ধর্ষণের ঘটনা এবং পুলিশের ভূমিকা

শুক্রবার , ২ মার্চ, ২০১৮ at ৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ
54

গত ১২ ডিসেম্বর কর্ণফুলী উপজেলার শাহমীরপুর গ্রামে চার নারীকে ধর্ষণ এবং শরীয়ত পুরের ভেদরগঞ্জে স্থানীয় ছয় নারীকে ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ ও ধর্ষণের দৃশ্য গোপনে ভিডিও ধারণ করে পরে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে ছাত্রলীগ নেতা ধর্ষক আরিফ। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় ইদানিং ধর্ষণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলেছে। পাঁচ বছরের শিশু থেকে পয়তাল্লিশ বছরের প্রৌঢ়া পর্যন্ত সবাই ধর্ষণের শিকার। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে পাশের বাড়িতে টেলিভিশন দেখতে গিয়ে, আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পথে ধর্ষিত হয় মেয়েরা। ঘর ও তাদের জন্য নিরাপদ নয়। লালসা চরিতার্থ করার জন্য ধর্ষণ এবং প্রতিহিংসা মেটানো বা অন্য কোন কারণে ধর্ষণ। অনেক সময় অপহরণ করে কোথাও আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। অনেক সময় ধর্ষণের পর ভিকটিমকে খুন করা হয়। প্রতিহিংসার বশে বা অন্য কারণে যে বলাৎকারগুলো হয় সেগুলো সাধারণত লোক চক্ষুর সামনেই ঘটে। কেন আশংকাজনক হারে বাড়ছে নারীর প্রতি চরম অপমানকর এ নির্যাতন? অনেক কারণের মতো অন্যতম একটি হলো সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের অভাব। ধর্ষণ সংঘটিত হলে ভিকটিম ও তার আত্মীয় স্বজনেরা ঘটনাটি চাপা দিতেই সচেষ্ট থাকে বেশী। ইচ্ছা থাকলেও ভোগান্তির ভয়ে অনেকে থানায় যেতে চায় না। থানার কর্তারা যতটা বসিয়ে বসিয়ে কোন মেয়ের ইজ্জত লুক্তনের কাহিনী শোনেন তত দ্রুত ব্যবস্থা নেন না। অনেকে মামলা নিতেও অস্বীকার করেন। মামলার ভিকটিমকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠিয়ে ডাক্তারী পরীক্ষা করান না। পুলিশ আসামী ধরলেও খুব সহজেই তারা কোট থেকে জামিনে ছাড়া পেয়ে যায়।জামিনে এসে মামলা প্রত্যাহার এর হুমকি দেয়। অন্য আর দশটা অপরাধের চেয়ে ধর্ষণ একটু ভিন্ন ধরনের অপরাধ। চুরিডাকাতি ছিনতাই এর ঘটনায় টাকা পয়সার ক্ষতি হয়। সময়ে টাকার আবার হাতে আসে। দুর্বৃত্তের হাতে জখম হলে তাও চিকিৎসায় সেরে যায়। কিন্তু ধর্ষণের ফলে যে শারীরিক, মানসিক আবেগীয় ও পারিবারিক ক্ষতি হয় তা সহজে সারে না। ধর্তিতাদের উপর এটি একটি চরম আঘাত যা নারীকে শারীরিক মানসিক আবেগীয় ও সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। ধর্ষিত নারী স্বাভাবিক বা যৌন জীবন যাপন করতে পারে না। অনেকের বিয়ে ভেঙে যায়। অনেকে স্বামী পরিত্যক্ত হয়। পারিবারিক জীবনে বীতশ্রদ্ধ হয়ে অনেকে অসামাজিক কাজে জড়িয়ে পড়ে। পরিবারের অন্য সদস্যদের উপরও এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ে। ধর্ষণ নারী পুরুষের জীবন নষ্ট করে দেয়। নারীর প্রতি চরম অবমাননাকর ও নির্যাতন বন্ধ করতে দরকার সমন্বিত উদ্যোগ। তাই প্রথমেই প্রয়োজন যুগোপযোগী আইন এবং তার কঠোর প্রয়োগ। প্রত্যেক থানায় যাতে ধর্ষণের ঘটনাকে যথোপযুক্ত গুরুত্ব দেয়া হয়, তার ব্যবস্থা করতে হবে। ধর্ষণের মামলাগুলোতে আইনী সহায়তা দেয়ার জন্য সরকারিবেসরকারি প্রতিষ্ঠান থাকা দরকার। কিছু কিছু সংগঠন বর্তমানে এ কাজটি করছে এবং ভাল ফল পাওয়া যাচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ও তাদের কর্মপরিধি বাড়াতে হবে। এবং যারা ধর্ষণের শিকার হয় তাদেরকে ঘৃণা করলে চরম নির্মমতা প্রদর্শন করা হবে।

এম. . গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ পশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x