থ্যালাসেমিয়া নির্মূলে সচেতনতার তাগিদ

নানা আয়োজনে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস পালিত

বৃহস্পতিবার , ৯ মে, ২০১৯ at ১০:২০ পূর্বাহ্ণ
42

থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রক্তের রোগ, দেশে দিন দিন এমন রোগী বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক চক্ষু বিশেষজ্ঞ ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল লিমিটেড (আইএইচএল) এর বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন। তিনি বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরীক্ষার মাধ্যমে দেহে থ্যালাসেমিয়ার অস্তিত্ব এবং ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। যদি কেউ আক্রান্ত হয়, তাহলে যথাযথ চিকিৎসা করতে হবে। নগরীর পাহাড়তলীস্থ সাড়ে আটশ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশ্বমানের আধুনিক চিকিৎসা সুবিধার সমন্বয়ে সমৃদ্ধ আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ৩৫০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক এবং বহুমুখী বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল লিমিটেডে (আইএইচএল) গতকাল বুধবার বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষ্যে সচেতনতামূলক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে ৮ এপ্রিল দিবসটি পালন করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ‘অনাগত সন্তানকে দিতে থ্যালাসেমিয়া থেকে সুরক্ষা, বিয়ের আগে করুন রক্তের ইলেকট্রোফোরেসিস পরীক্ষা’ এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল দিবসটি পালন করেছে। সভায় দেশে থ্যালাসেমিয়া রোগীর বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন।
হাসপাতালের সেমিনার কক্ষে সভায় সিইআইটিসির ম্যানেজিং ট্রাস্ট্রি অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন বলেন, এ দেশে বিশেষ করে চট্টগ্রামে উন্নতমানের স্বাস্থ্য সেবার অপ্রতুলতার কারণে বহু সংখ্যক রোগী বিদেশে যেতে বাধ্য হচ্ছে, যার ফলে তাদেরকে ও পরিবারকে আর্থিক, শারীরিক এবং মানসিক চাপের মুখে পড়তে হয়। এই অবস্থা থেকে কিছুটা পরিত্রাণের উদ্দেশ্যে ‘চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ট্রাস্ট’ আন্তর্জাতিক মানের জেনারেল হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এতে চট্টগ্রামের কতিপয় সমাজ সেবক এবং উদ্যোক্তা এই উদ্যোগে সাড়া দেয়। তিনি অতি শীঘ্রই উন্নতমানের সার্বক্ষণিক ইমার্জেন্সি সেবা এবং কার্ডিয়াক, ট্রান্সপ্ল্যান্ট, নিউরো, অর্থোপেডিক ও গাইনি অবস্‌ ইত্যাদি সম্বলিত ১৪টি মডিউলার অপারেশান থিয়েটার, ১৬টি নার্স স্টেশন ও ৬২টি কনস্যালটেন্ট রুম সম্বলিত বর্হিবিভাগ এবং আধুনিক গুণগত মানসম্পন্ন ৬৪টি ক্রিটিকাল কেয়ার বেড, নবজাতকদের জন্য ৪৪ শয্যাবিশিষ্ট নিওনেটাল ইউনিট এবং ৮টি পেডিয়াট্রিক আইসিইউ নিয়ে ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে বলে জানান। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক একটি বিখ্যাত স্থাপত্য সংস্থা এই হাসপাতালের মূল নকশা প্রণয়ন করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি ইউরোপিয়ান কনস্যালটেন্ট গ্রুপ নকশানুযায়ী কাজ বাস্তবায়নে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমন – প্রকৌশল, তথ্য প্রযুক্তি এবং বায়োমেডিকেল বিষয়ে কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করেছে, এই হাসপাতাল বাস্তবায়নে ৩টি বিষয়কে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে – সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ (ইনফেকশান কন্ট্রোল), রোগীদের নিরাপত্তা এবং কর্মীদের নিরাপত্তা; এখানে থাকবে। তিনি অতি শীঘ্রই এ হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
সভায় থ্যালাসেমিয়া রোগ ও সচেতনতা নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন, হাসপাতালের কমিশনিং কনসালটেন্ট এড লি হ্যানসেন, হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের এসোসিয়েট কনসালটেন্ট ডা. সিরাজাম মুনিরা, হাসপাতালের পরিচালক (স্ট্রাটেজিক কোয়ালিটি এমজিটি) রিয়াজ হোসেন, হাসপাতালের ম্যানেজার (পিআরপি) শেখ আবদুস সালাম, শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফয়সাল আহম্মেদ, ডা. মাসুদুর রহমান, সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. সিতারা বেগম। সভা পরিচালনা করেন হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. আবু হাছান রুবেল। সভায় থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত শিশু, শিশুর অভিভাবক, হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়

বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে গতকাল বুধবার জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে পুনরায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। এরপর সকালে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অডিটরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জিএম তৈয়ব আলী, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. নুরুল হায়দার ও মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ওয়াজেদ চৌধুরী অভি। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক সুজন বড়ুয়া ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট কাজল কান্তি পাল প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, জন্মগতভাবে কোন শিশুর থ্যালাসেমিয়া হলে ঐ শিশু রক্তশূন্যতায় ভোগে। তাকে রক্ত দিয়ে বাচাঁতে হয়। আবার এ ধরনের রোগীকে রক্ত দিয়ে ৩০ বছরের বেশি সময় বাঁচিয়ে রাখা যায় না। রক্ত সঞ্চালনের ফলে বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে। বাঁচতে হলে বিয়ের আগে প্রত্যেক নব দম্পতিকে রক্তের ইলেকট্রোপোরোসিস পরীক্ষা করাতে হবে। যদি মানবদেহে থ্যালাসেমিয়ার জীবাণু পাওয়া যায় তাহলে বিয়ে করা উচিত নয়। তাই প্রত্যেক থ্যালাসেমিয়া রোগীর প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে।
থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ প্রচারণা

থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধর জন্য বিয়ের আগে বাধ্যতামূলক রক্ত পরীক্ষা করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ প্রচারণা বাংলাদেশের সাইন্টিফিক এডভাইজর ও মেন্টর অধ্যাপক ডা. শাহেদ আহমেদ চৌধুরী।
বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ প্রচারণা বাংলাদেশের আয়োজনে সিটিজি ব্লাড ব্যাংকের সহযোগিতায় গতকাল বুধবার নিউমার্কেটের সামনে মানববন্ধনে তিনি এ আহ্বান জানান। মানববন্ধনে ২০টিরও অধিক সংগঠন উপস্থিত ছিল। বক্তব্য দেন কাউছার, শোয়েবুল হক চৌধুরী, আরমান শরীফ, জাহিদুল ইসলাম, দৌলত ইকবাল, গাজী রাসেল, আবদুর রহমান, মোহাইমিনুল হক, মুশফিকুর রহমান, আবু সাইদ, সালাউদ্দীন, আবু হানিফ, রায়হান প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।