তরকারিতে পেঁয়াজের ভালোবাসা কম

রাফিয়া আহমেদ

বৃহস্পতিবার , ২১ নভেম্বর, ২০১৯ at ৩:৫৮ পূর্বাহ্ণ
32

তখন আমি ক্লাস ফাইভে পড়ি। হোস্টেলে থেকেই পড়াশোনা করতাম। ছুটিছাটায় আম্মুর কাছে আসতাম। আমাদের বাসা তখন ছিলো দোলাইরপাড়। বাসায় বেশিরভাগ সময় একাই থাকা হতো আমার। কারণ মা খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়ে তড়িঘড়ি করে রান্না করতো। এরপর রেডি হয়ে দ্রুত অফিসে চলে যেতো। আম্মুর তখন দোলাইরপাড় থেকে মহাখালী গিয়ে অফিস করতে হতো, যার কারণে সকাল সকাল প্রথম বাসটা ধরতে হতো অফিসের উদ্দেশ্যে। তো একদিন আম্মু বরাবরের মতো খুব তাড়াহুড়া করে রান্না করে অফিসে চলে গেছে। সেদিন আমাদের বাসায় আলী মামু এসেছে। আমি আর মামু একসাথে লাঞ্চ করবো। তো খাবার দাবার সামনে নিয়ে নিচে পাকায় (ফ্লোরে) বসে খাওয়া শুরু করলাম। আমি তরকারি দিয়ে ভাত অল্প খাচ্ছি শেষবেলায় একটু ভাতের সাথে ডাল দিয়ে খাচ্ছি এরমধ্যেই তরকারির একটু ঝোল নিয়ে মাখিয়ে ডালভাত খেয়ে উঠলাম। উঠার সময় মামু বললো- ” কিরে ডালটা দেখে তো ভালই লাগতাছে, কেমন হইছে মা? ” আমি শুধু বললাম-” মামু দারুণ হইছে ” মামু ডাল মাখা ভাত মুখে দিয়েই ফুরুত করে মুখের খাবার ফেলে দিয়ে বললো-” অই ফাজিল ডাইলে তো লবণই দেয় নাই আপা, তাইলে ডাইল আবার ভাল হইলো কেমনে?” আমি তখন বললাম-” মামু আমি তো জানি ডাইলে লবণ হয় নাই তাই তো তরকারির ঝোল দিয়া মাইখা ডাল ভাত খাইয়া নিছি, তুমিও এলা এমনে খাও।” আমি অবশ্য লবণ কমই খাই। আসলে ঘটনা হলো লবণ তো আর নিত্যদিন কিনতে হয়না, মাসে একবার কিংবা দুই মাসে একবার কিনলেই হয়। আজকে শুনলাম লবণের দাম নাকি বাড়ছে! রিকশাওয়ালা কয়-” আপা ভাড়া দশ টাকা বেশি লাগবো” আমি অবাক হয়ে বললাম-” কেন, এখানে ভাড়া তো ২০ টাকা ১০ টাকা কোন সুখে চান?” জবাবে বললো-” আপা লবণের দামও বাড়তাছে হেই সুখে ভাড়া ১০ টাকা বাড়ছে।” বাসায় আসার পর মায়ের মুখে লবণের দাম নিয়া কথা শুনলাম। ইদানীং অবশ্য তরকারিতে পেঁয়াজের ভালবাসা কম দেখতাছি, এখন থেকে হয়তো লবণের কমতি চোখে পড়বে। তখন বাসায় রেস্ট নিতে নিতে উপরোক্ত ঘটনাটা মনে পড়লো। আর মনকে এই বলে সান্ত্বনা দিলাম যে, ” বেশি লবণ খাওয়া ভালো না তাহলে রক্ত পানি হইয়া যায় এবং কাচা লবণ খাওয়াও ঠিক না। আর তাছাড়া তরকারি যত পদের রান্না করুক না কেন যেকোনো এক পদের তরকারিতে একটু লবণ বাড়াই দিলেই চলবে।”

x