আবদুশ শাকুর : জীবনরসিক কথাশিল্পী

রবিবার , ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ at ৬:০১ পূর্বাহ্ণ
62

আবদুশ শাকুর একাধারে ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, গল্পকার, রবীন্দ্র গবেষক ও সংগীতজ্ঞ। গোলাপপ্রেমী হিসেবেও তাঁর যথেষ্ট সুখ্যাতি ছিল। জ্ঞান, মেধা ও মনন এই ত্রয়ীর সমন্বয়ে সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনে আবদুশ শাকুর হয়ে উঠেছিলেন অনন্য। আজ প্রতিভাবান এই সাহিত্যস্রষ্টার ৭৭তম জন্মবার্ষিকী।

আবদুশ শাকুরের জন্ম ১৯৪১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালির রামেশ্বরপুর গ্রামে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্সসহ এম.এ করে হল্যান্ডে উন্নয়ন অর্থনীতিতে এমএস ডিগ্রি নেন। দেশে ফিরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে অধ্যাপনার মাধ্যমে কর্মজীবনের সূচনা। পরবর্তীসময়ে যোগ দেন পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে। অবসর নেবার আগে তিনি বাংলাদেশ সরকারের সচিব ছিলেন। আবদুশ শাকুরের রচনায় এক সুকুমার শিল্পী সত্তার পরিচয় মেলে। কল্পনা, বাস্তবতা, সুগভীর চিন্তা আর অসামান্য রসবোধে তা এক ভিন্ন মাত্রা পায়। আবদুশ শাকুরের উল্লেখযোগ্য রচনাবলীর মধ্যে উপন্যাস: ‘ভালোবাসা’, ‘উত্তরদক্ষিণ সংলাপ’, ‘ক্রাইসিস’; ছোটগল্প: ‘শারীর’, নির্বাচিত গল্প’, ‘গল্পসমগ্র’, ‘আঘাত’, ‘এপিটাফ’; কিশোর গল্পগ্রন্থ ‘আক্কেলগুরুম’; রম্যরচনা ‘রসিক বাঙালি’, ‘নির্বাচিত করচা’, চুয়াত্তরের করচা’, ‘রম্যসমগ্র’; সংগীত বিষয়ক গবেষণাগ্রন্থ: ‘সংগীত সংগীত’, ‘মহান শ্রোতা’, ‘বাঙালির মুক্তির গান’; রবীন্দ্রগবেষণামূলক গ্রন্থ ‘মহামহিম রবীন্দ্রনাথ’, ‘পরম্পরহীন রবীন্দ্রনাথ’ এবং ‘রবীন্দ্রনাথকে কতটুকু জানি’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

তাঁর অসাধারণ গোলাপপ্রীতির পরিচয় পাওয়া যায় ‘গোলাপ সংগ্রহ’ এবং ‘গোলাপনামা’ গ্রন্থ থেকে। তাঁর বাড়ির লনে এবং ছাদের বাগানে নানা প্রজাতির গোলাপের চাষ করতেন নিজ হাতে। স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয় গোলাপ সমিতির স্বর্ণপদকও পেয়েছেন। ‘গোলাপ সংগ্রহ’ বইটির জন্য প্রথম আলো বর্ষসেরা বইয়ের পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া বাংলা একাডেমী পুরস্কার, অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার, শ্রুতি সাংস্কৃতিক একাডেমী পুরস্কার এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে অমিয়ভূষণ পুরস্কারে ভূষিত হন। বেশ কিছু নাটকও রচনা করেন তিনি। তিন খন্ডে রচিত আত্মজীবনী ‘কাঁটাতে গোলাপও থাকে’ তাঁর একটি উল্লেখযোগ্য রচনা। অসাধারণ গদ্যশৈলী, অনবদ্য প্রকাশভঙ্গিমা, বুদ্ধিদীপ্ত কাব্যময় রচনারীতি তাঁকে দিয়েছে বিশিষ্টতা। ২০১৩ সালের ১৫ জানুয়ারি প্রয়াত হন জীবনশিল্পী আবদুশ শাকুর।

x