দেশে শান্তশিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কোনটি

রফিক আহমদ খান

শনিবার , ৯ নভেম্বর, ২০১৯ at ৮:১২ পূর্বাহ্ণ
41

বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মাঝে এমন কোন বিশ্ববিদ্যালয় নেই – যেখানে গত কয়েক বছরে মধ্যে কোনো না-কোনো ইস্যু নিয়ে আন্দোলন হয়নি। এর মধ্যে প্রায় প্রত্যেকটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি’র পদত্যাগ চেয়েও আন্দোলন হয়েছে। আশ্চর্য লাগে, এ-কেমন ভিসি তাঁরা, কেমন শিক্ষক তাঁরা, যাঁদের পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলন করতে হয় তাঁদের ছাত্রছাত্রীদের ! তাঁরা কী শিক্ষার্থীদের আগে-ভাগে শেখান না, কোনো ন্যায্য দাবী হাঙ্গামা ছাড়া কীভাবে আদায় করা যায়। ভুল-ত্রুটি কীভাবে সংশোধন করা যায়। উচ্চ শিক্ষার্থীদের কী শেখান তাঁরা?
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন করতে হয়, এমন পরিস্থিতি কেন সৃষ্টি হয়? একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা যদি আন্দোলন করে সেই শিক্ষকের পক্ষে ভিসি বা প্রতিষ্ঠান প্রধানের দায়িত্ব পালন দূরের কথা, সে প্রতিষ্ঠানে তাঁর আর শিক্ষাকতা করাও লজ্জাজনক। শিক্ষক আর শিক্ষার্থীর মধ্যে যে মর্যাদার সম্পর্ক, সে মর্যাদার অবশিষ্ট থাকে না আর। এ-দেশে কোন সমস্যা-ই আলোচনার মধ্য দিয়ে সমাধান হয় না কেন এটা বোধগম্য নয়। অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না-হলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোচনায় সমস্যার সমাধান হওয়া দরকার। কারণ একটাই, সেটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান; যেখানে পড়ে-শিখে আমরা মানুষ থেকে ভালো-মানুষ হই। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে তো এ-সব আন্দোলন, মারামারি, কাটাকাটি, ফাটাফাটি একেবারেই না-হওয়া চাই। ওগুলো দেশের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলে কথা। বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে বছরের পর বছর এ অবস্থার কারণে মোটামুটি আর্থিক সামর্থ্যবানরা তাদের সন্তানদের বিদেশে পড়তে পাঠান। ফলে দেশের টাকা চলে যাচ্ছে বিদেশে। বিপুল টাকা।
আরেকটা কথা, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের জন্য সরকার বছরের পর বছর যে টাকা খরচ করে তাতে পড়ালেখা না-জানা কৃষক দিনমজুরের কাছ থেকে প্রাপ্ত করের টাকাও আছে। তাদের টাকার সৎব্যবহার করা নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের-ই। শিক্ষার্থীদের অনুধাবন করা দরকার যাঁদের টাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ চলে তাঁরা চায় না বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে সারা বছর বিশৃঙ্খলা বিরাজ করুক।
সারাদিনের পরিশ্রম শেষে রাতের খাবার খেয়ে টিভির পর্দায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের আন্দোলন দেখতে কার-ই বা ভালো লাগবে। এ-সব খবর সাধারণের জন্য অপ্রত্যাশিত। মানুষ পত্রিকার পাতায় ছাত্রছাত্রীদের ভালো খবর খুঁজেন, আন্দোলনের খবর নয়। বাংলাদেশের মত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নানান আন্দোলন পৃথিবীর আর কোন দেশে কী হয়? হয়ত হয় না।
দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় প্রবাসজীবনে কোন দিন শুনিনি, দেখিনি মালয়েশিয়ার কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র আন্দোলন হয়েছে। মালয়েশিয়ায় এমন কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নেই যেখানে বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রী পড়ে না। তারাও কেউ বলতে পারবে না কখনো ছাত্র আন্দোলন দেখেছেন।
এক সময় বাংলাদেশে একদিনের হরতালে দেশ কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয় সে হিসেবে করা হতো। এখন হিসেব করা প্রয়োজন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনের কারণে একদিন পাঠদান বন্ধ থাকলে ছাত্রছাত্রীদের মোট কী পরিমাণ ক্ষতি হয় বা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট কী পরিমাণ ক্ষতি বা এই দেশের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়। খুব জানতে ইচ্ছে করে বাংলাদেশের সবচেয়ে শান্তশিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কোনটি।

x