দুই বছরে অগ্রগতি ৩০ শতাংশ!

সন্দ্বীপে ১৯৭ কোটি টাকার পুনর্বাসন প্রকল্প কাজের মান নিয়ে অসন্তোষ

ইকবাল হোসেন

শনিবার , ২০ জুলাই, ২০১৯ at ৭:২৯ পূর্বাহ্ণ
77

চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের ভাঙনপ্রবণ এলাকায় পুনর্বাসন প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে আর ১১ মাস। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ১৯৭ কোটি টাকার প্রকল্পটিতে দুই বছরে অগ্রগতি মাত্র ৩০ শতাংশ। প্রকল্পের কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন খোদ সরকারি দলের উপজেলা চেয়ারম্যান।
জানা যায়, সন্দ্বীপকে ‘৭২ নং পোল্ডার’ নামে সাগরের ভাঙন রোধে নেওয়া নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। উপজেলার বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী রহমতপুর, মুছাপুর, সারিকাইত, মগধারা ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষকে সাগরের অতি জোয়ারে জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ত পানির দুর্যোগ থেকে রক্ষার জন্য ৯ দশমিক ৬০ কিলোমিটার সীমানায় বাঁধ প্রতিরক্ষা কাজ এবং ১ দশমিক ২০ কিলোমিটার বাঁধ মেরামত কাজ হাতে নেয় পাউবো।
২০১৬ সালের দিকে প্রকল্পটি হাতে নিলেও ২০১৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১৯৭ কোটি ৪ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকার ‘চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলার পোল্ডার নং ৭২ এর ভাঙনপ্রবণ এলাকায় স্লোপ প্রতিরক্ষা কাজের মাধ্যমে পুনর্বাসন প্রকল্প’ অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২০১৮ সালের নভেম্বরে কাজ শুরু হয় বলে জানান পাউবোর কর্মকর্তারা। প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন সাইজের প্রায় ৮ লাখ ৪৪ হাজার সিসি ব্লক এবং প্রায় ৮ লাখ ৯০ হাজার ঘনমিটার মাটি ভরাটের কাজ রয়েছে। প্রকল্পের বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, প্রকল্পের ঠিকাদাররা প্রভাবশালী। দ্বীপ উপজেলা হওয়ায় চট্টগ্রাম নগরী কিংবা ঢাকা থেকে এসে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা প্রকল্পের কাজ তদারকি করতে পারেন না। সে সুযোগে বাঁধ পুনর্বাসনের নামে নিম্নমানের কাজ হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে যারা তদারকি করেন তাদেরকে ম্যানেজ করে ঠিকাদাররা নিম্নমানের কাজ করছেন।
প্রকল্পের তদারককারী কর্মকর্তা পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ফজলুল হক বলেন, ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্পের অনুমোদন পাওয়া গেছে। ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে কাজ শুরু হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পে ৩০ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রকল্পের আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে সংলগ্ন এলাকার ঘূর্ণিঝড়, অতি জোয়ার ও জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হবে উপজেলার কমপক্ষে চারটি ইউনিয়ন। এতে ওখানকার লক্ষাধিক মানুষের আর্তসামাজিক উন্নয়ন হবে।
কাজের মান ও নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ হবে কিনা জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (চট্টগ্রাম ডিভিশন-২) খ ম জুলফিকার তারেক দৈনিক আজাদীকে বলেন, নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে কোনো অভিযোগ নেই।
তবে, সন্দ্বীপ উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান আজাদীকে বলেন, পুনর্বাসন প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তবে কেউ মুখ খুলছে না।

x