ধানী জমির আলে শিমে সফলতা

সীতাকুন্ড

লিটন কুমার চৌধুরী, সীতাকুণ্ড

শুক্রবার , ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৬:১৬ পূর্বাহ্ণ

সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের নডারিয়া গ্রামের কৃষক মনিরুল ইসলাম ২০১০ সালে প্রথম ধানী জমির আলে (প্রায় এক বিঘা) শিমের চাষ করেন। মোটা তাজা গাছ আর শিমের ফলন দেখে তখন এলাকার মানুষ থমকে দাঁড়াতেন বিলের কাছে। কারণ এ শিম স্থানীয় যেকোনো জাতের চেয়ে দেখতে সুন্দর, পুষ্টিকর। ফলনও বেশি। প্রথম বছরই পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে ২০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করেন। এক বছর পর চাষ করলেন চার একর ধানী জমির আলে। ফলনও হল দারুণ। আয় হয় ত্রিশ হাজার টাকা। এসব দেখে ঈর্ষান্বিত হন তখন অন্য কৃষকরা। তার দেখাদেখি স্থানীয় কৃষকরা পরের বছর থেকে বিলের আলে একইভাবে শিমের চাষ শুরু করেন। স্থানীয় জাতের শিম। উন্নত জাতের বীজ রোপন করে লাভবান হন তারা। এতে তাদের উৎসাহ বাড়তে থাকে।
চলতি মৌসুমে সীতাকুণ্ডে প্রায় প্রতিটি বিলের আইলে আমন ধানের সাথে শিমের বীজ বপন করে এলাকার কৃষকরা। নুনাছরার জানে আলম, মোস্তফা কামাল, বহরপুরের ইদ্রিস মিয়া, বেলালসহ আরো অনেকে ধানী জমি আইলে শিম চাষ করে ব্যাপক সফলতা পাচ্ছেন। উপজেলার ভাটেরখীল এলাকার কৃষক আবুল কালাম জানান, অগ্রহায়ন মাসের শুরুতেই দুই একর জমির আমন ধানের আইলে শিম বীজ বপন করেন। ৪০দিনের মাথায় শিম পরিপক্ক হয়ে ওঠে। গত সপ্তাহ থেকে সে দুই দিন পর পর শিম বাজারে বিক্রি করেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ডে মোট ৭৫০ হেক্টর জমিতে শিম চাষ হয়। প্রতিবছর এখানে ১৮হাজার মেট্রিক টন পর্যন্ত শিম উৎপাদন হয়। এখানে ল্যাইটা, বাইট্যা, পুঁটি ও ছুরি এ চার প্রকার জাতের শিম হয়। তবে এদের মধ্যে ল্যাইটা শিম এখানে বেশি ফলন হয়ে থাকে।
কৃষি বিভাগের এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, উপজেলার পাঁচ হাজারের বেশি চাষী শিম চাষ করে থাকে। সর্বাধিক শিম উৎপাদন হয় উপজেলার উত্তরে নুনাছরা থেকে ফকিরহাট পর্যন্ত। কৃষি বিভাগের পরিসংখ্যান ছাড়াও পাহাড়ি এলাকায় ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই ধারে শিম চাষ করে আরো পাঁচ হাজার মে.টন অধিক উৎপাদন করে। যার হিসাব কৃষি বিভাগে নেই।
সীতাকুন্তের মোহন্তের বাজার, বড় দারোগারহাট, শুকলাল হাট, কুমিরা হাটে সরেজমিনে দেখা যায়, চাষিরা জমি থেকে শিম তুলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন বাজারগুলোতে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা এখান থেকে কমমূল্যে কিনে ট্রাকযোগে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায়। নুনাছরার কৃষক শরিফুলা জানান, শিম চাষ করে আমরা প্রচুর লাভবান হচ্ছি। এই চাষে মাত্র তিন মাস সময় দিয়ে ভালো আয় করা যায়। তিনি বলেন, তার দু’একর জমিতে প্রতিটি গাছে বাঁশের খুঁটি দেয়া, কীটনাশক ওষুধ ও লেবারসহ ৫ হাজার টাকা খরচ করেছে। কুয়াশার কারণে শিম গাছের ফুল ঝরে না পড়লে এবার প্রচুর লাভবান হবে বলে তিনি আশা করেন।
উপজেলা উদ্ভিদ ও কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র নাথ জানান, এখানের মাটি শিম চাষের জন্য উপযোগী। এখানে ধানী জমিতে কৃষকরা শিম চাষ করে প্রচুর লাভবান হচ্ছে। তাছাড়া ভালো ফলনের জন্য শিম চাষীদের কৃষিবিভাগ থেকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

x