দু’মাস পর আত্মসমর্পণ আলোচিত আসামি ফিরোজের

তাসফিয়ার মৃত্যু

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ৪ জুলাই, ২০১৮ at ৯:৫৬ পূর্বাহ্ণ
369

স্কুল শিক্ষার্থী তাসফিয়া আমিনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আলোচিত আসামি ফিরোজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে। মৃত্যুর ঘটনার দুইমাস তিনদিনের মাথায় গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মুন্সি আবদুল মজিদের আদালতে আত্মসমর্পণ করে ফিরোজ। এতদিন পুলিশ কোথাও তাকে খুঁজে পায়নি। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী আদালতে ফিরোজের এ আত্মসমর্পণ বলে জানা গেছে।

তাসফিয়া হত্যায় গাজীপুরের কিশোর সংশোধনাগারে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ দেয়া প্রধান আসামি আদনান মির্জাকে ইতোমধ্যে আবারো জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা হয়। সমাজসেবা অফিসারের উপস্থিতিতে এ জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছিল আাদালত। এর আগে গত ৬ মে টঙ্গীর কিশোর সংশোধনাগারের তত্ত্বাবধায়কের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়া হয়েছিল।

জানা গেছে, গত ২ মে সকালে কর্ণফুলী নদীর পতেঙ্গার ১৮ নম্বর ঘাটে পাথরের ওপর উপুড় হয়ে থাকা অবস্থায় তাসফিয়ার লাশ পাওয়া যায়। ফেইসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে নগরীর আরেকটি স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র আদনানের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয় বলে পরিবারের ভাষ্য। লাশ উদ্ধারের আগেরদিন বিকালে আদনানের সঙ্গে বেড়াতে বেরিয়ে নিখোঁজ হন তাসফিয়া। আদনান ও তাসফিয়া নগরীর গোলাপাহাড় মোড়ে ‘চায়না গ্রিল’ নামে একটি রেস্টুরেন্টে খাবার খান। পরে সেখান থেকে বেরিয়ে দুজনে দুটি অটোরিকশায় উঠে চলে যান বলে সেখানকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জানিয়েছে পুলিশ। তাসফিয়ার লাশ উদ্ধারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদনানকে থানায় ডেকে আনা হয়। পরে তাসফিয়ার বাবা মামলা করলে তাকে সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর হামজার বাগ এলাকার ‘সন্ত্রাসী’ ফিরোজ ও তাসফিয়ার বন্ধু আদনান মির্জাসহ ছয়জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করে মামলা দায়ের করেন তাসফিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন। পুলিশ আদনান ও মিজান নামে দুই বন্ধুকে গ্রেপ্তার করলেও ‘সন্ত্রাসী’ ফিরোজ এতদিন গ্রেপ্তার হচ্ছিলনা। গতকাল আদালতে এসে নিজেই ধরা দিল। মামলার আসামি ইমতিয়াজ সুলতান ইকরামসহ অন্যদেরকে গ্রেপ্তার এখনো আইনের আওতায় আনতে পারেনি পুলিশ।

এর মধ্যে মিজানকে একবার রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু দ্বিতীয়বার তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আর আবেদন করা হয়নি। মামলার অন্য আসামিরা হচেছন, ওয়াজ বিন আসলাম ওরফে মিজান, শওকত মিরাজ ও সোহাইল। ফিরোজকে মামলায় আসামি করা প্রসঙ্গে বাদি আমিন জানিয়েছিলেন তাসফিয়ার নিখোঁজ হবার রাতে আদনানকে আটক করে থানায় সোপর্দ করলেও তাসফিয়াকে আধঘণ্টার মধ্যে খুঁজে বের করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সে আদনানকে নিয়ে গিয়েছিলো। এরপর থেকে আদনানের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায় বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। ফিরোজ স্কুলছাত্র আদনানের কথিত দলীয় বড়ভাই।

x