দেশজুড়ে পাহাড়ি শাক-সবজির কদর বাড়ছে

সমির মল্লিক : খাগড়াছড়ি

সোমবার , ১৩ জানুয়ারি, ২০২০ at ৫:৩৯ পূর্বাহ্ণ
30

দেশের পরিচিত ও প্রচলিত শাক-সবজির পাশাপাশি পাহাড়ের উৎপাদিত শাক সবজির কদর বেশি। এতে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পাহাড়ে ও সমতলে দিন দিন কদর বাড়তে শুরু করেছে পাহাড়ে উৎপাদিত শাক-সবজির। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চলে মৌসুমী পাহাড়ি তরি-তরকারি ও শাক-সবজির ছোট ছোট হাট-বাজারও গড়ে উঠেছে ।
এসব হাট-বাজারে পাহাড়ের শাক-সবজির যোগান যাচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা থেকে। সবচেয়ে বেশি শাক-সবজির রপ্তানি হয় খাগড়াছড়ি জেলা থেকে। জেলা শহরের প্রধান প্রধান হাট বাজার বিশেষ করে সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ও সোমবার ছাড়াও উপজেলার হাট বাজারগুলো থেকেও প্রায় প্রতিদিন পাহাড়ের শাক-সবজি জেলার বাইরে রপ্তানি হচ্ছে।
মূলত উপজাতীয় ব্যবসায়ী এসব শাক-সবজি কলাপাতা মুড়িয়ে বস্তা ও কার্টনে ভরে ট্রাকে করে চালান করছে ঢাকা ও চট্টগ্রামে । উপজাতীয় পাইকারী সবজি ব্যবসায়ীদের একাধিক গ্রুপ এসব সবজি কিনে নিয়ে বাজারজাত ও গুদামজাত করছে। পরবর্তীতে চট্টগ্রামের উপজাতীয় অধ্যুষিত আবাসিক এলাকা সদরঘাট, পাথরঘাটা, ষোলশহর, নাসিরাবাদ,হালিশহর, ফ্রি-পোর্ট, ও ইপিজেড এবং রাজধানী ঢাকার মিরপুর, কমলাপুর ও মগবাজার এলাকার স্থানীয় বাজারে তোলা হয়।
উপজাতীয়দের কাছে বেশ ভালো দাম্‌েই বিক্রি হয় পাহাড়ের শাক-সবজি। সমতলে রপ্তানি হওয়া শাক- সবজির মধ্যে রয়েছে পাহাড়ি ধানি মরিচ, মোয়া আলু, খৈয়াং আলু,সীম আলু, কাসাবা, সাবারাং,খুসী, রাম কলার মোচা, কলাগাছের বাকল, পাহাড়ি কচু, মেছতা(আমিলা) শাক,মেছতা গোটা, কাঁঠালের মুচি, বাঁশের মুথা বা করুল, পুতি বেগুন,খনাগুলা, পাহাড়ি বরবটি, কাঁচা তেঁতুল, ঢেঁকিশাক,থানকুনি পাতা, তেলাকুচি শাক, নানা জাতের ঔল,মাশরুম,রায় শাক, মুলার ঢেক ও কাঁচা বিচি, পেয়ারা ও আম গাছের কচি পাতা ইত্যাদি।
পাহাড়ি সবজি ব্যবসায়ী নিখিল চাকমা ও পলাশ চাকমা জানান , খাগড়াছড়ি জেলা থেকেই কমপক্ষে ৫০ থেকে ৬০ টন অর্থাৎ বছরে ৬শ থেকে ৭শ টন কাঁচা শাক-সবজি রপ্তানি হচ্ছে। পাহাড়ি শাক সবজির ব্যবসা করে আমরা বেশ লাভবান হচ্ছি। স্থানীয় উৎপাদনকারীরাও বাণিজ্যিক চিন্তায় এখন দ্বিগুণ উৎসাহে পাহাড়ে পাহাড়ে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার ছাড়াই মিশ্র শাক-সবজি চাষে উৎসাহিত হচ্ছে। ফলে এর বাজার দিন দিন বড় হচ্ছে। সমতলের বাসিন্দাদের কাছে এসব সবজি সম্পূর্ণ অপরিচিত। ভোক্তা মূলত সমতলে চাকরিসূত্রে বসবাসরত পাহাড়িরা। তবে ইদানীং সমতলের বাঙালিদেরও আগ্রহ দেখা দিয়েছে। ফলে এর চাহিদা ও মূল্য ক্রমশঃ বাড়ছে।
স্থানীয় জুমচাষী ও মৌসুমী সবজি বিক্রেতা হেমন্ত ত্রিপুরা,নবীন ত্রিপুরা,সুনীল চাকমা জানান, ‘ পরিবারের প্রয়োজনে বসত ভিটায় ও জুমের মিশ্র চাষে শাক-সবজির আবাদ করতাম। গত দুই বছর ধরে দেখছি এক শ্রেণির উপজাতীয় ব্যবসায়ী এসব সবজি কিনে নিয়ে ট্রাকে বোঝাই করে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পাঠাচ্ছে। আমরা এতে উৎসাহিত হয়ে চাষাবাদ বাড়িয়েছি। দামও পাচ্ছি।
খাগড়াছড়ি সদর ও মাটিরাঙ্গা উপজেলার উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল হাই ও দেবর্শী চাকমা জানান, দেশের পরিচিত শাক-সবজির পাশাপাশি পাহাড় অঞ্চলে জুম চাষীদের উৎপাদিত এমন কিছু কৃষিপণ্য রয়েছে যার চাহিদা এখন ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায়ও এসব কৃষিপণ্য বাইরে চালান বা রপ্তানির চিত্র প্রায়ই চোখে পড়ছে। অথচ মাঠ পর্যায়ে সরকারিভাবে এসব কৃষি পণ্যের প্রদর্শনীর কোন ব্যবস্থাও নেই। বিপণন ব্যবস্থা সহজতর হলে চাষীরা আরো লাভবান হতে পারত।