দুদকের ৭০ ভাগ মামলার আসামি ‘চুনোপুঁটিরা’

রবিবার , ২১ জুলাই, ২০১৯ at ৩:২৮ পূর্বাহ্ণ
901

বড় দুর্নীতিবাজদের ধরতে না পারার ব্যর্থতা স্বীকার করে নিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। গতকাল শনিবার দুদকের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনার প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, ‘আমরা অস্বীকার করি না আমাদের ধরা বা মামলা করার যে গতি-প্রকৃতি তার অন্তত ৬০ থেকে ৭০ ভাগ সম্ভবত চুনোপুঁটি।’
জাতীয় প্রেস ক্লাবে দুর্নীতি দমনে আইনজীবী ও বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) এর আলোচনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন ইকবাল মাহমুদ।
তবে বড় দুর্নীতিবাজদের ধরতে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘ছোট গাছ উপড়ে ফেলা যত সহজ, বড় গাছ উপড়ানো তত সহজ নয়। বড় গাছ উপড়ানো অনেক কঠিন। তাই বলে আমরা বড় গাছ ধরছি না, তা কিন্তু না।’
দুদক কর্মকর্তাদের দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ নিয়ে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন আকাশ থেকে উড়ে আসেনি। আমরা সবাই এ সমাজের মানুষ। তাই সমাজের অন্যান্য জায়গায় যা হয়, এখানেও তা হয়।’ নিজ বাহিনীর সদস্যদের কাজের সমালোচনাও করেন দুদক চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, বলতে দ্বিধা নেই, এমন কোনো লোক আমি পাইনি যার কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি। এখন আপনারা যদি বলেন অ্যাকশন নেন, তাহলে ৪৭৪ জন স্টাফের বিরুদ্ধেই অ্যাকশন নিতে হবে। তাহলে তো প্রতিষ্ঠান আর থাকবে না।’ খবর বিডিনিউজের।
এ সময় নির্দিষ্ট সময়ে তদন্ত শেষ করতে দুদক কর্মকর্তাদের নানা অজুহাতের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি অর্থ পাচার আইন সংশোধনের সমালোচনা করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে চাইলেও অনেক কিছু তারা করতে পারেন না।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে ‘সরল বিশ্বাস’ নিয়ে ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমার উত্তর একেবারেই সহজ। একটি প্রশ্নের বিপরীতে আমি উত্তরটি দিয়েছিলাম। সেটির ভিডিও ক্লিপ আপনাদের কাছে আছে। সেখানে দুর্নীতির কোনো শব্দ আমি উচ্চারণ করিনি। এখানে দুর্নীতি কীভাবে আসল আমার কোনো ধারণা নেই। যারা এনেছেন এটা তাদের দায়। আমি কোনো ব্যাখ্যা দিতে প্রস্তুত নই।’
সাংবাদিকদের উদ্দেশে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি যদি কোনো অবান্তর কথা বলে থাকি, সেটা প্রচার না করাটাই সমীচীন। আর যদি কোনো অফেনসিভ কথা বলে থাকি, তাহলে আমি ক্ষমা চেয়ে নেব। ক্ষমা চাওয়ার মত সৎ সাহস আমার আছে। আমরা চাই বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশিত হোক। সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের যেন কোনো ক্ষতি না হয়, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ প্রতিষ্ঠানটি কোনো ব্যক্তির নয়, রাষ্ট্রের।’

x