ঢিমেতালে চলছে কাজ ধুলোবালিতে দুর্ভোগ

উখিয়ায় সড়ক উন্নয়ন

রফিকুল ইসলাম, উখিয়া

শনিবার , ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ at ৫:৩৫ পূর্বাহ্ণ
89

কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক উন্নয়নে বেড়েছে জনদুর্ভোগ। মাত্রাতিরিক্ত ধুলো বালিতে মানুষের মধ্যে সর্দি, কাশি শ্বাসকষ্ট জনিত রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে। ঠিকাদার ও সড়ক বিভাগের গাফেলতি ও অনিয়মের ফলে জনদুর্ভোগে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে মানুষ। সড়ক বিভাগ বলেছে উন্নয়নের সুফল পেতে কিছুটা দুর্ভোগ সইতে হবে।
কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের কক্সবাজারের লিংরোড থেকে উখিয়া পর্যন্ত উন্নয়নের কাজ চলছে ধীরগতিতে। এতে সড়কের যান চলাচল বিঘ্নিত হয়ে দূরপাল্লার যাত্রীসহ স্থানীয় পথচারী এবং স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। একদিকে কাজের ধীরগতি অন্যদিকে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে ধুলা বালিতে নাজুক হয়ে পড়েছে এ সড়কের পুরো উখিয়া অংশ।
২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের কারণে পর্যটন শহর কক্সবাজার-উখিয়া ও টেকনাফে হঠাৎ কর্মচাঞ্চল্য বেড়ে যায়। সরকারি ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সেবা সংস্থাগুলোর (এনজিও) কর্মকাণ্ড বেড়ে দাঁড়ায় কয়েক গুণে। এতে সড়কগুলোয় হঠাৎ করে বেড়ে যায় হাল্কা ভারী যানবাহনের সংখ্যা ও চাপ।
সওজ সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারে সড়ক বিভাগের অধীনে থাকা সড়ক-মহাসড়কের পরিমাণ ৫৫০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১৫৮ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক। জাতীয় এ মহাসড়কের ১৫৮ কিলোমিটারের মধ্যে কক্সবাজার-উখিয়া-টেকনাফ সড়কের দৈর্ঘ্য ৭৯ কিলোমিটার। এ সড়ক দিয়েই কক্সবাজার শহর ও দেশের বিভিন্ন এলাকা হতে সড়ক পথে চট্টগ্রাম হয়ে উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাতায়াত করেন দেশি-বিদেশি এনজিও সহ বিভিন্ন সেবা সংস্থার কর্মী ।
মাত্র ১৮ ফুট প্রস্তের এ সড়ক দিয়ে দৈনন্দিন নিয়মিত চলাচলকারী প্রাইভেট কার, গণপরিবহন ও পণ্যবাহী যানবাহনের যাতায়াত ছিল । তাছাড়াও এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাদের জন্য খাদ্য ও বিভিন্ন পণ্য পরিবহন হয়ে আসছে। জাতিসংঘসহ দেড় শতাধিক দেশি বিদেশি উন্নয়ন সহযোগী সেবা সংস্থা গুলোর কর্মীদের এক হাজারের মত যানবাহন চলাচল করছে।
এতে অতিরিক্ত যাত্রী ও ভারী পণ্যবাহী যানবাহনের চাপে সড়কটিতে সৃষ্টি হয় প্রচুর যানজট। সড়কের উখিয়া পর্যন্ত অবস্থা বেহাল হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত ভারী যানবাহন যাতায়াতের কারণে ইতিমধ্যে এ সড়কের উখিয়ার কুতুপালং, মরিচ্যা, কোটবাজার, উখিয়া সদর, বালুখালী, থাইংখালী ও পালংখালী বাজার ও বাস স্টেশনে সড়কের চিহ্ন খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে উঠে।
এসব কারণে দ্রুত সময়ে সড়কটি সম্প্রসারণ ও সংস্কারের লক্ষ্যে একটি জরুরি প্রকল্প গ্রহণ করেছে সওজ। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) জরুরি অর্থায়নে ৭৯ কিলোমিটার সড়কটি বিদ্যমান ১৮ ফুট থেকে উভয় পাশে ৩ ফুট করে সম্প্রসারণ করে ২৪ ফুটে উন্নীত করা হচ্ছে।
বাজার ও বাস স্টেশন অংশগুলোয় এটি প্রায় ২৮ থেকে ৪৫ ফুটে বর্ধিত করা হচ্ছে। বাজার ও বাস স্টেশন অংশে সম্প্রসারিত সড়ক হবে আরসিসি পেভমেন্ট ঢালাই। যা বিটুমিন সড়কের চেয়ে অনেক টেকসই ও অধিক ধারণ ক্ষমতা সক্ষম বলে সওজ সূত্রে জানা গেছে। পাশাপাশি এ সড়কের ২৭টি ছোট-বড় কালভার্টকে সড়কের চেয়েও বড় আকারে সম্প্রসারণ করা হবে। তিনটি প্যাকেজে বাস্তবায়িত হবে ৪৫৮ কোটি টাকার ৭৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যে এ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প। গত অর্থ বছরে কাজ শুরু হলে অধিকতর ব্যস্ত সড়ক হিসেবে কাজের অগ্রগতি কেমন সন্তোষজনক নয়। সড়কের প্রায় স্থানে কেটে ও খুড়ে ফেলে রাখলেও কাজ না করায় চলাচলকারী যাত্রী সাধারণের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। ব্যস্ততম মহাসড়ক ও জনপথ হিসেবে উন্নয়ন চলমান সড়কে জনদুর্ভোগ নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ মানছে না সওজ ও ঠিকাদার। দিন রাতে একাধিক বার পানি দিয়ে ধুলো বালি না উড়ার মত ভিজিয়ে রাখার নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের সংস্থান থাকলেও ধুলো বালি নিয়ন্ত্রণে সড়কে পানি দেওয়া হয় না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। উখিয়া নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব গফুর মিয়া চৌধুরী বলেন, সড়ক উন্নয়নে মাত্রাতিরিক্ত ধুলো বালিতে দোকান-পাট, বিভিন্ন অফিস ও স্থাপনা বিবর্ণ হয়ে পড়ছে। উখিয়া মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশিদ বলেন, প্রচণ্ড ধুলো বালিতে অনেক শিশু সর্দি কাশিতে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে।
উখিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মেরাজ হোসেন চয়ন বলেন, গত কয়েক মাস ধরে সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট জনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। শিশু শিক্ষার্থী ও বয়স্ক লোকজন এতে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। সড়ক উন্নয়ন কাজের মাত্রাতিরিক্ত ধুলো বালির কারণে এগুলো বাড়ার কারণ বলে তিনি মত দেন।
কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা জানান, সড়কের উন্নয়ন কাজে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি একটু কম। সমস্যা নেই ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত কাজের নির্ধারিত সময়সীমা রয়েছে। অত্যাধিক ধুলো বালির ব্যাপারে তিনি বলেন, উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে হলে দুর্ভোগ কিছুটা সহ্য করতে হবে। ঠিকাদার সড়কে নিয়মিত পানি দেওয়ার কথা থাকলেও কেন দিচ্ছে না তা দেখবেন বলে জানান তিনি।