দুই মাসেও হয়নি সিজেকেএস এর কোন সাব কমিটি

হাফিজুর রহমান দাবি তুলেছেন সহ সভাপতি পদে উপ নির্বাচনের

ক্রীড়া প্রতিবেদক

শুক্রবার , ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ at ৫:৫২ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ১৮ ডিসেম্বর। এরই মধ্যে প্রায় তিন মাস হতে চলল। কিন্তু এই দুই মাসেও গঠিত হয়নি সংস্থার সাব কমিটি সমুহ। শুধু তাই নয় গত ২৮ ডিসেম্বর দায়িত্ব হস্তান্তরের পর প্রায় দেড়মাস পার হয়ে গেলেও এখনো নির্বাহি কমিটির কোন সভা হয়নি। আর সাব কমিটি গুলো কবে হবে সেটাও বলতে পারছেন না কেউই। কারন এই সাব কমিটি গঠনের দায়িত্ব সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নিজেই নিয়েছেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিভিন্ন সাব কমিটিতে নির্বাহি কমিটির কাউকে রাখা হবে না সে পথেই হাঁটছেন সাধারন সম্পাদক তেমনািট জানালেন গতকাল সংস্থার এক কর্মকর্তা। তিনি জানান যেহেতু বিষয়টি সাধারণ সম্পাদক নিজে দেখভাল করছেন সেহেতু বিষয়টি সম্পর্কে আমরা এখনো কিছু জানি না। আর তিনি যেহেতু তার রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ে এখন একটু বেশি ব্যস্ত সেহেতু কবে নাগাদ এই কমিটি পাওয়া যাবে সেটা বলতে পারছেন না তিনি। কারন মেয়র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আরো ব্যস্ত হয়ে পড়বেন।
এদিকে নির্বাচনের দুই মাস পার হয়ে গেলেও এখনো সাব কমিটিগুলো হয়নি। এটি নিয়ে একরকম কানাঘুষা চলছে জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলরদের মধ্যে। আর সে কানাঘুষার সাথে নতুন করে যোগ হয়েছে সংস্থার সাবেক সাধারন সম্পাদক এবং সাবেক সহ সভাপতি হাফিজুর রহমানের একটি চিঠি এবং একটি দাবি। এরই মধ্যে তিনি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি এবং জেলা প্রশাসকের বরাবরে একটি চিঠি দিয়েছেন। যাতে তিনি দাবি করেছেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংস্থার একটি শূন্য পদে নির্বাচন দেওয়ার। আর সে পদটি হচ্ছে একটি সহ সভাপতি পদ। এবারের জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচনে হাফিজুর রহমান আ.জ.ম. নাছির উদ্দীনের প্যানেলের সহ সভাপতি পদ প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু প্যানেলের বাইরে গিয়ে তিনি তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। ফলে সে পদটি খালি রয়ে গেছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারী সংস্থার সভাপতি বরাবর লিখিত এক চিঠিতে গঠনতন্ত্রের ধারা উল্লেখ করে দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার আবেদন জানান। জেলা ক্রীড়া সংস্থার গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ১৮.৩ উল্লেখ করে তিনি লিখেন এই ধারা অনুযায়ী আসন শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে উপ নির্বাচনের মাধ্যমে শুন্য আসন পূরণ করতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি অতীতের একটি উদাহরণ টেনে আনেন। ২০১৬ সালে তখনকার কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আল্লামা মো. ইকবালের মৃত্যুতে সে পদটি শুন্য হলে ২০১৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নতুন করে তফশিল ঘোষনা করে নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়। সেবার নির্বাহি কমিটির সদস্য শাহজাদা আলম যুগ্ম সম্পাদক পদে নির্বাচন করেন আর শাহজাদা আলমের পদে নির্বাচন করেন জাহেদুল ইসলাম। যেহেতু গঠনতন্ত্রের বাধ্যবাদকতা এবং অতীতের রেওয়াজ দুটোই রয়েছে সেহেতু এবারেরও ৯০ দিনের মধ্যে সহ সভাপতির শূন্য পদে নির্বাচন করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। আর সে জন্য এই পদে উপ নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানান হাফিজুর রহমান।
তবে এই শূন্য পদে নির্বাচন হবে কিনা তা এখনো জানা যায়নি। যদিও ৯০ দিন হতে এখনো বেশ কিছুদিন বাকি রয়েছে। আর এই উপ নির্বাচন করতে হলে তফশিল ঘোষণা করতে হবে। সেখানেও অন্তত বিশ দিনের মত লেগে যাওয়ার কথা। কাজেই ৯০ দিনের মধ্যে এই উপ নির্বাচন হবে সেটা বলা যাচ্ছে না এখন। যদিও ৯০ দিন হতে এখনো এক মাসের মত বাকি। যদিও কেউ কেউ বলছেন শূন্য সে পদটির কারণে যদি সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনা করতে খুব বেশি সমস্যা না হয় তাহলে উপ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। তার উপর সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন তার মেয়র নির্বাচন নিয়ে। কাজেই ক্রীড়া সংস্থায় এখন তার সময় দেওয়ার সুযোগটা কম। সে হিসেবে এই নির্বাচন আদৌ হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে অনেকের। গতকাল যেমন এক কর্মকর্তা বললেন যেখানে এখনো সাব কমিটিগুলো হয়নি সেখানে উপ নির্বাচন নিয়ে চিন্তা করার সময় কই। তারপরও অপেক্ষায় থাকতে হবে কোনদিকে যাচ্ছে জেলা ক্রীড়া সংস্থার বর্তমান কমিটি। নির্বাচনের পর নতুন কমিটির অভিষেক হওয়ার কথা থাকলেও সেটাও হয়নি এখনো। তাই বলা চলে সবকিছুই এখন একরকম স্থবির হয়ে আছে। এখন সে স্থবিরতা কবে কাটে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

x