দাবদাহে হাঁসফাঁস

শিশুদের ডায়রিয়াসহ বাড়ছে নানা স্বাস্থ্য সমস্যা

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ১৭ এপ্রিল, ২০১৯ at ৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ
194

আজ বাংলা ১৪২৬ সনের ৪ তারিখ। এরই মধ্যে বৈশাখের তীব্র দাবদাহে নগরবাসীর প্রাণ ওষ্ঠাগত। এদিকে আবহাওয়া অফিস বলছে, এপ্রিল ও মে মাসে গরমের এই তীব্রতা অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তীব্র গরম অব্যাহত থাকলে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা ও রোগব্যাধির আশঙ্কা দেখা দিবে। বিশেষ করে শিশুদের নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, পানি শুন্যতা বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। এর পাশাপাশি হিটস্ট্রোক, অবসাদ, অ্যালার্জি, সূর্যরশ্মিতে চামড়া পুড়ে যাওয়া, হজমের অভাবে বমি বা ডায়রিয়াজনিত রোগের সম্ভাবনাও রয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আখতারুল ইসলাম আজাদীকে বলেন, এভাবে গরম অব্যাহত থাকলে ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েডসহ নানা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। তিনি এই গরমে করণীয় হিসেবে বলেন, প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। যেহেতু ঘামের সঙ্গে পানি ও লবণ দুই-ই বেরিয়ে যায়, সেহেতু লবণযুক্ত পানীয় যেমন খাবার স্যালাইন বেশি করে পান করতে হবে। চা ও কফি যথাসম্ভব কম পান করা উচিত। প্রতিদিনের খাবার যেন টাটকা হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। গরমের সময় বেশি মসলাযুক্ত খাবার ও রাস্তায় বিক্রি হওয়া খোলা খাবার এড়িয়ে চলারও পরামর্শ দেন তিনি।
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার নাথ বলেন, তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। এইভাবে কয়েকদিন একটানা গরম পড়লে শিশুদের নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ পানি শুন্যতা বাড়তে পারে। এসময় শিশুদের জন্য করণীয় হিসেবে তিনি বলেন, পানি শুন্যতা রোধে শিশুদের বেশি বেশি বিশুদ্ধ পানি পান করাতে হবে। তাদের ধূলাবালি ও রোদের হাত থেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারলে রোগ-বালাই থেকে অনেকাংশে নিরাপদ রাখা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে হঠাৎ গরম বেড়ে যাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় বোতলজাত পানির চাহিদা বেড়ে গেছে বলে জানান বিক্রেতারা। দেবব্রত নামের এক দোকান কর্মচারী জানান, সকাল থেকে অন্যান্য দিনের তুলনায় আজ (গতকাল) বোতলজাত পানি বিক্রি অনেক বেশি হয়েছে। সেই সাথে বেড়েছে বিভিন্ন কোমল পানীয়ের বিক্রিও।
ডাব বিক্রেতা শাওন বলেন, গরম পড়ার কারণে আজ ভাল বিক্রি হয়েছে। অন্যদিন কাস্টমাররা দরদাম বেশি করে। কিন্তু এখন দরদাম ছাড়াই জোড়া ১০০ টাকা করে ডাব বিক্রি হচ্ছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা স্বাভাবিকের তুলনায় দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫ দশমিক শূন্য ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ প্রদীপ কান্তি রায় জানান, আজ বুধবার বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। আকাশ আংশিক মেঘলাসহ প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের প্রধান আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ শহীদুল ইসলাম দৈনিক আজাদীকে বলেন, এপ্রিল ও মে মাসে গড় তাপমাত্রা ৩২-৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে উঠানামা করতে পারে। তবে মে মাসে তাপমাত্রা একটু কমতে পারে বলে আশা রয়েছে।

x