দুর্ভোগের শেষ কবে

পোর্ট কানেকটিং ও আগ্রাবাদ এক্সেস রোড

ইকবাল হোসেন

বুধবার , ২৬ জুন, ২০১৯ at ৬:১২ পূর্বাহ্ণ
1098

নগরীর গুরুত্বপূর্ণ দুটি সড়ক পোর্ট কানেকটিং রোড ও আগ্রাবাদ এক্সেস রোড। এই দুটি সড়ক নিয়ে দুঃখের শেষ এখনো হয়নি। এই আষাঢ় মাসেও সড়কে ধুলোর রাজ্য। আর দখল তো আছেই। দখল, ধুলোয় নিত্য দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মানুষকে। সম্প্রতি পোর্ট কানেকটিং রোডের নাম ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সড়ক’ করার সিদ্ধান্ত নেয় সিটি কর্পোরেশন। তবে নির্ধারিত সময়ে এ রোডের উন্নয়ন কাজ শেষ করার কথা দিয়েও রাখতে ব্যর্থ হয়েছে চসিক।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, সিটি গভর্ন্যান্স প্রজেক্টের (ব্যাচ-২) আওতায় জাপানি সাহায্য সংস্থা জাইকার অর্থায়নে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নিমতলা থেকে অলংকার মোড় পর্যন্ত পোর্ট কানেকটিং রোডে ৫ দশমিক ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১২০ ফুট প্রস্থের সড়ক এবং আগ্রাবাদ এক্সেস রোডে ৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ২ দশমিক ২০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করছে সিটি কর্পোরেশন। ২০১৭ সালের ২০ নভেম্বর সড়ক দুটির উন্নয়ন কাজ শুরু হয়।
চসিকের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পোর্ট কানেকটিং রোডের কাজটি ৫টি প্যাকেজে করা হচ্ছে। নিমতলা থেকে রেলওয়ে স্কুল পুল এবং রেলওয়ে স্কুল পুল থেকে আনন্দিপুর গেট পর্যন্ত দুই প্যাকেজে প্রায় ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার সড়কের কাজ শেষ পর্যায়ে। আজ বুধবার আনন্দিপুর থেকে সরাইপাড়া মাজার পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার কাজ উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। অবশিষ্ট এক কিলোমিটার সড়কের প্রস্তাবনা জাইকার কাছে পাঠানো হয়েছে। জাইকা থেকে অনুমোদন পেলে ওই অংশের কাজ শুরুর কথা জানিয়েছে চসিক।
চসিকের প্রকৌশল বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার জাহান দৈনিক আজাদীকে জানান, প্রথম দুই প্যাকেজের কাজ প্রায় ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে। নিমতলা ট্রাক টার্মিনালসহ আশপাশে কিছু কাজ ও ডিভাইডারের কাজ এখনো বাকি রয়েছে। এই দুই প্যাকেজের মেয়াদ ছিল গত মে পর্যন্ত। এখন আগামী আগস্ট পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সাগরিকা মোড় থেকে সরাইপাড়ার দিকে যেতে চোখে পড়ে দুর্ভোগের চিত্র। মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে সড়কটি দিয়ে চলাচল করছে যাত্রী ও পণ্যবাহী গাড়ি। বন্দরগামী ভারী ট্রাক, ট্রেইলার, কাভার্ডভ্যানগুলো খানাখন্দে ভরা সড়কটি দিয়ে চলাচল করছে। সাগরিকা মোড় থেকে নয়াবাজার পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার এলাকায় ভারী যানবাহন ও ভারী যন্ত্রপাতি রেখে সড়কের দুই পাশের বেশিরভাগ দখল করে রাখা হয়েছে। সংকুচিত হওয়ায় দুর্ঘটনাপ্রবণ হয়ে পড়েছে সড়কটি। তার ওপর ধুলোর কারণে পথচারী ও গাড়ির যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এদিকে, সড়কের নয়াবাজার থেকে নিমতলা পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে বেশিরভাগ কার্পেটিং হলেও এখনো ডিভাইডারের কাজ হয়নি। দুয়েকটি অংশে সড়ক উন্নয়নও হয়নি। বিশেষ করে নিমতলা ট্রাক টার্মিনালের সামনে উঁচু-নিচু হয় পড়েছে সড়কটি।
সরাইপাড়া এলাকার ট্রাক গ্যারেজের মেকানিক জামাল উদ্দিন বলেন, গত কয়েক বছর ধরে কষ্টে আছে এখানকার বাসিন্দারা। বর্ষায় খানাখন্দ আর শুকনো মৌসুমে ধুলোর কারণে বাইরে বের হওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে। এছাড়া প্রভাবশালীরা রাস্তায় গাড়ি ও বড় বড় যন্ত্র রেখে বছরের পর বছর দখল করে রেখেছে।
১১ নং রোডের লুসাই পরিবহনের বাস চালক সুমন হাওলাদার বলেন, সাগরিকা থেকে নিমতলা পর্যন্ত পুরো সড়কই চলাচল অনুপযোগী। খানাখন্দের কারণে প্রায় সময় কোনো না কোনো গাড়ির যন্ত্রাংশ ভেঙে যায়। কিছু রাস্তায় কার্পেটিং হলেও কাদাপানির জন্য গাড়ি চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নিমতলা ট্রাক টার্মিনালের সামনে দিয়ে গাড়ি নিয়ে যেতে গায়ে কাঁপুনি ধরে।
চসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম আজাদীকে জানান, বর্ষার কারণে কার্পেটিং কাজ করতে সমস্যা হয়। তবে আমরা নয়াবাজার থেকে পূর্ব অংশের কাজ শেষ করে ফেলেছি। কিছু কার্পেটিং কাজ রয়েছে, যা দুয়েকদিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। তবে নয়াবাজার থেকে পশ্চিম অংশের একটি প্যাকেজের কাজ কাল (বুধবার) উদ্বোধন হবে। পুরো প্রকল্পটি জাইকার কনসালটেন্টরা মনিটরিং করছেন।

x