তারুণ্যের উচ্ছ্বাস : কবিতার শুদ্ধ কথামালা যাদের আলোর মশাল

যুগপূর্তিতে আজ শিল্পকলায় আবৃত্তিসন্ধ্যা

প্রবীর বড়ুয়া

শুক্রবার , ১৮ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৩:৩৪ পূর্বাহ্ণ
884

আবৃত্তি শুনতে কে না ভালোবাসে? তারপরও ব্যস্ত এ জীবনে আবৃত্তি শোনার সময়-সুযোগ হয় না অনেকের। কিন্তু দিনটি যদি হয় ছুটির দিন শুক্রবার তাহলে তো কথাই নেই। আজ ছুটির দিনে যারা কবিতা আবৃত্তি শুনতে চান তারা সন্ধ্যা ৬টায় চলে আসুন নগরীর এম এম আলী রোডের চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে।
বর্তমানে দেশে যে কয়টি আবৃত্তি সংগঠন বড় কলেবরে বছরব্যাপী নানা আয়োজনে সক্রিয় ও সফলতার সাথে পথ চলছে ‘তারুণ্যের উচ্ছ্বাস’ তাদের অন্যতম। দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ ও সক্রিয় আবৃত্তি সংগঠনটি যাত্রা করেছিল ২০০৭ সালে। দেশজুড়ে তখন জরুরি অবস্থা। ২০০৭ সালের মার্চের এমনই নাজুক সময়ে চট্টগ্রামের কবিতাপ্রিয় কয়েকজন স্বপ্নবাজ তরুণের হাত ধরে তারুণ্যের উচ্ছ্বাসের যাত্রা। এ তরুণেরা শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সরব ছিল মঞ্চে, কবিতায়, রাজপথে, সভা-সমাবেশে। মো. মুজাহিদুল ইসলামের উদ্যোগে গঠিত সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অন্য সদস্যরা হলেন কাজী গোলাম কিবরিয়া, অনুপ বড়ুয়া, মোস্তাফিজুর রহমান ও মিঠু তলাপাত্র।
তারুণ্যের উচ্ছ্বাস জন্ম থেকেই হতে চেয়েছে তিমির বিনাশী আলো। অযুত চোখের স্বপ্ন মুঠোয় নিয়ে মুক্ত চেতনার দীপশিখা ছড়িয়ে দিতে চেয়েছে প্রাণে প্রাণে।
তারুণ্যের উচ্ছ্বাসের সারথীদের স্বপ্ন, অন্ধকার থেকে আলোর দিকে ছুটে যাবার। রুদ্ধ প্রাণে মুক্ত প্রাণের পরশ দেয়ার স্বপ্ন তাদের চোখে। তাই তারুণ্যের উচ্ছ্বাস আলো জ্বালাবার মশাল হিসেবে বেছে নিয়েছে কবিতার শুদ্ধ কথামালাকে। তারা কবিতায় মঞ্চে রাজপথে বারবার উচ্চারণ করেছে মানুষের কথা, লাল সবুজের মানচিত্রের কথা, শোষণমুক্ত সমাজের স্বপ্নের কথা। তারুণ্যের উচ্ছ্বাস তাদের পথচলার এক যুগ পূর্ণ করছে এ বছর। সংগঠনটি বিগত সময়ে প্রায় শতাধিক বিষয়ভিত্তিক, নিরীক্ষাধর্মী উৎসব-অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। ২০১০ সাল থেকে নিয়মিতভাবে আয়োজন করে আসছে পাঁচ মাসব্যাপী শুদ্ধ উচ্চারণ ও আবৃত্তি কর্মশালার যেগুলোতে এ পর্যন্ত প্রশিক্ষণ নিয়েছেন সহস্রাধিক প্রশিক্ষণার্থী। তাছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি ভারতের দিল্লী, কলকাতা, আসাম, গুজরাট, ত্রিপুরা, বহরমপুরে আমন্ত্রিত হয়ে দলীয় আবৃত্তি প্রযোজনা নিয়ে অংশ নিয়েছে সংগঠনটি। তারুণ্যের উচ্ছ্বাস-এর প্রতিষ্ঠার যুগপূর্তির বছরটিকে স্মরণীয় করে রাখতে সংগঠনটি আয়োজন করেছে দর্শনীর বিনিময়ে বছরব্যাপী যুগপূর্তি অনুষ্ঠানমালার।
এ অনুষ্ঠানমালার প্রথম আয়োজনটি আবৃত্তিসন্ধ্যা ‘শুধু কবিতার জন্য’ অনুষ্ঠিত হবে আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে। তারুণ্যের উচ্ছ্বাসের বড়দের ও ছোটদের বিভাগের ৬২ জন শিল্পী এ আয়োজনে আবৃত্তি পরিবেশন করবেন। বড়দের বিভাগের শিল্পীরা পরিবেশন করবেন মুক্তিযুদ্ধ, একুশ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জীবনানন্দ দাশ এবং সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা। আর ছোটদের বিভাগের শিল্পীরা পরিবেশন করবে সুকুমার বড়ুয়া, আসলাম সানী, লুৎফর রহমান রিটন, জসীম মেহবুব, আফম মোদাচ্ছের আলী এবং অরুণ শীলের ছড়া।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংগঠক ও নারীনেত্রী জেসমীন সুলতানা পারু, সম্মিলিত আবৃত্তি জোট চট্টগ্রামের সভাপতি অঞ্চল চৌধুরী, কবি ও প্রাবন্ধিক মোহাম্মদ জোবায়ের এবং সাংস্কৃতিক সংগঠক মোহাম্মদ নোমান লিটন। বছরব্যাপী যুগপূর্তি অনুষ্ঠানমালা প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হয়েছিল তারুণ্যের উচ্ছ্বাস-এর সাধারণ সম্পাদক আবৃত্তিশিল্পী মো. মুজাহিদুল ইসলামের কাছে। তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার পর থেকে কবিতার বিশুদ্ধ কথামালাকে শক্তি করে বিগত এক যুগ তারুণ্যের উচ্ছ্বাস সমৃদ্ধ হয়েছে নানা আয়োজন উৎসবে অভিজ্ঞতায়। তারুণ্যের উচ্ছ্বাস প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশের গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনে মঞ্চে ও প্রয়োজনে রাজপথে ছিল সোচ্চার।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা বিগত সময়ের অভিজ্ঞতাকে সঞ্চয় করে এ বছর বছরব্যাপী আবৃত্তি অনুষ্ঠান, সেমিনার, প্রতিযোগিতা, প্রযোজনা ও উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে যুগপূর্তির বছরটিকে আরও সৃষ্টিমুখর করে স্মরণীয় করে রাখার উদ্যোগ নিয়েছি।’ তাদের প্রতিটি আয়োজনে বিগত সময়ের মতো সংস্কৃতিপ্রেমী সবাইকে পাশে পাওয়ার আশা রেখে আজকের আবৃত্তিসন্ধ্যা উপভোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

x