তিন মামলায় জামিন বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ আজ

খালেদার মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা

ঢাকা ব্যুরো

সোমবার , ২৮ মে, ২০১৮ at ৫:১৭ পূর্বাহ্ণ
285

কুমিল্লা ও নড়াইলে দায়ের করা পৃথক তিন মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। এ ৩ মামলায় আদেশের জন্য আজ সোমবার দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। গতকাল রোববার উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জেবিএম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশের এ দিন নির্ধারণ করেন। আজকে তিন মামলায় জামিন পেলেও খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে যাচ্ছে। তাকে গ্রেপ্তার দেখানো আরো তিন মামলায় জামিন পাওয়ার পর মুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে অন্য মামলায় আবারও গ্রেপ্তার দেখালে সেই মামলাও তাকে জামিন নিতে হবে। সব মিলিয়ে খালেদার মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এজে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, খন্দকার মাহবুব হোসেন ও ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তাদের সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট এম. মাসুদ রানা। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। গত ২০ মে কুমিল্লা ও নড়াইলের পৃথক ৩ মামলায় হাইকোর্টের অনুমতির পর খালেদা জিয়ার পক্ষে জামিন আবেদন দাখিল করা হয়। এরপর গত ২১ মে আদালতে খালেদা জিয়ার দুই মামলায় জামিন শুনানির দিন ধার্য থাকলেও প্রস্তুতি না থাকার বিষয়টি আদালতকে অবহিত করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এরপর আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করে এ বিষয়ে ২২ মে শুনানির দিন ধার্য করেন। এদিন আংশিক শুনানি হওয়ার পর মামলাটির বিষয়ে ২৩ ও ২৪ মে আবারও শুনানি হয়। সেই শুনানি গতকাল রোববার পর্যন্ত মুলতবি রাখা হয়। গতকাল সেই শুনানি শেষে আদালত আদেশের জন্য আজ সোমবার দিন ধার্য করেন। শুনানি শেষ হওয়া ৩ মামলা হলো : কুমিল্লায় দায়ের করা হত্যা মামলা২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি বাসে পেট্রোল বোমা ছোঁড়া। এতে ৭ জন যাত্রী মারা যান এবং আরও ২৫২৬ জন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনার পরদিন (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টায় চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নুরুজ্জামান বাদী হয়ে ৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে এ মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। বিচারকালে দায়রা আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। সেই জামিন আবেদনের পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৭ জুন দিন ধার্য রাখা হয়। কিন্তু এ অবস্থায় গত ৫ এপ্রিল এ মামলায় খালেদা জিয়াকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। তাই ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারায় হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের অভিযোগে কুমিল্লায় মামলা

২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি ঢাকাচট্টগ্রাম মহাসড়কের হায়দার পুলের চৌদ্দগ্রামে একটি কাভার্ড ভ্যানে অগ্নিসংযোগ ও আশপাশের বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনায় ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি চৌদ্দগ্রাম থানায় বিশেষ মতা আইনে নাশকতার অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ ৩২ জনকে আসামি করে মামলা হয়। ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি এ মামলার অভিযোগপত্র দেয়া হয়। মামলাটি কুমিল্লার বিশেষ ট্রাইব্যুনালএ চলমান। ২০১৭ সালের ৯ অক্টোবর এ মামলায় অভিযোগ আমলে নেন আদালত। পরে গত ২৩ এপ্রিল এ মামলায় জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। কিন্তু আদালত আবেদনটির পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৭ জুন দিন ধার্য রাখেন। কিন্তু এ অবস্থায় শুনানি না করে এ মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আপিল আবেদন করা হয়েছে।

মানহানির অভিযোগে নড়াইলে মামলা

২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন খালেদা জিয়া। এ ঘটনায় একই বছরের ২৪ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নড়াইলে মানহানির মামলা করা হয়। স্থানীয় এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রায়হান ফারুকি ইমাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। নড়াইলের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলাটি বিচরাধীন। এ মামলায় এ বছরের ১৬ এপ্রিল খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে তার আইনজীবীরা আবেদন করেন। কিন্তু বিচারক বাদীর উপস্থিতিতে জামিন শুনানির জন্য এ বছরের ৮ এপ্রিল শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেছিলেন। এরপর নির্ধারিত দিনে শুনানি নিয়ে পুনরায় জামিন শুনানির জন্য ২৫ মে দিন ধার্য রেখেছিলেন আদালত। এ অবস্থায় খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তার জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন।

x