নগরীর পরিকল্পিত উন্নয়নে এবার ১৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

নতুন সিডিএ চেয়ারম্যানের উদ্যোগ, শেষ হবে ২০২৩ সালে

সবুর শুভ

সোমবার , ২১ অক্টোবর, ২০১৯ at ৩:৩৩ পূর্বাহ্ণ
2094

চট্টগ্রাম নগরীকে বদলে দিতে ১৫ হাজার কোটি টাকার ‘পরিকল্পিত উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ’ নিচ্ছে নতুন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। ৯টি বড় প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২৩ সালের মধ্যে নগরকে বদলে দেয়ার পরিকল্পনায় সিডিএ। এ লক্ষ্যে প্রকল্পগুলোর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) তৈরি, ডিপিপি পুনর্গঠন করে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ, ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ চলছে।
এসব প্রকল্পের মধ্যে অনন্যা আবাসিক এলাকার উন্নয়ন (২য় পর্যায়), নতুন সড়ক নির্মাণ, সড়ক সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন, বেডিবাঁধ ও মার্কেট নির্মাণ অন্যতম। এ বিষয়ে সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস জানান, নতুন এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে সিডিএ এগিয়ে যাচ্ছে। প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সবক্ষেত্রে চট্টগ্রাম নগরীর এগিয়ে যাবে। নতুন চেয়ারম্যান মহোদয় যোগদানের পর ৯টি বড় প্রকল্প পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়নে মনোনিবেশ করেছেন।
প্রকল্পগুলোর বিষয়ে সিডিএ থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, ১ হাজার ৩৬৮ টাকা ব্যয়ে চিটাগাং আউটার রিং রোড (২য় পর্যায়) প্রকল্পের ডিপিপি তৈরির কাজ চলছে। এ প্রকল্পের আওতায় ফিডার রোড-০২ (রিং রোড হতে বড়পোল পর্যন্ত) চিটাগাং সিটি আউটার রিং রোডের সাথে সিইপিজেডের ৪ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৮০ ফুট প্রস্থ সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। এছাড়া নেভাল ওয়েস্ট পয়েন্টে ঢেউ প্রতিরোধক দেয়ালসহ বাঁধ নির্মাণের সংস্থান রয়েছে বলে জানা গেছে। এ প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত।
দক্ষিণ কাট্টলী থেকে সীতাকুণ্ড পর্যন্ত আউটার রিং রোড নির্মাণে ৮ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের ডিপিপি তৈরির কাজ করছে সিডিএর সংশ্লিষ্ট শাখা। একই সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের টার্গেট নেয়া এ প্রকল্পের আওতায় ৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ কাম সড়ক ও ফিডার রোড নির্মাণের সংস্থান রয়েছে।
৭৪৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকার আগ্রাবাদ এঙেস সড়ক থেকে বায়েজীদ বোস্তামি সংযোগ সড়ক পর্যন্ত গৃহীত এ প্রকল্পের ডিপিপি ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। নর্থ সাউথ-১ সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৮০ ফুট প্রশস্ত এ প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত।
শাহ আমানত ব্রিজ কানেক্টিং রোড থেকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ পর্যন্ত নর্থ সাউথ-২ রোডের উন্নয়নে ১ হাজার ৩৬১ কোটি ২৪ লাখ টাকার প্রকল্প ফিজিবিলিটি স্টাডি পর্যায়ে রয়েছে। ৪ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৮০ ফুট প্রশস্ত এ সড়ক উন্নয়নে বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০১৯ সালের জুলাই হতে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত।
ফিরিঙ্গিবাজার মোড় থেকে সদরঘাট পর্যন্ত ১০৩ কোটি টাকা প্রকল্প বাস্তবায়নে ডিপিপি তৈরির কাজ চলছে বলে সিডিএ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে। কাজী নজরুল ইসলাম সড়কের সম্প্রসারণ ও উন্নয়নে গৃহীত এ প্রকল্পে ৬২৬ মিটার দীর্ঘ ও ৬০ ফুট প্রশস্ত সড়কের সংস্কার ও উন্নয়ন হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সময় ধরা হয়েছে ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত।
বহদ্দারহাট থেকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ পর্যন্ত সড়কের (চাঁন্দমিয়া সওদাগর রোড সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন) জন্য গৃহীত ৩৪১ কোটি টাকার প্রকল্পের ডিপিপি সংশোধন করে দ্রুত মন্ত্রণালয়ে প্রেরণের দৌঁড়ে আছে সিডিএ। উল্লেখিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটিও বাস্তবায়ন করার টার্গেট ধরা হয়েছে। ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৪০ ফুট প্রশস্ত এ সড়ক। সরকারি অর্থায়নে উল্লেখিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করার কথা জানান সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস।
এদিকে ২ হাজার ৫৬৮ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ডেভেলপমেন্ট অব ফতেয়াবাদ নিউটাউন ইন চট্টগ্রাম প্রকল্প বাস্তবায়নে ডিপিপি তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। ৩৫৪ একর জমির উপর আবাসন গড়ে তোলার এ প্রকল্পে ৫ লাখ লোকের আবাসনের ব্যবস্থা হবে বলে উল্লেখ রয়েছে। ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে।
আগ্রাবাদ এলাকায় কন্সট্রাকশন অফ সিডিএ কর্ণফুলী কমপ্লেঙ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ৪০১ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পে রয়েছে ডিপিপির উপর লিক্যুইডিটি সার্টিফিকেট প্রদানের বিষয়টি বর্তমানে অর্থমন্ত্রণালয়ে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য প্রক্রিয়াধীন আছে। সিডিএর নিজস্ব ৩ দশমিক ২১ একর জমিতে ৪তলা বিশিষ্ট মার্কেট ব্লক, ২০ তলার অফিস টাওয়ার ব্লক, ২৪০টি এপার্টমেন্টের ব্যবস্থা রেখে ১৭ তলার আবাসিক ব্লক ও ৬ তলা বিশিষ্ট একটি কমিউনিটি ব্লকসহ মাল্টিকমপ্লেঙ নির্মাণ।
অনন্যা আবাসিক এলাকার উন্নয়নে (২য় পর্যায়) ২ হাজার ৮৩২ কোটি ৯৭ লাখ টাকার প্রকল্পটি বাস্তবায়নে যাচাই বাছাই চলছে। এ প্রকল্পে ২ হাজার ৮২৫টি আবাসিক প্লট ও ১১০ টি বাণিজ্যিক প্লট নির্মাণে করার কথা বলছে সিডিএ কর্তৃপক্ষ। ৪১৮ দশমিক ৭৩ একর জমিতে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানা গেছে। এ প্রকল্পগুলো সিডিএর নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে বলে জানান সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী। সবমিলে ৯ প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ১৪ হাজার ৮৮৭ কোটি ১৬ লাখ টাকার সংস্থার লাগবে বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত: চলতি বছরের ৩ এপ্রিল চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাবেক কাউন্সিলর এম জহিরুল আলম দোভাষ। তিনি সিডিএর সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের স্থলাভিষিক্ত হন। আবদুচ সালাম ২০০৯ সালের ২৩ এপ্রিল প্রথমবারের মতো সিডিএ চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত হয়ে ৫ মেয়াদে টানা দশ বছর দায়িত্ব পালন করে যান। উল্লেখিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে কয়েকটি বাস্তবায়নে আবদুচ ছালামেরও চিন্তা-ভাবনার কথা বিভিন্ন সময় আলোচনায় আসে।

x