দেশের মঞ্চ নাটকে চট্টগ্রামের জয়গান

বৃহস্পতিবার , ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৩:৫২ পূর্বাহ্ণ
17

বাংলাদেশের স্বাধীনতাত্তোর শিল্প সংস্কৃতির ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের উজ্জ্বল ইতিহাস ছাড়া বাংলাদেশের ইতিহাস লেখা যাবে না। বাংলাদেশের মঞ্চ নাটক মুক্তিযুদ্ধের শ্রেষ্ঠ শিল্প শষ্য। মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাট্যচর্চার ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের নাট্যাঙ্গণ ছিল অদ্বিতীয়। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ প্রতিটি পর্বেই রয়েছে চট্টগ্রামের বিদ্রোহী ভূমিকা। প্রতিবাদ প্রতিরোধ চেতনাই তার প্রধান বৈশিষ্ট।
বাংলাদেশের নাট্যচর্চায় চট্টগ্রাম স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল। মঞ্চনাটককে কেন্দ্র করে এখানে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন আয়োজনও দেখা যায়। প্রায় প্রতি মাসেই কোনো না কোনো আয়োজন লেগেই থাকে। ঢাকার পর ১৯৭৩ সালে চট্টগ্রামে গ্রুপ থিয়েটার চর্চা শুরু হয়। এর মধ্য দিয়ে বেশকিছু নাট্যদল উঠে আসে। বর্তমানে প্রায় ৩০টি নাট্যদল আছে চট্টগ্রামে। ইতিবাচক ব্যাপার হলো, এর মধ্যে অধিকাংশই সক্রিয়।
মঞ্চ নাটকের ক্ষেত্রে চট্টগ্রামে একটি বেগবানধারা কাজ করছে। এখানে তরুণ নাট্যকর্মীরা সৃজনশীল নাটক নির্মাণ ও নির্দেশনায় এগিয়ে এসেছে। সর্বাঙ্গীন বিবেচনায় বলা যায়, একটি গতিশীল নাট্যধারা বেগবান।
বন্দরনগরীতে নাট্যচর্চায় গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য অর্জন আছে বলেও মনে করেন নাট্যশিল্পীরা। পাশাপাশি দর্শকের অংশগ্রহণও বেড়েছে। নিয়মিত নাটক মঞ্চায়ন, উৎসব আয়োজন ও নাট্যকর্মীদের পদচারণায় মুখর চট্টগ্রামের শিল্পকলা একাডেমি, থিয়েটার ইনস্টিটিউট, স্টুডিও থিয়েটার তথা নাটকপাড়া।
বর্ষা মৌসুম ছাড়া এখানকার নাট্যচর্চা বেশ গতিশীল বলা চলে। উৎসব আয়োজনের দিক দিয়ে এখানকার নাট্যদলগুলো বেশ এগিয়ে। তিন বছর ধরে নাট্যচর্চায় নতুনমাত্রা যুক্ত হয়েছে। দেশ-বিদেশের অনেক দল ও নাট্যকর্মী এসেছেন চট্টগ্রামে। এসবই ইতিবাচক দিক। সংকটের জায়গা হলো, এখানে নতুন নাট্যকর্মী পাওয়া যায় না তেমন। আর পৃষ্ঠপোষকের অভাবও আছে। বড় পৃষ্ঠপোষক পাওয়া গেলে অনায়াসে বড় কাজ মঞ্চে নিয়ে আসা সম্ভব।
অসুবিধার জায়গা যে, এখানে মঞ্চকর্মীরা চাকরি বা পড়াশোনার পাশাপাশি নাটকে সময় দেন। এ ক্ষেত্রে তারা কোনো ন্যূনতম পারিশ্রমিক বা সম্মানী পান না। এভাবে কাজ করার ফলে এক সময় আগ্রহ হারিয়ে ফেলা স্বাভাবিক।
চট্টগ্রামে এখন নিয়মিত প্রযোজনা করছে তির্যক নাট্যদল, অরিন্দম, উত্তরাধিকার, স্বপ্নযাত্রী, গণায়ন, নান্দিকার, নান্দীমুখ, লোক থিয়েটার, মঞ্চমুকুট, কথক নাট্য সমপ্রদায়, কথক থিয়েটার প্রভৃতি নাট্যদল।
চট্টগ্রামে নাট্যচর্চায় সম্ভবনার অনেক দিক আছে। সংকট বলতে, এখানে মিলনায়তন পাওয়া যায় না। ছুটির দিনে চাপ থাকে বলে মিলনায়তন পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে। মঞ্চের সংখ্যা বাড়ানো গেলে নাটক চর্চায়ও গতি আসবে। নাট্যকর্মীরা জানান, চট্টগ্রামের নাট্যচর্চা শুরু থেকে তারুণ্য নির্ভর। এখনও চট্টগ্রামের আশি ভাগ নাট্যকর্মীই তরুণ। তারুণ্যের এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে থিয়েটারে নতুন নতুন ভাবনা ও নিরীক্ষা চলছে।
চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাট্যজন সাইফুল আলম বাবু আজাদীকে বলেন, আগের চেয়ে চট্টগ্রামে নাট্যচর্চার বিকাশ ঘটছে বেশি। অনেকগুলো নাট্যদল নিয়মিতভাবে নতুন নতুন নাটক মঞ্চে আনছে। এ বছরে ৮ টি নতুন নাটক মঞ্চে এসেছে, আরো কয়েকটির মহড়া চলছে। বেশ কিছু দল নাট্য উৎসবও করেছে তাদের প্রযোজিত নাটকগুলো দিয়ে। নতুন নতুন নাট্যকর্মীও বিভিন্ন দলের সাথে যুক্ত হচ্ছে। গত কয়েক মাসে বাংলাদেশ টেলিভিশন , চট্টগ্রাম কেন্দ্র নাট্য দলগুলোর চাহিদার কারণে মিল্পকলায় এবং থিয়েটার ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে বিভিন্ন দলের মঞ্চ নাটকগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে ধারণ করছে। এটি চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো বাস্তবায়ন হলো। বর্ষার পর আরো কিছু নতুন নাটক নিয়মিতভাবে মঞ্চায়নের জন্য কাজ চলছে।

x