তিন কর্মকর্তা রিমান্ডে, হদিস নেই অন্যদের

পূবালী ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ২৪ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৪:২৪ পূর্বাহ্ণ

১৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পূবালী ব্যাংকের চকবাজার শাখার তিন কর্মকর্তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালতের বিচারক। তাঁরা হচ্ছেন, ব্যবস্থাপক এনামুল করিম চৌধুরী, জুনিয়র অফিসার ইকরামুল রেজা রিজভী এবং কম্পিউটার অপারেটর চন্দন দে। গতকাল বুধবার মহানগর হাকিম আদালত থেকে তিনজনের ২ দিন করে রিমান্ডের আদেশ হয়। রিমান্ড শুনানী উপলক্ষে তিনজনকেই কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। পরে শুনানী অনুষ্ঠিত হলে আদালতের বিচারক এ তিন কর্মকর্তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর তদন্ত কর্মকর্তাকে। এদিকে মামলার এজাহারে থাকা অন্য আসামিদের এখনো নাগাল পায়নি দুদক কিংবা পুলিশ।
এজাহারে থাকা অন্য আসামিরা হলেন, নাসিরাবাদ হাউজিং এস্টেট এলাকার মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ, নাসিরাবাদ ড্রীম ভ্যালী আবাসিক এলাকার মোহাম্মদ ইলিয়াছ, ৬ নং পূর্ব ষোলশহর এলাকার আবু সৈয়দ ও ঢাকার মৌলভীবাজার এলাকার শেখ মোহাম্মদ ওবায়েদ উল্লাহ। তথ্য অনুযায়ী, ১৩ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটলো নগরীর পূবালী ব্যাংক চকবাজার শাখায়। এ ঘটনায় দায়ের করা এক মামলায় পূবালী ব্যাংকের তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর ৫৪ ধারায় তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।
ঘটনার পর ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক এবং চট্টগ্রামের আঞ্চলিক মহাব্যবস্থাক মনজুরুল ইসলাম মজুমদারের দায়ের করা ওই মামলায় তিন ব্যাংক কর্মকর্তা এবং একজন গ্রাহকসহ মোট সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। ব্যাংকের ১২ কোটি ৮৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। পরস্পর যোগসাজসে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলেও জানান মনজুরুল ইসলাম মজুমদার।
জানা গেছে, গত ৭ জানুয়ারি মোহাম্মদ হারুণুর রশিদ নামের এক গ্রাহক চারটি চেক দিয়ে তার অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করার অনুরোধ করেন। তার সঙ্গে যোগসাজশে ওই ব্যাংক কর্মকর্তারা ক্লিয়ারেন্স ছাড়াই অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করেন এবং হারুণ সব টাকা তুলে নেন। পরে দেখা যায়, ওই চার চেকের অ্যাকাউন্টে কোনো টাকাই নেই।
হারুণ বহদ্দারহাট এলাকায় রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি। পূবালী ব্যাংকের চকবাজার শাখার পুরনো গ্রাহক তিনি। তাকেসহ মামলার বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে বলে জানান চকবাজার থানার ওসি।
তথ্য অনুযায়ী, ১২ জানুয়ারি রাত ৮টা ২৮ মিনিটে এনামুল করিম চৌধুরী নিজের মোবাইল থেকে মামলার বাদী মনজুরুল ইসলাম মজুমদারের মোবাইলে একটি মেসেজ পাঠান। মেসেজটি ছিল অগোছালো। এটা পড়ে কোন মর্ম উদ্ধার করতে না পেরে মনজুরুল ইসলাম ফোন করেন শাখা ব্যবস্থাপক এনামুল করিমকে। এসময় তার শাখা থেকে বড় অংকের টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানান মনজুরুল ইসলামকে। আত্মসাতের ঘটনা শুনার সাথে সাথে তিনি সিএনজি টেঙি নিয়ে ছুটেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের বাসায়। এসময় জিএমসহ শাখা ব্যবস্থাপক এনামুল করিমকে বিস্তারিত ঘটনা বর্ণনা করতে বললে তিনি অস্পষ্ট ভাষায় কথা বলতে থাকেন। ওই আলোচনার ফলাফল হিসেবে উল্লেখিতরা এনামুলকে পরেরদিন ১৩ জানুয়ারি তার শাখায় এসে পুরো ঘটনা বলার জন্য নির্দেশনা দেন।
এরই প্রেক্ষিতে উল্লেখিত কর্মকর্তাগণ ১৩ জানুয়ারি সকাল ১০টায় চকবাজার শাখায় উপস্থিত হয়ে আসামি এনামুলের কাছ থেকে আত্মসাত ঘটনা বিস্তারিত জানতে চান।
আদালত থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তিন আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য বিচারকের কাছে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
এদিকে যাদের একাউন্টে আত্মসাতকৃত টাকা চলে গেছে তারা এখনো আইনের আওতায় না আসায় আত্মসাতকৃত টাকার ভবিষ্যৎ কি হবে তা বলা মুশকিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

x