ধর্ষণের শাস্তি হোক দৃষ্টান্তমূলক

বুধবার , ১৫ জানুয়ারি, ২০২০ at ৫:১৫ পূর্বাহ্ণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে ধর্ষণকারী দুর্বৃত্তকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে গ্রেপ্তার হওয়া দুর্বৃত্ত মজনু শুধু তার অপরাধের কথাই স্বীকার করেনি। একথাও জানিয়েছে যে, সে একজন ‘সিরিয়াল রেপিস্ট’। অর্থাৎ নিয়মিতভাবে সে নারীদের শ্লীলতাহানি ঘটিয়ে থাকে। এদিকে সহপাঠীর শ্লীলতাহানির প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন একই দাবিতে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেছে। ধর্ষককে গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি দেয়ার দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটামও দেয় শিক্ষার্থীরা। মাত্র তিনদিনের মধ্যে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে পারায় আমরা র‌্যাব ও পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আমরা একই সঙ্গে মনে করি, গ্রেপ্তার করাটাই শেষ কথা হতে পারে না। দরকার আসলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। প্রতিদিন বিভিন্ন সংবাদপত্রে ধর্ষণের ঘটনা পড়তে হয়। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় ধর্ষণের ঘটনা উদ্বেগজনকহারে বেড়েই চলেছে। পাঁচ বছরের শিশু থেকে পঁয়তাল্লিশ বছরের প্রৌঢ়া পর্যন্ত সবাই ধর্ষণের শিকার। লালসা চরিতার্থ করার জন্য ধর্ষণ এবং প্রতিহিংসা মেটানো বা অন্য কোন কারণে ধর্ষণ। অনেক সময় অপহরণ করে কোথাও আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। অনেক সময় ধর্ষণের পর ভিকটিমকে খুন করা হয়। কেন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে নারীর প্রতি চরম অপমানকর এই নির্যাতন। অনেক কারণের মতো অন্যতম একটি হল সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের অভাব। ধর্ষণ সংঘটিত হলে ভিকটিম ও তার আত্মীয়স্বজনেরা ঘটনাটি চাপা দিতেই সচেষ্ট থাকে বেশী। ইচ্ছা থাকলেও ভোগান্তির ভয়ে অনেকে থানায় যায় না। আবার অনেকে মামলা নিতেও অস্বীকার করেন। মামলার ভিকটিমকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠিয়ে ডাক্তারি পরীক্ষা করান না। পুলিশ আসামি ধরলেও খুবই সহজে তারা কোর্ট থেকে জামিনে ছাড়া পেয়ে যায়। জামিনে এসে মামলা প্রত্যাহার এর হুমকি দেয়। ধর্ষণ নারীকে একটি শারীরিক মানসিক আবেগীয়ও সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। ধর্ষিত নারী স্বাভাবিক দাম্পত্য বা যৌন জীবনযাপন করতে পারে না। অনেকের বিয়ে ভেঙে যায়। অনেকে স্বামী পরিত্যক্ত হয়। পারিবারিক জীবনে বীতশ্রদ্ধ হয়ে অনেকে অসামাজিক কাজে জড়িয়ে পড়ে। পরিবারের অন্য সদস্যদের উপরও এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ে। ধর্ষণ নারী-পুরুষের জীবন নষ্ট করে দেয়। নারীর প্রতি চরম অবমাননাকর ও নির্যাতন বন্ধ করতে দরকার সমন্বিত উদ্যোগ। তাই প্রথমেই প্রয়োজন যুগোপযোগী আইন ও তার কঠোর প্রয়োগ। প্রত্যেক থানায় যাতে ধর্ষণের ঘটনাকে যথোপযুক্ত গুরুত্ব দেয়া হয় তার ব্যবস্থা করতে হবে। ধর্ষণের মামলাগুলোতে আইনী সহায়তা, দেয়ার জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থাকা দরকার। যারা ধর্ষণের শিকার হয় তাদেরকে ঘৃণা করলে চরম নির্মমতা প্রদর্শন করা হবে।
এম.এ. গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবাণীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x