দেশে আক্রান্ত বেড়ে ৩৩

চিকিৎসক-নার্সসহ নতুন শনাক্ত ৬ মৃত্যু আরো ১ জনের

আজাদী ডেস্ক

মঙ্গলবার , ২৪ মার্চ, ২০২০ at ৫:৩৩ পূর্বাহ্ণ
94

করোনাভাইরাসে দেশে নতুন করে আরও ৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। সব মিলিয়ে দেশে এখন করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩৩ জনে দাঁড়াল। আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন, এনিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৩ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে ৫ জন সুস্থ হয়ে ইতোমধ্যে হাসপাতাল ছেড়েছেন। রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) থেকে অনলাইন ব্রিফিংয়ে সংস্থার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, আমরা গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করিয়েছি। সর্বমোট ৬২০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এই মুহূর্তে আইসোলেশনে আছেন করোনা নিশ্চিত এবং সন্দেহজনকভাবে যাদের মধ্যে মনে করা হচ্ছে যে, করোনার উপস্থিতি থাকতে পারে অথবা যাদের মধ্যে লক্ষণ উপসর্গ রয়েছে এমন ৫১ জন, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৪৬ জন। নমুনা পরীক্ষায় করোনা আছে এমন সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা ৩৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত করেছি। এই ৬ জনের মধ্যে ১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। অর্থাৎ মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৩ জন এবং ৫ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। এদের মধ্যে আগেই ৩ জন সুস্থ হয়েছিলেন, নতুন আরো ২ জন গতকাল বাড়ি গেছেন। খবর বাসস ও বিডিনিউজের।
ডা. ফ্লোরা বলেন, নতুন যে ৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন, এদের ৩ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী। তাদের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৩০ থেকে ৪০ এর মধ্যে ২ জন, ৪০ থেকে ৫০ এর মধ্যে ১ জন, ষাটোর্ধ ২ জন, এরমধ্যে ১ জনের বয়স ৭০ বছরের উপরে। এদের ২ জন দেশের বাইরে থেকে এসেছেন, ভারত ও বাহরাইন থেকে। এদের ২ জনের মধ্যে অন্য দীর্ঘমেয়াদী রোগ ছিল। তিনি জানান, এই ৬ জনের মধ্যে ১ জন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। এ পর্যন্ত ১ জন চিকিৎসক ও ২ জন নার্সসহ মোট ৩ জন স্বাস্থ্যকর্মী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। ফ্লোরা জানান, ৩৩ জন করোনা আক্রান্তের মধ্যে দুই তৃতীয়াংশ পুরুষ এবং এক তৃতীয়াংশ নারী। ১০ বছর বয়সের নিচে আছে ২ জন, ১০ থেকে ২০ বছর বয়সের মধ্যে ১ জন, ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে ৯ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সের মধ্যে ৯ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সের মধ্যে ৫ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সের মধ্যে ১ জন এবং ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে ৬ জন। জেলাভিত্তিক আক্রান্তদের বিশ্লেষণে তিনি জানান, করোনা আক্রান্ত ৩৩ জনের মধ্যে ঢাকায় ১৫ জন, মাদারীপুরে ১০ জন, নারায়নগঞ্জে ৩ জন, গাইবান্ধায় ২ জন, কুমিল্লায় ১ জন, গাজীপুরে ১ জন এবং চুয়াডাঙ্গায় ১ জন। তিনি বলেন, সংক্রমণ পাওয়া গেছে এমন ৩৩ জনের মধ্যে ১৩ জন অন্য দেশ ভ্রমণ করে এসেছেন, বাকী ২০ জনই এদের মাধ্যমে কোন না কোনভাবে সংক্রমিত হয়েছেন। ১৩ জনের মধ্যে ইতালি থেকে ৬ জন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২ জন, ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকে ২ জন, বাহরাইন থেকে ১ জন, ভারত থেকে ১ জন এবং কুয়েত থেকে ১ জন। অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদী রোগ রয়েছে ১১ জনের মধ্যে। এদের মধ্যে বেশিরভাগের অবস্থা এখন পর্যন্ত স্থিতিশীল। কিডনি সমস্যা রয়েছে যে রোগীর তার এখনো ডায়ালাসিসের প্রয়োজন হচ্ছে। বাকীদের অবস্থা স্থিতিশীল।
চিকিৎসক আক্রান্ত, হাসপাতাল পরিচালক কোয়ারেন্টাইনে : এদিকে রাজধানীর টোলারবাগে কভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া বৃদ্ধকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া এক চিকিৎসক এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন; কোয়ারেন্টাইনে আছেন ওই হাসপাতালের পরিচালক। গত শনিবার টোলারবাগের ওই বৃদ্ধের মৃত্যুর পর তার চিকিৎসায় নিয়োজিত ওই হাসপাতালের চার চিকিৎসক, ১২ জন নার্স ও তিনজন কর্মীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছিল। তাদেরই একজন পরীক্ষায় ‘করোনাভাইরাস পজিটিভ’ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্ত ওই চিকিৎসক বর্তমানে উত্তরার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে আইসোলেশনে আছেন। গতকাল সোমবার তিনি বলেন, আইইডিসিআরে নমুনা পরীক্ষায় নভেল করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে। শরীর কিছুটা দুর্বল। এখনও শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন। অসুস্থ্য বোধ করায় রোববার থেকে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ডেল্টা হাসপাতালের পরিচালক ডা. বদিউজ্জামানও। গতকাল থেকে আমার কাছেও প্রবলেম মনে হচ্ছে। বাসায় আছি একেবারেই একা। কাউকে সঙ্গে রাখি নাই। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন।
টোলারবাগের বৃদ্ধকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া ওই চিকিৎসকের শারীরিক সমস্যা ধরা পড়ে শনিবার সকাল থেকে। রোববার দুপুরের দিকে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাকে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিনি ডেল্টা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক হিসেবে টোলারবাগের সত্তরোর্ধ্ব ওই বৃদ্ধকে চিকিৎসা দিয়েছিলেন। তার পরিবারের সদস্যরা এখনও হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। তবে রাতে টোলারবাগে ৭৬ বছর বয়সী আরেক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়, আগের দিন মারা যাওয়া বৃদ্ধের ঘনিষ্ঠজন ছিলেন।
পুলিশের দারুস সালাম জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মাহমুদা আফরোজ লাকী রোববার রাতে বলেন, দ্বিতীয় বৃদ্ধেরও করোনাভাইরাস পজিটিভ ছিল বলে আইইডিসিআর নিশ্চিত করেছে। তবে এ বিষয়ে আইডিসিআরের বক্তব্য জানা যায়নি।