দুর্ঘটনা রোধে বিশ্ব সংস্থার উদ্যোগ প্রশংসনীয়

শনিবার , ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ at ৪:৫৮ পূর্বাহ্ণ
22

বিশ্বে এমন কোন দেশ নেই যেখানে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে না। আমাদের দেশ বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। এমন দিন থাকে না যে দিন সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনায় জানমালের ক্ষতি হয় না। প্রকৃতপক্ষে সারা বিশ্বই মর্মান্তিক সড়ক-মহাসড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে সম্পদ আর অকালে প্রাণহানির মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মোকাবেলা করে যাচ্ছে। সঙ্গত কারণেই দেশের এই অভ্যন্তরীণ বিষয়টিকে সীমাবদ্ধ না রেখে বিশ্ব পরিসরেও এর সমাধানের প্রচেষ্টা অনুসন্ধান করা হচ্ছে। জাতীয় অর্থনীতির সম্ভাব্য ক্ষতির আশংকাকে আমলে নিয়ে এর প্রতিকারে বিশ্ব সংস্থার উদ্যোগও লক্ষ্যণীয়। বিশ্বব্যাংক এবং জাতিসংঘের যৌথ কর্মপরিকল্পনায় এই আতঙ্কিত বিষয়টিকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে এক জনবান্ধব সভার আয়োজন করা হয়। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংকের কার্যালয়ে এক সমন্বিত জাতীয় অর্থনীতির ক্ষতির পরিমাণকেও সামনে আনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রতি বছর জিডিপির ৩ থেকে ৫ শতাংশ ক্ষতি হয় সড়ক দুর্ঘটনার কারণে। তথ্যটি উপস্থাপন করেন বিশ্ব ব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়ার ভাইস চেয়ারম্যান হার্টউইগ স্কেফার। যৌথ এই অনুষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তায় সৃজনশীল উদ্ভাবনের জন্য পাঁচটি টিমকে পুরস্কার দেয় বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘ। বিশিষ্টজনেরা এই অভিমত ব্যক্ত করেন যে বাংলাদেশকে অতি আবশ্যিক বিবেচনায় প্রতিদিনের সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে তীক্ষ্ণ নজরদারি শুরু করা জরুরি। আর এখন থেকেই শুরু হবে দক্ষিণ এশিয়ার সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর নতুন উদাহরণ। যা দুর্ঘটনা কবলিত অনেক দেশকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিতও করবে।
সে ক্ষেত্রে সড়ক পরিবহন আইন থেকে শুরু করে ব্যক্তিক নিরাপত্তা ও সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার, সংকেত অনুযায়ী জেব্রাক্রসিংয়ের মধ্য দিয়ে রাস্তার এপার থেকে ওপার যাওয়া, মোটরযানের নির্ধারিত গতি অনুসরণ করা অর্থাৎ যথাযথভাবে ট্রাফিক আইন মেনে চলা। আমাদের দেশে সাধারণত বেশিরভাগ মানুষ ট্রাফিক আইন মেনে চলতে চান না। এটা যে ইচ্ছাকৃত তা নয় ট্রাফিক আইনটা কি ও কেন? এ বিষয়টি সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে গ্রাম্য মানুষ ট্রাফিক আইনের গুরুত্ব সম্যক বুঝেন না বলেই ট্রাফিক আইন অনুসরণ করেন না। প্রতিবছর সারা বিশ্বে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে চলেছে। এভাবে দুর্ঘটনার হার বেড়ে যাওয়া মানুষের জানমালের ওপর অশনি সংকেত। সড়ক দুর্ঘটনার আর একটি দু:খজনক পরিণতি জীবনভর পঙ্গুত্ব। মানুষকে জীবনভর পঙ্গুত্ব বরণ করতে হলে তাকে পরিবার ও সমাজের কৃপার পাত্র হতে হয়। কৃপার পাত্রকে সাধারণত কেউ সুচোখে দেখেন না। সমাজের বোঝা মনে করেন। মোটর বাইকে যাঁরা যাতায়াত করে তাঁরা অনেকেই শিক্ষিত। কিন্তু তাঁদের বেশিরভাগই ট্রাফিক আইন মানেন না। বিশেষ করে চালক। তাঁদের অনেকেই হেলমেট পরে না। পিছনে বসা যাত্রীর জন্য হেলমেট ব্যবহার বিশেষভাবে বাধ্যতামূলক। কিন্তু আমাদের দেশে সাধারণত তা মানা হয় না। আর তীব্র যানজটের ফাঁক ফোকরে রাস্তা পারাপার তাঁদের জন্য যেন এক অলিখিত বিধি যা কোনভাবে থামানো যাচ্ছে না। বেপরোয়া চালকের নিয়ন্ত্রণহীন গতি সড়ক পরিবহনের রোজকার চিত্র। প্রায়শ দেখা যায় বেপরোয়া চালকের নিয়ন্ত্রণহীন গতির কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে নানা মাত্রিকে সহিংস ও আন্দোলনমুখর করে তোলে।
বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘ সম্মিলিতভাবে জানায়, নিয়মবিধি অনুসরণ করলে জাতীয় অর্থনীতিতে ক্ষতিকারক এমন দুর্ঘটনা কমে আসতে সময় লাগবে না। প্রয়োজনীয় নির্ধারকগুলোকে সামনে এনে এর প্রতিকারের ব্যবস্থায় প্রত্যেকে যদি সচেতন আর দায়িত্বশীল হয় তা হলে সড়কে সব মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। এ ছাড়া অরক্ষিত রেল ক্রসিং থেকে আরম্ভ করে সড়ক চিহ্ন সংকেত প্রদর্শন নানা সংস্কার কিংবা আমূল পরিবর্তন করে এমন অশুভ সংকেতকে সমূলে উপড়ে ফেলতে যা যা করণীয় সবটাই জনস্বার্থে করা জরুরি। মোট কথা, জাতীয় অর্থনীতিতে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধের বিষয়টি দৃশ্যমান হলে দেশে দারিদ্র্য বিমোচনের ইতিবাচক প্রভাব পড়তে মোটেই দেরি লাগবে না। উন্নয়ন হবে ত্বরান্বিত।