দেওয়ান হাট সিএসডি পরিদর্শন তদন্ত কমিটির

পচা ও পোকাযুক্ত চাল

আজাদী প্রতিবেদন

শুক্রবার , ২৫ অক্টোবর, ২০১৯ at ৫:২৪ পূর্বাহ্ণ
64

পচা ও পোকাযুক্ত চাল পাওয়ার অভিযোগ তদন্তে আসা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত টিম দেওয়ান হাট সিএসডি (সেন্ট্রাল স্টোরেজ ডিপো) পরিদর্শন করেছেন। গতকাল (বৃহস্পতিবার) দুপুরের পর তদন্ত দল দেওয়াট সিএসডি পরিদর্শনে আসেন। তারা প্রথমে সিলগালা করা দুইটি গুদাম পরিদর্শন ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করে খাদ্যশস্যের মান ভাল থাকায় খুলে দেন। এরপর মধ্যাহ্নভোজনের পর বিকেলে আরো দুটি গুদামের খাদ্যশস্য পরীক্ষা করে। শস্যের মান সন্তোষজনক থাকায় গুদাম দুটিও খুলে দেন তারা। আজ শুক্রবারও তদন্ত দল দেওয়ান হাট সিএসডিতে তাদের অনুসন্ধান কার্যক্রম চালাবেন বলে জানা গেছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার বিকেলে দেওয়ান হাট সিএসডি পরিদর্শনকালে নিম্নমানের খাদ্যশস্য মজুদ ও গুদামে পোকা-মাকড়ের প্রাদুর্ভাবের কারণে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের নির্দেশে ১০টি গুদাম সিলগালা করে দেওয়া হয়। পরের দিন বুধবার ঘটনাটি তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আইন সেলের অতিরিক্ত সচিব খাজা আবদুল হান্নানকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটিতে খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান, উপ-পরিচালক আলমগীর কবির, চট্টগ্রাম অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কামাল উদ্দিন ও খাদ্য অধিদপ্তরের আঞ্চলিক রসায়নবিদ রফিকুল ইসলামকে সদস্য করা হয়েছে। কমিটিকে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মাহবুবুর রহমান বৃহস্পতিবার রাতে দৈনিক আজাদীকে বলেন, মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার দেওয়ান হাট সিএসডি পরিদর্শন করেছেন। এদিন তারা চারটি গুদামের চাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। তদন্তে চালের মান ভাল পাওয়া পেয়েছেন তদন্ত কমিটি। যে চারটি গুদামের চাল পরীক্ষা করা হয়েছে সেই চারটি গুদাম খুলে দিয়েছেন তদন্ত কমিটি। শুক্রবারও তদন্ত কমিটি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন বলে তিনি জানান।
দেওয়ান হাট সিএসডি সূত্রে জানা গেছে, দেওয়ান হাট সিএসডিকে সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ৮৫০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ৬৩টি গুদাম রয়েছে। মঙ্গলবার খাদ্য মন্ত্রীর নির্দেশে ৮, ২৫, ২৬, ২৭, ৪২, ৪৮, ৪৯, ৫৮, ৬২, ৬৩নং গুদাম সিলগালা করা হয়। এসব গুদামে ব্রাক্ষণবাড়িয়া, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জসহ আশপাশের খাদ্যগুদাম থেকে চাল আসে দেওয়ান হাট সিএসডিতে।
সংশ্লিষ্ট অনেকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে সংগ্রহকৃত চাল চট্টগ্রামের দেওয়ান হাট ও হালিশহর সিএসডিতে আসে। উত্তরাঞ্চলের চাল সরবরাহকারী সিন্ডিকেটের সাথে যোগসাজশ করে নিম্নমানের চাল গুদামজাত হয় চট্টগ্রামে। খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে খাদ্য সংগ্রহ মৌসুমগুলোতে চাল সরবরাহ সিন্ডিকেট নিম্নমানের চাল সরবরাহ করে। আবার আগের মৌসুমে সরকারি বিভিন্ন খাতে বিতরণ করা চাল খাদ্য বিভাগের কতিপয় ঠিকাদার ও মিল মালিক সিন্ডিকেট কিনে নেয়। প্রথমে খাদ্যশস্যের ডিও কিনে নিলেও খাদ্যবিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ওইসব গুদাম থেকে খাদ্য ডেলিভারি নেওয়া হয় না। পরবর্তী মৌসুমে ওইসব চালই সংগ্রহ করা হয়েছে দেখিয়ে সিএসডির মজুদ দেখানো হয়। দেওয়ানহাট সিএসডিকে পচা ও পোকা আক্রান্ত খাদ্যশস্যের বিষয়ে জানতে চাইলে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, যদি কেউ পুরাতন চাল কিনে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে খাদ্য সংরক্ষণের পরিবেশের বিষয়ও দেখতে হবে। পরিবেশের কারণে চাল নষ্ট হয়েছে, নাকি কারো ইচ্ছেমাফিক কাজের কারণে পোকা ধরেছে তা আমরা খতিয়ে দেখছি। ইচ্ছেকৃত হলে যারা জড়িত তারা শাস্তি পাবেন। মঙ্গলবার ১০টি গোডাউন আমরা দেখতে চেয়েছি। তন্মধ্যে চারটি আমরা পরিদর্শন করেছি। পচা ও পোকাযুক্ত চাল পেয়েছি। এ কারণে ১০টি গোডাউনই সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্তে ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছি। এ ব্যাপারে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. নাজমানারা খানুম বুধবার সংবাদমাধ্যমকে জানান, আমরা ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছি। তদন্ত প্রতিবেদনে কারো গাফিলতি পাওয়া গেলে শৃংখলা আপিল বিধিমালা মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

x