তারুণ্যই শক্তি

আশীষ কুমার বড়ুয়া

বুধবার , ১৩ নভেম্বর, ২০১৯ at ৪:৩৪ পূর্বাহ্ণ
34

বয়স কোনদিন কারো জন্য থেমে থাকে নি। ঘড়ির কাঁটার মতো চলতে থাকে। বাস্তবতা হলো, বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের শারীরিক, মানসিক পরিবর্তন দেখা দেয়। শরীরের পরিবর্তনটা নিয়ন্ত্রণহীন। কিন্তু মনের পরিবর্তনটা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা মানুষের সহজাত। আমাদের চারপাশে অনেক প্রবীণ মানুষ দেখা যায়,যারা সবসময় থাকে প্রাণোজ্বল।বয়সে বয়স্ক হলেও মনের দিকদিয়ে থাকে তারা সবসময় তরুণ। তাদের সমস্ত শরীর-মনে ছুঁয়ে থাকে প্রকৃতির সকল রঙ। আচার আচরন, কথা-বার্তায় বুঝবার কোন সূযোগ নেই, তাদের বয়স হয়েছে। সবসময় রঙিন কাপড়চোপড় পরে। প্রাণের উচ্ছলতায় সহজ-সরল-সাবলীল ভাষায় অনর্গল কথা বলে। বয়সকে তারা সংখ্যা ছাড়া কিছুই ভাবতে রাজী নয়। চলাফেরা-আড্ডা-সভা-সমিতিতে সববয়সী মানুষের সাথে তারা সমানভাবে মিশতে পারে। তথাকথিত ভাব-গম্ভীর-ভারীস্বভাবি-চরিত্র তারা ধারণ করতে রাজি না। তারা মনে করে, এতে সব শ্রেণির মানুষের সাথে একটা সীমারেখা তৈরি হয়। যেই সীমারেখায় মানুষের সাথে মনের অজান্তে সম্পর্কচ্ছেদের দেয়াল তৈরি হয়। তারা এই দেয়ালকে মনের তারুণ্য দিয়ে উপড়ে ফেলতে চায়। তারা তারুণ্যকে পছন্দ যেমন করে,মনের দিক দিয়ে তারা লালনও করে। এই বয়স্ক মানুষগুলো তারুণ্যের মাঝে নিজের তারুণ্যকে সবসময় খুঁজে ফিরে বলে তারা সবসময় থাকে তরুণ। এবং তারা কখনো জীবনকে বাঁকা-জটিল হিসেবে দেখতে অভ্যস্থ নয়। তারা মনে করে জীবন হচ্ছে নদীর মতো সততঃ বহমান। পানির মতো সহজ-সরল। জটিল মানুষকেও তারা সহজভাবে দেখে। পাওয়া না পাওয়ার হিসেব খুব একটা করে না বলে তারা থাকে চিন্তামুক্ত স্বাধীন। আর এই প্রেরণাই হচ্ছে তারুণ্যের মহাশক্তি….

x