দেখা হবে বন্ধু

রেজাউল করিম

শনিবার , ২৩ নভেম্বর, ২০১৯ at ৩:৪৭ পূর্বাহ্ণ
76

মউর দোয়ান, আঁই কিত্তাম, থামলে ভালো লাগে, ঢেলে দিই, চাইয়া গুতা খাইবা, ভাইনার দোয়ান, কেনে চলর, পান ক্যাসিনো, উনি এখন বাকি খান, কথা ঠিক না বেঠিক, এক্কানা বইয়ু, বুঝ পাইছেন, কথা কিন্তু সত্য-এগুলো সব স্টলের নাম। চট্টগ্রামের ভাষা, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিত দোকানগুলোর নামে স্টলের নামকরণ করা হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের ১ম মিলন মেলা আয়োজন ছিল বর্ণাঢ্য। নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে সকাল থেকে চবিয়ানরা ফিরে গিয়েছিল তাদের প্রিয় ক্যাম্পাসে। শাটল ট্রেনের রেপ্লিকা, বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন সবই অনুষ্ঠানস্থলে ছিল। কারো সাথে দুই দশক পর দেখা। অনেকে এসেছে দেশের বাইরে থেকে, কেউবা এসেছে দেশের নানা প্রান্ত থেকে। ১ম থেকে ৪৯ তম ব্যাচ মিলেমিশে গেছে এক ঠিকানায়। তারপরও ব্যাচভিত্তিক আড্ডা, স্মৃতিচারণ, গানের তালে হৈ-হুল্লোড় চিরযুবা যেন। ঢাকা থেকে আসা ২৬ তম ব্যাচের লুবনা কাকলীকে জড়িয়ে ধরে বলল-ভার্সিটি ছাড়ার পর এই দেখা। বন্ধু কেমন আছিস। তাদের সাথে মিলিত হলো অনেকে।
‘এই মুখরিত জীবনের চলার বাঁকে/ অজানা হাজার কত কাজের ভিড়ে/ ছোট্টবেলার ৎশত রঙ করা মুখ/ সুর তোলে আজো এই মনকে ঘিরে/ এই মুখরিত জীবনের চলার বাঁকে/ অজানা হাজার কত কাজের ভিড়ে/ ছোট্টবেলার শত রঙ করা মুখ/ সুর তোলে আজো এই মনকে ঘিরে/ ঝিনুক শামুকে ভরা বালুর চরে/ ঢেউয়ের সাথে নেচেছি/ রঙিন স্বপ্নে গাঁথা স্মৃতির মালা/ সৈকতে ফেলে এসেছি/ ঝিনুক শামুকে ভরা বালুর চরে/ ঢেউয়ের সাথে নেচেছি।’ শাটল ট্রেনের ছবির গানে প্রাক্তনীরা নষ্টালজিক হয়ে পড়ে। তখন মনে পড়ে গেল প্রয়াত নির্মাতা সাজ্জাদ হোসেন উপলের কাহিনি চিত্র শাটল ট্রেন। ১৯৯৬ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে এটি রিলিজ হয়। চট্টগ্রাম চলচ্চিত্র কেন্দ্র থেকে নির্মিত ১ম ছবি। ২৩ মিনিটের কাহিনি চিত্র। আর উপল তখন ছিলেন চবি ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র। বিষয়টি এখন বিস্মৃত।
প্রাক্তনীরা কখনও স্লোগান, কোরাস করে ফিরে যেতে চায় ক্যাম্পাসে। শাটল ট্রেনের র‌্যাপ্লিকায় ছবি তোলার জন্য যেন প্রতিযোগিতা লেগে যায়। প্যারোডি ছিল আরেক প্রাণ উৎসবের। নৃত্য, গীতে বয়স কোনো বাধা ছিল না। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের দায়িত্বে ছিলেন শামীমা হারুন লুবনা। ১৪ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নকীব খান সকলকে মাতিয়ে রাখেন। ব্যাচের কোনো বালাই ছিল না-দিন যত গড়িয়ে যায়। মেয়ে আর বাপের এক মঞ্চে সংগীত পরিবেশনা, হৈ হুল্লোড়ে মেতে থাকার মাধ্যমে জানান দেয় বয়স কোনো বাধা নয়। চলো বন্ধু নৌকা ভিড়াই আমরা সবাই আজ রাজা। রাত যত গভীর হয় বেজে উঠে বিষাদের ছায়া। আবার হবে তো দেখা, এই দেখা শেষ দেখা নয়। তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ আগামীবার পুনমির্লনী ক্যাম্পাসে আয়োজনের চেষ্টা থাকবে। তখন প্রায় সকলে সোচ্চার কণ্ঠে সমর্থন জানায়। দুদিনের উৎসবে একসময় করুণ সুর বেজে উঠে। দেখা হবে বন্ধু কারণে আর অকারণে/ দেখা হবে বন্ধু চাপা কোনো অভিমানে/ দেখা হবে বন্ধু সাময়িক বৈরিতায় অস্থির অপাগরতায়/ দেখা হবে বন্ধু কারণে আর অকারণে।’

x