দগ্ধদের অবস্থা আশঙ্কাজনক কারখানা সিলগালা

কেরানীগঞ্জে অগ্নিকাণ্ড

শনিবার , ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৩:৫৭ পূর্বাহ্ণ

ঢাকার কেরানীগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাইম পেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কারখানাটি সিলগালা করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। একইসঙ্গে ওই মালিকের আরও একটি কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দেবনাথ কারখানা দুটি সিলগালা করে দেন। এর আগে জেলা প্রশাসক চুনকুটিয়া ও শুভাঢ্যা এলাকায় অনুমোদনহীনভাবে গড়ে ওঠা কারখানা দুটি পরিদর্শন করেন।
ইউএনও বলেন, নজরুল ইসলামের মালিকানাধীন দুটি কারখানাই আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠেছে। তবে একটিতেও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যাওয়ার রাস্তা নেই। জান-মালের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে কারখানা দুটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। খবর বিডিনিউজের।
গত বুধবার চুনকুটিয়া এলাকার প্রাইম পেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে একজন নিহত হয়। পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আরো ১২ জন। এছাড়া দগ্ধ আরও ১৮ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন বলেন, দগ্ধদের মধ্যে ৮ জন বার্ন ইউনিটের এইচডিইউতে এবং ১০ জন শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তাদের সবার
অবস্থা আশঙ্কাজনক।
গত বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের দশটি ইউনিট সোয়া এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষতির পরিমাণ জানতে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১২ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার জেলা প্রশাসকের পক্ষে জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার মো. আব্দুল আওয়াল মৃতদেহ হস্তান্তর শুরু করেন। তিনি বলেন, দাফন-কাফনের জন্য নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে আপাতত বিশ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য দেওয়া হয়েছে বিশ হাজার টাকা।
যাদের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে, তারা হলেন কেরানীগঞ্জের আলম (৩৫), পিরোজপুরের জাহাঙ্গীর হোসেন (৫৫), নরসিংদীর বাবলু (২৬), নড়াইলের রায়হান বিশ্বাস (১৬), পটুয়াখালীর ইমরান হাওলাদার (১৮), বরিশালের আব্দুল খালেক (৩৫), মাগুরার জিনারুল মোল্লা (৩২), জয়পুরহাটের সুজন দেওয়ান (১৯) ও ওমর ফারুক (৩২), মুন্সিগঞ্জের ফয়সাল দেওয়ান (২৪), টাঙ্গাইলের সালাউদ্দিন (২৬) এবং কেরানীগঞ্জের মেহেদী হাসান (২০)।
এছাড়া আরও একজনের পোড়া মরদেহ মর্গে আছে। তার হাতের আংটি দেখে মাহবুব হোসেন বলে শনাক্ত করেছে রংপুরের একটি পরিবার। তবে আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য তার ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন মো. আব্দুল আওয়াল।
অপরদিকে কর্তৃপক্ষের নিষেধের পরও বৃহস্পতিবার দুর্জয় দাস নামে ৯৫ শতাংশ দগ্ধ এক যুবককে কেরানীগঞ্জের বাসায় নিয়ে যান তার বাবা মিণ্টু দাস। তার সর্বশেষ অবস্থা জানা যায়নি।

x