তাসফিয়ার পোস্টমর্টেম প্রতিবেদন প্রায় দু’মাসেও পাওয়া যায়নি

আদনানের রিমান্ড শুনানি কাল

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ২৭ জুন, ২০১৮ at ৪:১৯ পূর্বাহ্ণ
100

তাসফিয়া হত্যার একমাস ২৫ দিন পার হল। ভিসেরা ও ভেজাইনা প্রতিবেদন পাওয়া গেলেও পোস্টমর্টেম প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পতেঙ্গা থানার এসআই আনোয়ার হোসেন বলছেন, আলোচিত এ মামলার তদন্ত চলছে। এ অবস্থায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার মামলার প্রধান আসামি আদনান মির্জার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে (শিশু আদালত) আদনানের রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। একইদিনে আদনানের বয়স নির্ধারনের জন্য বাদীপক্ষের করা আবেদনের উপরও শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। গাজীপুর সেইফহোমে তাকে ইতোমধ্যে করা জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে উল্লেখ করে তার সাতদিনের রিমান্ড চেয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। এ বিষয়ে বাদীর আইনজীবী এডভোকেট মোহাম্মদ খালেদ জানান, বৃহস্পতিবার মামলার প্রধান আসামি আদনানের রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে শিশু আদালতে।

প্রসঙ্গত: গত ২ মে সকাল সাড়ে দশটায় নগরীর কর্ণফুলী নদীর নেভাল এলাকা থেকে তাসফিয়ার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আমিন বাদি হয়ে পতেঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আদনান মির্জা ছাড়াও মোহাম্মদপুর হামজারবাগ এলাকার ফিরোজ, ফরেস্টগেইটের ইমিতয়াজ সুলতান ইকরাম, ওয়াজ বিন আসলাম ওরফে মিজান, শওকত মিরাজ ও সোহাইল নামে ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। আদনান ও মিজানকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও ফিরোজ কিংবা ইকরামদের নাগাল পায়নি পুলিশ। ফিরোজকে মামলায় আসামি করা প্রসঙ্গে বাদি আমিনের দাবি তাসফিয়ার নিখোঁজ হবার রাতে আদনানকে আটক করে থানায় নিয়ে যেতে চাইলে তাসফিয়াকে আধঘণ্টার মধ্যে খুঁজে বের করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সে আদনানকে নিয়ে গিয়েছিলো। ফিরোজ স্কুলছাত্র আদনানের কথিত দলীয় বড়ভাই। এর মধ্যে মিজানকে একবার রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর দ্বিতীয়বার রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের কোন আবেদন নেই বলে জানালেন এডভোকেট মোহাম্মদ খালেদ।

এদিকে গোলপাহাড় মোড় থেকে তাসফিয়াকে পতেঙ্গা নেভালে বহন করে নিয়ে যাওয়া সেই আলোচিত সিএনজি ট্যাক্সিরও খোঁজ দিতে পারেনি পুলিশ। সেই ট্যাক্সির খোঁজ পাওয়া গেলে তাসফিয়ার মৃত্যুরহস্য অনেকটা উদঘাটিত হতো বলে ধারনা।

আসামি ফিরোজের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে নগরীর প্রবর্তক মোড়ে একটি রোগ নির্ণয়কেন্দ্র থেকে সন্ত্রাসীরা ১১ লাখ টাকা লুট করে নেয়। মারধর করা হয় একজন চিকিৎসককে। ডাকাতি ঘটনার পরদিন নগরের বায়েজিদ থানার কয়লাঘর এলাকা থেকে ফিরোজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় বায়েজিদ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (ওসি) একেএম মহিউদ্দিন সেলিম বাদি হয়ে ফিরোজকে প্রধান আসামি করে পাঁচলাইশ থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে বিশেষ ট্রাইবুনাল আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

জানা গেছে, গত ১ মে তাসফিয়া নগরীর ও আর নিজাম রোডের বাসা থেকে বেরিয়ে একটি রেস্টুরেন্টে বন্ধু আদনানের (১৬) সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। পরে ২ মে নগরীর পতেঙ্গায় নদীর তীর থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তাসফিয়ার বন্ধু আদনান মির্জা ও মিজানুর রহমান ওরফে আসিফের গ্রেপ্তারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

x