দুর্নীতি নির্মূলে প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়তা প্রশংসাযোগ্য

বৃহস্পতিবার , ৯ জানুয়ারি, ২০২০ at ৫:০৯ পূর্বাহ্ণ

টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত আওয়ামী লীগ। আর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন বঙ্গবন্ধুুকন্যা শেখ হাসিনা, যিনি ক্ষমতাসীন দলটিরও শীর্ষ ব্যক্তি। তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর এক বছর কেটে গেছে। এ উপলক্ষ্যে গত ৬ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জনগণকে তাঁর ওপরে ভরসা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তিনি নিজে জনগণেরই একজন হয়ে থাকতে চান। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিওতে একযোগে সমপ্রচার করা হয়।
তিনি বলেন, ‘গত বছর সরকার গঠনের পর জাতির উদ্দেশে ভাষণে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের শোধরানোর আহ্বান জানিয়েছিলাম। আমি সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করি। মানুষের কল্যাণের জন্য আমি যেকোনো পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করব না।’ তিনি আরও বলেন, ‘দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে। আবারও সবাইকে সতর্ক করে দিতে চাই, দুর্নীতিবাজ যে-ই হোক, যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি আহ্বান থাকবে, যে-ই অবৈধ সম্পদ অর্জনের সঙ্গে জড়িত থাকুক, তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসুন। সাধারণ মানুষের “হক” যাতে কেউ কেড়ে নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সমপ্রসারণের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি নির্মূল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানুষ সচেতন হলে দুর্নীতি আপনা-আপনি কমে যাবে।’
আমরা জানি, বিশ্বের নারী নেত্রীদের মধ্যে যারা সবচেয়ে বেশি দিন সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, মেয়াদের দিক দিয়ে তাঁদের কাতারে শেখ হাসিনার অবস্থান তৃতীয়। শ্রীলঙ্কার প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সিরিমাভো বন্দরনায়েকে আধুনিক বিশ্বের প্রথম নারী সরকারপ্রধান ছিলেন। শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি তিন দফায় ১৭ বছর ২০৮ দিন দায়িত্ব পালন করেন। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ইন্দিরা গান্ধী ভারতের প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র নারী প্রধানমন্ত্রী। ঘাতকের হাতে নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত দুই দফায় মোট ১৬ বছর ১৫ দিন তিনি ভারত সরকারের নেতৃত্ব দিয়েছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা তিন দফায় ১৫ বছর দায়িত্ব পালনের পর বর্তমানে চতুর্থ মেয়াদে আরো পাঁচ বছরের জন্য সরকারে আছেন। এই মেয়াদ পুরো হলে সবাইকে ছাড়িয়ে যাবেন তিনি। সেই দিক দিয়ে আধুনিক গণতান্ত্রিক বিশ্বের নারী রাষ্ট্রনেতাদের মধ্যে অত্যন্ত সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমরা তাঁকে অভিনন্দন জানাই।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি যে হুঁশিয়ারি পুনর্ব্যক্ত করেছেন, তা শুধু তাৎপর্যমণ্ডিত নয়, সময়োপযোগীও। বিশ্বের সব দেশেই দুর্নীতি রয়েছে। ঔপনিবেশিক আমলে তাকালেও আমরা দুর্নীতি দেখতে পাবো। কিন্তু বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে, দুর্নীতির বিষয়ে সব ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স। আর এটা বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের সার্বিক উন্নয়নে সব প্রতিবন্ধকতা দূর হবে। বর্তমানে আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে উন্নত দেশের কাতারে যেতে খুব বেশি দেরি নেই। এমন সময়ে আমাদের নিজেদেরই সমাজের বৈষম্য দূরীকরণে, সুখী-সমৃদ্ধশালী জীবনের লক্ষ্যে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার জন্য নতুন নতুন সম্পদ সৃষ্টি করতে হবে। আমাদের দেশের দক্ষ জনশক্তি বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত রয়েছে। দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স থাকলে এবং দেশের বাইরে অর্থ পাচার না হলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত নিঃসন্দেহে।
প্রধানমন্ত্রী যেভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তাতে আমরা আশান্বিত হতে পারি। সরকার প্রধান এমন কঠোর ও দৃঢ়চেতা হলে যে কেউ ভয় পেতে বাধ্য। দেশ ও জনগণের সর্বাধিক কল্যাণ এবং চূড়ান্ত অনিষ্ট করার সামর্থ্য বা ক্ষমতা রয়েছে রাজনীতি ও রাজনীতিকদের। কোনো দেশের রাজনীতি যদি হয় নীতিহীন ও পচনগ্রস্ত; তবে সে দেশটির অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও সেই সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। একইভাবে, কিছু কিছু সীমাবদ্ধতার পরও, রাষ্ট্র পরিচালনব্যবস্থা হিসেবে পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত গণতন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই। দায়িত্বশীলতা যার প্রধান ও অপরিহার্য শর্ত। জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে সেই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন।

x