনে অনেক অপরাধী

নজরদারিতে কয়েকজন কাউন্সিলর ৪১ ওয়ার্ডে হচ্ছে অপরাধ নির্মূল কমিটি

সোহেল মারমা

বুধবার , ২৩ অক্টোবর, ২০১৯ at ৪:৫২ পূর্বাহ্ণ
2251

সরকারের শুদ্ধি অভিযানের মুখে দলীয় পরিচয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলদারিত্ব, কিশোর গ্যাং পরিচালনা, মাদক, জুয়াসহ গুরুতর অপরাধে জড়িত ২০ থেকে ২২ জন। বর্তমানে তাদের এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি থাকায় অভিযুক্তরা সতর্ক অবস্থানে আছেন। কয়েকজন কাউন্সিলরও নজরদারিতে রয়েছেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে। অভিযুক্তরা এলাকায় না থাকায় নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে সাধারণ মানুষের মাঝে কিছুটা স্বস্তি বিরাজ করছে। এদিকে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে নতুন করে অপরাধ নির্মূল কমিটি গঠন করা হচ্ছে।
র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মাহবুবুল আলম বলেন, চট্টগ্রাম নগরে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও মাদক ব্যবসার মতো গুরুতর অপরাধের সাথে জড়িত ২০-২২ জনের একটি তালিকা তৈরি হয়েছে। তালিকাভুক্ত অপরাধীরা ছাড়াও সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলররা কোথায় কী করছেন সব তথ্য সংগ্রহ করছি।
র‌্যাব-৭ এর উপ-অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার শাফায়েত জামিল ফাহিম বলেন, তালিকায় থাকা অপরাধীদের বিষয়ে আমরা খোঁজখবর রাখছি। কোথাও কোনো অপরাধের তথ্য পেলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মতে র‌্যাব সন্ত্রাস নির্মূলে কাজ করে যাচ্ছে। অপরাধীরা যে হোক, এক্ষেত্রে তাদের কোনো ছাড় নেই। তিনি জানান, চসিকের কয়েকজন কাউন্সিলরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছে।
জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে সরকারদলীয় নেতার পরিচয়ে এলাকায় অপরাধে জড়িত অনেক নেতাকর্মী এখন সতর্ক। অনেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। অথচ কিছুদিন আগেও তারা প্রকাশ্যে নানা তৎপরতা চালাতেন। নগর পুলিশের উত্তর জোনের উপকমিশনার বিজয় বসাক আজাদীকে বলেন, সন্ত্রাসীদের দলীয় পরিচয় আমাদের বিবেচ্য বিষয় নয়। যেসব সন্ত্রাসী আত্মগোপনে রয়েছে তাদের বিষয়ে খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। যেকোনো অপরাধের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ পেলে সাথে সাথে তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাব। চসিকের দুই নম্বর জালালাবাদ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাহেদ ইকবাল বাবু আজাদীকে বলেন, সরকারের ক্যাসিনো, জুয়া ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের পর থেকে এলাকায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণকারী সন্ত্রাসীরা গা ঢাকা দেয়া শুরু করে। এলাকায় এখন ছোটখাট অপরাধীরা সক্রিয়। বড় অপরাধীরা আত্মগোপনে থাকায় এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি বিরাজ করছে। তারা শান্তিতে রয়েছেন। তাঁর মতে, অভিযান চলমান থাকলে এলাকা থেকে অনেক অপরাধ একেবারে নির্মূল হয়ে যাবে। এলাকায় চাঁদাবাজির যেসব অভিযোগ ছিল সেগুলো এখন শোনা যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে একাধিক কাউন্সিলর থাকার কথা শুনেছেন বলে জানান ফিরিঙ্গি বাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব। তবে কাদেরকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে সেই বিষয়ে জানেন না তিনি।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর করা তালিকায় রয়েছে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের পদবিধারী বর্তমান ও সাবেক নেতা, চসিকের কয়েকজন কাউন্সিলর। আছেন একজন উপজেলা চেয়ারম্যান। তালিকায় আছেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের উপ-অর্থ সম্পাদক হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল আলম লিমন, পলিটেকনিক ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মো. মহিউদ্দীন, নোবেল, ফরিদুল, দিদার, খুলশী এলাকার আলী আকবর ওরফে ছেঁড়া আকবর, চান্দগাঁও এলাকার এসরারুল হক, সোলেমান বাদশা, ইয়াবা সামশু, ঢাকাইয়া আকবর, আগ্রাবাদে পারভেজসহ অনেকে।
এদিকে, প্রতিটি ওয়ার্ডে অপরাধ ও জঙ্গি নির্মূলে কমিটি গঠনের কাজ চলছে। এ বিষয়ে চসিকের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়েছে। বর্তমান ও সাবেক কাউন্সিলর এবং স্থানীয় গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের নিয়ে হচ্ছে ওই কমিটি। চলতি মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ওই কমিটি গঠনের কাজ শেষ হবে বলে জানান কাউন্সিলর বিপ্লব।
তিনি জানান, আগামী ১৬ নভেম্বর লালদীঘিতে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কমিটি আত্মপ্রকাশ করবে। ওই কমিটির কাজ হবে এলাকায় মাদক, জুয়া, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ নির্মূলে সহায়তা করা।

x