ধসে পড়ার ঝুঁকিতে সিইউএফএল জেটি

সরে গেছে তলার মাটি, জাহাজ চলাচল বন্ধের শঙ্কা

হাসান আকবর

মঙ্গলবার , ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৪:২৩ পূর্বাহ্ণ

হুমকির মুখে পড়েছে চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত সিইউএফএল জেটি। তলার মাটি সরে যাওয়ায় এটি যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। এতে চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেলে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে বিসিআইসির চেয়ারম্যানসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
১৯৮৪ সালে সিইউএফএল কারখানার কাছে কর্ণফুলী নদীতে নির্মিত এই জেটির দৈর্ঘ্য ১৮০ মিটার। এখানে একই সাথে পাঁচটি লাইটারেজ জাহাজ কিংবা একটি বড় জাহাজ ভিড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এটি ব্যবহার করে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত সার খালাসের পাশাপাশি সিইউএফএল ও কাফকোতে উৎপাদিত সার জাহাজে বোঝাই করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। দেশের অন্তত পঁচিশটি গন্তব্যে এসব লাইটারেজ যায়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত এই জেটির অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, বিভিন্ন সময় ভূমিকম্প ও জোয়ার-ভাটার টানে জেটির নিচের রিটেইনিং ওয়াল ফেটে গেছে। একই সাথে নষ্ট হয়ে গেছে জেটির নিচে স্থাপন করা বল্লি ও প্লেট। এতে জেটির তলা থেকে সব মাটি সরে গেছে। ফলে এখানে আরসিসি স্ট্রাকচার থাকলেও মাটি সরে যাওয়ায় ভিতরে ‘ঢোলের’ মতো হয়ে গেছে।
জেটিতে কর্মরত শ্রমিক মোহাম্মদ ইলিয়াছ গতকাল দৈনিক আজাদীকে বলেন, জেটিটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এটি যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। এখানে লাইটারেজ জাহাজে পণ্য হ্যান্ডলিং করার জন্য পাঁচটি পয়েন্ট রয়েছে। ইতোমধ্যে তিনটি পয়েন্ট বন্ধ করে দিতে হয়েছে। বর্তমানে এই জেটির দুটি পয়েন্টে জাহাজে পণ্য বোঝাই করা হয়। বাকি তিনটি পয়েন্টে কোনো জাহাজ ভিড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। জেটি সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, নির্মাণের পর এখানে কোনো ধরনের সংস্কার করা হয়নি। রিটেইনিং ওয়াল ফেটে মাটি সরে গেলেও তা সংস্কার করা হয়নি। এতে দিন দিন জেটির তলার মাটি সরে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ১৮০ মিটার লম্বা এই আরসিসি স্ট্রাকচার বন্দর চ্যানেলে ধসে পড়লে চট্টগ্রাম বন্দরের জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এই কর্মকর্তা বলেন, সম্প্রতি বিসিআইসির চেয়ারম্যান হাইয়ুল কাইয়ুম জেটি পরিদর্শন করেছেন। জেটির ব্যাপারে উদাসিন থাকায় তিনি সিইউএফএলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি জেটি সংস্কারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ারও নির্দেশনা দেন। তবে গতকাল পর্যন্ত এই ব্যাপারে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেননি কর্মকর্তারা।
বিষয়টি নিয়ে গতকাল সিইউএফএল জেটির একাধিক শ্রমিকের সাথে কথা বললে তারা প্রত্যেকেই ঝুঁকির কথা নিশ্চিত করেন। বিষয়টি সকলেই জানেন বলেও জানান তারা। তবে কেউ কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় ঝুঁকির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন। এ ব্যাপারে সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে একাধিকবার মোবাইলে কল ও এসএমএস পাঠানো হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, ১০ ট্রাক অস্ত্র খালাসের ঘটনায় এই জেটি দেশব্যাপী আলোচনায় আসে।

x