ঢাকার দুই ব্যবসায়ী কারাগারে

মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ
408

ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে আমদানিকৃত পণ্য খালাস করে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ঢাকার দুই ব্যবসায়ীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের (বিশেষ জজ) মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন দুইজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আসামিরা হলেন, এমএ আলিম ও মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।
দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, ঢাকার এ কে ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী এম এ আলিম ও অন্য দুই কাস্টমস কর্মকর্তা পরস্পর যোগসাজশে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানিকৃত পণ্য খালাসের মাধ্যমে ১৫ লাখ ৪৫ হাজার ৯৫৩ টাকা ও ১৩ লাখ ৮৬ হাজার ৩৮০ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেয়। এ অভিযোগে দুদক কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শেখ গোলাম মাওলা চট্টগ্রামে দুইটি পৃথক মামলা দায়ের করেন।
একইভাবে ঢাকার মেসার্স যেটা ইন্টারন্যাশনালের সত্ত্বাধিকারী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ও অন্য দুই কাস্টমস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে ২৫ লাখ ১২ হাজার ২০৬ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদক কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সহিদুর রহমান চট্টগ্রামে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে দুদকের বিশেষ পিপি অ্যাড. কাজী ছানোয়ার আহমেদ লাভলু জানান, মামলার আসামি দুইজন পৃথকভাবে হাইকোর্ট থেকে চার সপ্তাহের জামিন নিয়েছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষে হাইকোর্ট তাদেরকে জেলা ও দায়রা জজ আদালত চট্টগ্রামে হাজির হওয়ার আদেশ দেন। এরই পরিপ্র্রেক্ষিতে গতকাল দুইজন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে বিচারক শুনানি শেষে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলা ৩টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
এর আগে ৭ কাস্টমস কর্মকর্তাসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আসামিরা ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে প্রতারণা ও জালিয়াতি করে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানিকৃত পণ্য খালাস করে ২ কোটি ৬৬ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৭ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এসব পাওনার বিষয়ে দাবিনামা জারি করলেও তারা কর্ণপাত না করে সরকারি রাজস্ব আত্মসাৎ করে।