নগরীতে পাহাড় ও দেয়াল ধসে মারা গেছে চারজন

আজাদী অনলাইন

রবিবার , ১৪ অক্টোবর, ২০১৮ at ৩:০০ অপরাহ্ণ
251

ঘূর্ণিঝড় তিতলির প্রভাবে ভারী বর্ষণের পর চট্টগ্রামের দুই জায়গায় পাহাড় ও দেয়াল ধসে চারজন মারা গেছে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আজ রবিবার (১৪ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে আকবর শাহ থানাধীন পূর্ব ফিরোজ শাহ কলোনি এলাকার এক নম্বর ঝিল এলাকার বরিশাল ঘোনায় পাহাড় ধসে ঘরের উপর পড়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়।

তার আগে রাত ১টার দিকে পাঁচলাইশ থানাধীন রহমান নগর এলাকায় দেয়াল ধসে নিহত হন আরেকজন। বিডিনিউজ

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে ফিরোজ শাহ কলোনির দুটি কাঁচা ঘরের উপর পড়লে তিনজন মাটিচাপা পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার কাজ শুরু করেন। ভোরের দিকে মাটি সরিয়ে তারা বের করেন তিনজনের লাশ।’

নিহত তিনজন হলেন স্থানীয় নূর মোহাম্মদের স্ত্রী নূরজাহান (৪৫), তাদের আড়াই বছরের মেয়ে ফজরুন্নেছা ওরফে নুর বানু এবং নূরজাহানের মা বিবি জোহরা (৬৫)।

নগরীর ফিরোজ শাহ এলাকায় উদ্ধার কাজ চালাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা। ছবি; অনুপম বড়ুয়া

নূর মোহাম্মদের বাড়ি ফটিকছড়ি উপজেলার শান্তির হাট এলাকায়। আর বিবি জোহরার বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার ভবানীগঞ্জে। চট্টগ্রামে তিনি তিনদিন আগে মেয়ের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন।

স্থানীয়রা জানায়, রাত পৌনে দুইটা থেকে দুইটার মধ্যে বিকট শব্দে ওই পাহাড়ের কিছু অংশ ধসে পড়ে।

সকালে ঘটনাস্থলে নূর মোহাম্মদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘টানা বৃষ্টি চলায় বিপদ বুঝে তিনি রাতে ঘরের মালামাল সরিয়ে নিচ্ছিলেন। সব শেষে স্ত্রী-শাশুড়িকে সরিয়ে নেবেন ভেবেছিলেন কিন্তু তার আগেই পাহাড় থেকে মাটির স্তর নেমে আসে।’

নুর মোহাম্মদ ফিরোজ শাহ কলোনির এক নম্বর ঝিল এলাকায় ময়লার গাড়ি চালান বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তার আরও দুই মেয়ে রয়েছে। ওই বাসায় তারা সাতজন থাকতেন।

ঘূর্ণিঝড় তিতলীর প্রভাবে কয়েকদিন চট্টগ্রামসহ আশপাশের এলাকায় টানা বৃষ্টিপাত হয়েছে। ঝুঁকি বিবেচনায় পাহাড়ের পাদদেশ থেকে বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিংসহ নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও তারা সরেনি।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘টানা বৃষ্টির কারণে নগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশের বাসিন্দাদের সরে যেতে নির্দেশ দেয়ার সাথে ম্যাজিস্ট্রেটরা অভিযানও পরিচালনা করেন।’

কিন্তু সেখানে বসতি স্থাপনকারীরা ঝুঁকি জেনেও সেখান থেকে সরেনি দাবি করে তিনি বলেন, ‘নুর মোহাম্মদের পরিবারের চার সদস্য রাতে সরলেও বাকিরা মালামাল নেয়ার জন্য আবার ফিরে এসে পাহাড় ধসে প্রাণ হারায়।’

স্থানীয় কাউন্সিলর জহুরুল হক জসিম বলেন, ‘পাহাড়ের পাদদেশে এবং খাঁজে পাহাড় কেটে অবৈধভাবে অনেকেই বসতি গড়েছে। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় তাদের উঠে যেতে বলা হলেও তারা সেখান থেকে সরেনি। তাদের স্থানীয় বিদ্যালয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়। কিন্তু অনেকেই সরলেও রাতের বেলা পুনরায় ঘরে ফিরে আসে।‘

ফিরোজ শাহ এলাকায় পাহাড় ধসে নিহতদের স্বজনের আহাজারি। ছবি: অনুপম বড়ুয়া

পূর্ব ফিরোজ শাহ কলোনির এক নম্বর ঝিল এলাকায় চারশ পরিবার ঝুঁকি নিয়ে বসরবাস করে বলেও জানান তিনি।
পাহাড় ধসে তিনজনের মৃত্যুর পর ওই এলাকায় ঝুঁকি নিয়ে বসবাসকারীরা অন্যত্র সরে গেছে বলে জানান কাউন্সিলর।

অপরদিকে পাঁচলাইশের ঘটনায় নিহত নুরুন্নবী নান্টু (৪৫) পেশায় ছিলেন রিকশাচালক, বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে। চট্টগ্রামে রহমান নগরের হিলভিউ আবাসিক এলাকার পাশে একটি ভাড়া ঘরে থাকতেন তিনি।

ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক জসিম উদ্দিন জানান, বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে পাহাড়ের ঢালে থাকা একটি গাছের শিকড় উপড়ে গেলে সেটি সীমানা দেয়ালের ওপর পড়ে। তখন ওই দেয়াল ও গাছ পাশের ঘর ভেঙে ভেতরে গিয়ে ঢোকে।

গুরুতর আহত নান্টুকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘পাহাড় ও দেয়াল ধসে নিহতদের পরিবারকে নগদ ২০ হাজার টাকা করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে।’

এছাড়া ওই এলাকায় অবৈধভাবে যারা পাহাড় কেটে বসতি তৈরি করেছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

x