দৃষ্টির মানবাধিকার বিতর্ক প্রতিযোগিতা

মঙ্গলবার , ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৪:৫৫ পূর্বাহ্ণ

শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তন যেন মিনি জাতিসংঘ। এক একজন বিতার্কিক প্রতিনিধিত্ব করছেন এক একটি দেশের। কেউ ভারত, কেউ চীন কিংবা ইউএসএ বা রাশিয়া। ছিল বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইউকে এবং জার্মানিসহ আরো অনেক দেশের প্রতিনিধিরা। বিতর্ক চলেছে ‘শরণার্থীদের মানবাধিকার রক্ষায় জাতিসংঘের ভূমিকা পর্যাপ্ত নয়’ এই বিষয় নিয়ে। জাতিসংঘ মডেল বিতর্কের মহাসচিব বিষয় উত্থাপন করে ‘এ মুহুর্তে শরণার্থীদের মানবিক সাহায্যে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র সমূহের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে দৃষ্টি চট্টগ্রামের আয়োজনে মানবাধিকার দিবস বিতর্র্ক গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী চবির বিতার্কিক সাঈদ বিন মহিউদ্দিন শ্রেষ্ঠ প্রতিনিধি নিবার্চিত হন। সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্বকারী চুয়েটের বিতার্কিক সৌম্য সরাজ অসাধারণ প্রতিনিধি ও বিশেষ সম্মান সূচক প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন চবির অভিষেক দত্ত।
আলোচনায় বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা একমত হন যে, শরণার্থীদের তাদের নিজেদের দেশের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রত্যেকটি দেশকে আরো তৎপর হতে হবে। শরণার্থীদের যাতে মানবেতর জীবন যপন করতে না হয় সেজন্য আরো বরাদ্দ বাড়ানো উচিত।
ছায়া জাতিসংঘ অধিবেশন শেষে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সনদ ও পুরস্কার বিতরণ করেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও দৃষ্টির প্রধান উপদেষ্টা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিএমপির উপ কমিশনার (উত্তর) বিজয় বসাক। দৃষ্টি সভাপতি মাসুুদ বকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন, সহ সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সাবের শাহ, যুগ্ম সম্পাদক সাইফুদ্দিন মুন্না, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আরফাত, আযোজনের মহাসচিব রিদোয়ান আলম আদনান, উপ মহাসচিব মুন্না মজুমদার, সহ সম্পাদক অনির্বাণ বড়ুয়া ও সমন্বয়কারী তানভির আল জাবের।
প্রধান অতিথি বলেন, প্রতিটি রাষ্ট্রে বিভিন্নভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। উন্নত দেশগুলো চাইলে এই ব্যাপারে ত্বরিত সিদ্ধান্ত নিয়ে মানবাধিকার লংঘনকারী দেশকে বাধ্য করতে পারত। সব দেশকে সম্মিলিত প্রচেষ্টা করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে আর কোন শরণার্থী তৈরি না হয়।
বিশেষ অতিথি বলেন, তরুণ বিতার্কিকরা যেভাবে জাতিসংঘ মডেল বিতর্কে আজ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করলো একদিন তারা একদিন বিশ্ব সভায়ও বাংলাদেশকে এভাবে দক্ষতার সাথে প্রতিনিধিত্ব করতে সমর্থ হবে। বিতর্কে কেউ পরাজিত হয় না, জয় পরাজয়ের বিভেদ ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশকে ভালোবাসতে হবে। এখানেই মানুষ হিসেবে আমাদের সার্থকতা।
এই বিতর্ক আযোজনে চট্টগ্রামের ১৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিতার্কিকরা অংশগ্রহণ করে। বিতর্কে বিচারক ছিলেন সাবের শাহ, শহিদুল ইসলাম, সাইফুদ্দিন মুন্না, কাজী আরফাত, রবিউল হোসেন চৌধুরী। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

x