দেশে দেশে বর্ষবরণ

বুধবার , ২ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৪:২৭ পূর্বাহ্ণ
48

২০১৮ সালকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছে পুরো বিশ্ব। বর্ষবরণে সবচেয়ে জমকালো আয়োজন করা হয় অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও নিউজিল্যান্ডে। বাংলাদেশ সময় সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় ঘড়ির কাঁটা রাত ১২টার ঘর স্পর্শ করে সিডনিতে। সঙ্গে সঙ্গে বর্ষবরণে মেতে ওঠেন সিডনিবাসী। হারবার ব্রিজে ১০ মিনিটের হরেক রঙের আতশবাজি আর জলধারা মানুষকে মাতিয়ে রাখে। আকাশে যেন তখন প্রজাপতি, অক্টোপাস আর ফুলের হাট।
শহরের প্রাণকেন্দ্র অপেরা হাউস ও হারবার ব্রিজ এলাকায় আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান, গণসঙ্গীত ও আতশবাজির মাধ্যমে বছরের শেষ সন্ধ্যায় নতুন বর্ষবরণের বিশাল আয়োজন করা হয়।রাত ১২টা বাজার ১০ সেকেন্ড আগে থেকেই শুরু হয় কাউনডাউন। এরপর অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সময় মধ্যরাত বারোটা এক মিনিটে শুরু হয় আতশবাজির মূল আয়োজন। শহরের সব মানুষ একত্রিত হয়ে এসময় রাস্তায় নেমে এসে উপভোগ করে আয়োজন। আর এ আয়োজন সাজানো হয় সবাই যেন পুরোপুরি দেখতে পারে ঠিক সেভাবে। অর্থ্যাৎ ৩৬০ ডিগ্রি এ্যাঙ্গেলে। জমকালো আতশবাজিতে বর্ষবরণমধ্যরাতের মাঝামাঝি ২২টি আকাশচুম্বী বাড়ির উপর থেকে প্রায় ১০ লক্ষ ডলারের আতশবাজি পোড়ানো হয়। রিও ডি জেনিরোর কোপাকাবানা সমুদ্র সৈকতে নববর্ষ উদযাপন করেছে ২০ লাখেরও বেশি মানুষ। ১৪ মিনিট ধরে আতশবাজির ঝলকানিতে ২০১৯ সালকে স্বাগত জানায় তারা। লন্ডনে বরাবরের মতোই বিগ বেন ঘড়িতে রাত ১২ টা ১ মিনিটের বেল বাজার সঙ্গে সঙ্গে নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছে ব্রিটিশরা। বিশ্ববিখ্যাত এ ঘড়িটি একটি সংস্কার প্রকল্পের আওতায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। তবে নববর্ষ উদযাপনের জন্য সমপ্রতি বিশেষ পদ্ধতিতে ঘড়িটি সচল করা হয়। যুক্তরাজ্যে বিগ বেন ঘড়ির বেল ছাড়া নববর্ষকে স্বাগত জানানোর কথা ভাবাই যায় না। যুক্তরাজ্যের টিভি ও রেডিও স্টেশনগুলোও পুরনো বছর থেকে নতুন বছরে পদার্পণের ক্ষণটিকে বোঝাতে বিগ বেনের বেলের শব্দকেই ব্যবহার করে থাকে। পুরনো বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে চ্যাম্পস-এলিসিস এলাকায় জড়ো হয় ফরাসি নাগরিক ও পর্যটকরা। সেখানে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। সরকারবিরোধী ইয়েলো ভেস্টস আন্দোলনকারীরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মধ্য দিয়ে নববর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেয়। উদযাপনের এলাকায় অ্যালকোহল গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা ও যানবাহন চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করে প্যারিস পুলিশ।
বার্লিনের ব্রান্দেনবার্গ গেট এলাকায় জড়ো হয়ে ২০১৯ সালকে স্বাগত জানিয়েছে লাখ লাখ মানুষ। বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে ছিল কড়া নিরাপত্তা। জার্মানির রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে মোতায়েন করা হয় প্রায় ১৩০০ নিরাপত্তা কর্মকর্তা।
অন্যান্য দেশের মতো থাইল্যান্ডেও আতশবাজির ঝলকানিতে নববর্ষকে বরণ করে নেওয়া হয়। পাশাপাশি সেখানকার অনেক মানুষ এদিন তাকিয়েন মন্দিরে ভীড় জমান। ব্যাংককে অবস্থিত এ মন্দিরের ভেতরে থাকা কফিনে শুয়ে ঐতিহ্যবাহী ‘শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে’ যোগ দেন তারা। চীনের মূল ভূখণ্ডে ইংরেজি নববর্ষ খুব একটা উদযাপিত হয় না। সেখানে ফেব্রুয়ারিতে লুনার নববর্ষকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। চীন, কোরিয়া, জাপানসহ গোটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পালন হয়ে থাকে লুনার নববর্ষ। তবে এরপরও সোমবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে চীনের বেশ কয়েকটি বড় শহরে পুরনো বছরকে বিদায় ও নববর্ষকে স্বাগত জানানো হয়েছে। নববর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে সাংহাইতে এদিন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ২০১৪ সালে সাংহাইতে নববর্ষ উদযাপনের সময় পদপিষ্ট হয়ে নিহত হয় ৩৬ জন।

x