দর্শকপ্রিয় হতে পারে ভ্রমণ বিষয়ক অনুষ্ঠান

আয়শা আদৃতা

বৃহস্পতিবার , ১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৪:৪৪ পূর্বাহ্ণ

১৩ জানুয়ারি প্রচারিত হয় ভ্রমণ বিষয়ক অনুষ্ঠান রূপসী বাংলা। খাগড়াছড়ির নয়নাভিরাম নানা স্থানের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় অনুষ্ঠানে। একটা অনুষ্ঠানে আট/দশ জনের সাক্ষাৎকার না নিয়েও চমৎকার বর্ণনা দিয়ে কিভাবে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করা যায় তা এ রূপসী বাংলায় দেখা গেছে। বিটিভি চট্টগ্রামে ভ্রমণ বিষয়ক অনুষ্ঠান খুব একটা বেশি নয়, আগে যে দুয়েকটি অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়েছে তার বেশিরভাগই ছিল চর্বিত চর্বণ। এক দৃশ্য বারবার দেখানো, একই প্রশ্ন বারবার করার যে বিরক্তিকর সময়. সেটি থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে অনুষ্ঠানটি। ভ্রমণ অনুষ্ঠানে যেসব তথ্য থাকা প্রয়োজন, যেমন কিভাবে যাওয়া যায়, কোথায় থাকা যায়, খাওয়ার রেস্টুরেন্ট কোথায়, কেমন দাম, যাতায়াত ব্যবস্থা কী ইত্যাদি বিষয় উঠে আসলে অনুষ্ঠান দেখে দর্শকরা উপকৃত হন। এ অনুষ্ঠানে সব তথ্য না পেলেও বেশ কিছু তথ্য দেয়া হয়েছে।
একইদিন প্রচারিত হয় বই পরিচিতিমূলক অনুষ্ঠান বই পরিচিতি। আয়েশা হক শিমুর উপস্থাপনায় এবারের পর্বে আলোচক ছিলেন প্রফেসর রীতা দত্ত। বই ও বই মেলার নানা বিষয় ওঠে আসে আলোচনায়। চট্টগ্রামে যে এবার ঢাকার মতো করে একীভূত বই মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিটি কর্পোরেশন সে বিষয়টিও উত্থাপন করেছেন উপস্থাপক। একুশের গ্রন্থ মেলাকে ঘিরে তরুণ লেখকদের আগ্রহ, বই প্রকাশ নিয়েও আলোকপাত করা হয়। অনুষ্ঠানে নাহিদ ধ্রুব এর ‘থাকে শুধু আলেয়া’, রফিকুর রশিদের ‘একুশের কিশোর গল্প’, শিবু কান্তি দাশের ‘জলপাই রঙের গাড়ি’, হাসনাত আমজাদের ‘যখন আমার একলা দুপুর’, জয়দেব কর এর ‘অস্ত্রাগার হয়ে যাক যাদুঘর’, ড. মাহবুবুল হক স্মারকগ্রন্থ ‘একাত্তরে মাহবুবুল হক’, আবৃত্তির ক্লাস, ভ্রমণ কাহিনীসহ বেশ কয়েকটি বই নিয়ে আলোচনা করা হয়। সাধারণত পত্রিকায় যেরকম বই সমালোচনা ছাপানো হয় এটি অনেকটা সেরকম, বই এর প্রকাশক কোন প্রতিষ্ঠান, পৃষ্ঠা সংখ্যা কত, দাম কত যাবতীয় তথ্য দেয়া হয়। তবে শুধুই প্রশংসা না করে বইয়ের ভালো মন্দ দুই দিকই ওঠে এলে অনুষ্ঠানটা আরো বেশি গ্রহণযোগ্য হবে।
পঞ্চকবির গানের অনুষ্ঠান পঞ্চসুর। বিটিভি চট্টগ্রামের নিয়মিত অনুষ্ঠান এটি। কবি রজনীকান্তের ‘ তুমি, নির্মল কর, মঙ্গল করে মলিন মর্ম মুছায়ে’ গানটি গেয়ে শুনান শিল্পী কেশব জিপসি, রীতি দাশ পরিবেশন করেন নজরুল সঙ্গীত ‘আমি দ্বার খুলে আর রাখব না,পালিয়ে যাবে গো’, শ্বাশতী তালুকদার পরিবেশন করেন রবীন্দ্র সঙ্গীত ‘ওগো, তোমার চক্ষু দিয়ে মেলে সত্য দৃষ্টি/আমার সত্যরূপ প্রথম করেছ সৃষ্টি’, ডিএল রায়ের ‘ওরে আয় চলে আয়, আমার পাশে মহা সিন্ধুর ওপার থেকে কি সঙ্গীত ভেসে আসে’ গেয়ে শোনান কাজল কান্তি মজুমদার এবং শ্রেয়সী রায় করেন অতুল প্রসাদের গান ‘যাব না যাব না যাব না ঘরে’ জনপ্রিয় এ গানটি। খ্যাতিমান কবিদের গান নিয়ে বিশেষ আয়োজনের এ আইডিয়াটি চমৎকার। তবে সব শিল্পীই কঠিন ধাঁচের এসব গানে প্রাণ দিতে পারেন না। ভালো এবং নিয়মিত চর্চায় আছেন এমন শিল্পীদের এ অনুষ্ঠানে সুযোগ দিলে অনুষ্ঠানটি আরো ভালো হবে বলে আশা করা যায়।
কিছু কিছু অনুষ্ঠানের ব্যাকস্টেজেও বেশ ভালো কাজ দেখা যাচ্ছে। এ সপ্তাহে আধুনিক গানের অনুষ্ঠান গানের ভেলা ও সুর ছন্দে ব্যাক স্টেজের কাজ বেশ কালারফুল ছিল। ভালো ছিল বই পরিচিতি অনুষ্ঠানের ব্যাক স্টেজও। তবে এ অনুষ্ঠানে বই এর কোনো প্রতীক দেয়া গেলে আরো বেশ মানানসই হত বিষয়টি।

x