তালিপামের পুনর্জন্মের গল্প

শনিবার , ২৩ নভেম্বর, ২০১৯ at ৫:০৯ পূর্বাহ্ণ

পৃথিবীর কোথাও তালিপামে ফুল হবে না। ফল ধরবে না আরও ৯০ বছর। তবে ২০১০ সালে বিশ্বের শেষ তালিপাম গাছটি মৃত্যুর আগে যে ফল দিয়ে গেছে-সেখান থেকে চারা তৈরি করে এই প্রজাতিকে নতুন জীবন দিয়েছেন বাংলাদেশের গবেষকরা। তালিপাম দেখতে অনেকটা তাল গাছের মত। শত বছরের জীবনে মাত্র একবার ফুল ও ফল দেয়। তারপরই মৃত্যু ঘটে গাছটির। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর কোথাও বুনো পরিবেশে তালিপাম আর দেখা যায় না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থাকা শেষ তালিপাম গাছটিও ফুল দিয়ে মারা যায় ২০১০ সালে। সেই গাছের ফল থেকেই চারা তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। আর এ কাজের পেছনে মূল ব্যক্তিটি হলেন মিরপুর বাঙলা কলেজের রসায়নের শিক্ষক আখতারুজ্জামান চৌধুরী। তিনি জানান, পিএইচডি গবেষণার জন্য দুর্লভ এবং ঔষধি গুণাগুণ সমৃদ্ধ গাছের খোঁজ করতে গিয়ে বাংলাদেশ ন্যাশনাল হারবেরিয়ামের একটি বই থেকে বুনো তাল বা তালিপাম গাছের কথা জানতে পারেন তিনি। এই বুনো তাল পূর্ববাংলার স্থায়ী গাছ। ১৮১৯ সালে ভারতের পূর্বাঞ্চলে তালিপাম গাছের সন্ধান পেয়েছিলেন ব্রিটিশ উদ্ভিদবিজ্ঞানী উইলিয়াম রঙবার্গ। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডের পাশে ১৯৫০ সালে আরেকটি গাছ শনাক্ত করেন অধ্যাপক এম সালার খান। সে সময় পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমে আরেকটি গাছ ছিল। সেই গাছে ১৯৭৯ সালে ফুল আসে। শতবর্ষী সেই গাছে হঠাৎ ফুল দেখে স্থানীয়রা চমকে যায়। ভূতের আছর ভেবে ফল ধরার আগেই গাছটি কেটে ফেলেন তারা।

x