ঢাকাকে বিদায় করে ফাইনালের আশা জিইয়ে রাখল চট্টগ্রাম

ক্রীড়া প্রতিবেদক

মঙ্গলবার , ১৪ জানুয়ারি, ২০২০ at ৫:৪৫ পূর্বাহ্ণ

এবারের বিপিএলে শুরুটা দুর্দান্ত করেছিল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। কিন্তু শেষের দিকে এসে সে ছন্দ আর ধরে রাখতে পারেনি। ফলে পয়েন্ট তালিকায় তৃতীয় স্থানটি নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় লিগ পর্ব শেষে। যে কারণে ফাইনালে যেতে হলে একটি ম্যাচ বেশি খেলতে হচ্ছে চট্টগ্রামকে। তবে সে পথে বেশ ভালই শুরু করেছে চট্টগ্রাম। বঙ্গবন্ধু বিপিএলের ফাইনালের পথে এগিয়ে থাকল চট্টগ্রাম। এলিমিনেটর ম্যাচে ঢাকা প্লাটুনকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। আগামীকাল বুধবার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে চট্টগ্রাম লড়বে ফাইনালে ওঠার শেষ ধাপে। হাতে ১৪ সেলাই নিয়েও মাঠে নেমে গিয়েছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। কিন্তু অধিনায়কের এমন সাহসিকতাও খুব উজ্জীবিত করতে পারল না ঢাকা প্লাটুনকে। ব্যাটে-বলে দারুন পারফরম্যান্স করে ঢাকাকে সহজে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে টিকে থাকল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে গতকাল সোমবার প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ঢাকা ২০ ওভারে করতে পেরেছিল ১৪৪ রান। জবাব দিতে নেমে চট্টগ্রাম জিতেছে ১৪ বল বাকি রেখে। ২৩ রানে ৩ উইকেট নিয়ে চট্টগ্রামের জয়ের ভিত গড়ে দেওয়া পারফরম্যান্সে ম্যাচের সেরা হয়েছেন রায়াদ এমরিট।= ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে ঢাকা প্লাটুন। যার শুরুটা ১৫ রানের মাথায় তামিম ইকবালকে দিয়ে। আর ঢাকা শিবিরে প্রথম আঘাতটা হানেন রবিেল হোসেন। এই পেসারকে বেরিয়ে এসে মারতে গিয়ে বোল্ড হন ১০ বলে ৩ রান করে। এরপ শুরু ঢাকার ব্যাটসম্যানদের বাজে শট খেলে আউট হওয়ার প্রদর্শনী। বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদকে তুলে মারতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে এলেন এনামুল হক। দলে ফেরা লুইস রিস সুযোগ হেলায় হারালেন মাহমুদউল্লাহকে উইকেট উপহার দিয়ে। এ দুজনের কেউই রানের খাতা খুলতে পারেনি। এ নিয়ে ১১ বার শূন্য রানে আউট হয়ে এনামুল গড়েছেন বিপিএল রেকর্ড। তবে একপ্রান্তে মোমিনুল খেলছিলেন দারুণ। কিন্তু অন্যদের ব্যর্থতায় পাওয়ার প্লে শেষে ঢাকার রান যখন ৩ উইকেটে কেবল ২৮ তাতে মুমিনুলেরই ছিল ১৭ বলে ২০ রান । তিন নম্বর থেকে পাঁচ নেমে সুবিধা করতে পারেননি মেহেদি হাসান। শুরুতে সহজ ক্যাচ দিয়েও বেঁচে গেলেও এবারের বিপিএলে দারুণ পারফর্ম করা অলরাউন্ডার কাজে লাগাতে পারেননি জীবন পাওয়াটাকে । ফিরেছেন রায়ান এমরিটের বাউন্সারে বিভ্রান্ত হয়ে। এমরিটের পরের বলেই নুরুল হাসান সোহানের দারুণ ক্যাচে পরিণত হয়ে ফিরেন জাকের আলি। এমরিট-সোহান জুটির সমন্বয়ে কাটা পড়েন ঢাকার ভরসা হয়ে থাকা মুমিনুলও। উইকেটের পেছনে আরেকটি ভালো ক্যাচ নেন সোহান। মোমিনুল থামেন ৩১ বলে ৩১ রান করে। এরপর নাসুমকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে যখন ফেরেন আসিফ আহমেদ তখন ১৩ তম ওভার শেষে ঢাকা প্লাটুনের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৬০ রান। সবচাইতে কম রানের লজ্জায় ডোবার অপেক্ষায় যখন ঢাকা প্লাটুন তখন হাল ধরেন দুই বিদেশী পাকিস্তানী শাদাব খান এবং লংকান থিসারা পেরেরা। ঢাকার ঘুরে দাঁড়ানোর পর্ব শুরু তখনই। থিসারা পেরেরাকে নিয়ে ৩০ বলে ৪৪ রানের জুটি গড়েন শাদাব। ১৩ বলে ২৫ রানের ক্যামিও খেলে আউট হন থিসারা। এরপর সময় যতই শেষের দিকে গড়িয়েছে ততই যেন তান্ডব চালিয়েছেন শাদাব খান। মূলত তারই তান্ডবে লজ্জা থেকে দেড়শর কাছাকাছি চলে যায় ঢাকার স্কোর। পাকিস্তানের এই লেগ স্পিনারের সৌজন্যেই শেষ ৩ ওভারে ৫১ রান তোলে ঢাকা। জিয়াউর রহমানের করা শেষ ওভার থেকে আসে ২৩ রান। ৪১ বলে ৫টি চার এবং ৩টি ছক্কার সাহায্যে ৬৪ রান করে অপরাজিত থাকেন শাদাব খান। চট্টগ্রামের পক্ষে সফল বোলার রায়ান এমরিত। ২৩ রানে ৩ টি উইকেট নিয়েছেন তিনি। এছাড়া ২টি করে উইকেট নিয়েছেন রুবেল হোসেন এবং নাসুম আহমেদ। ১৪৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম দুই ওভারে একেবারে নিজেদের বাঙবন্দী করে রেখেছিলেন চট্টগ্রামের দুই ওপেনার ক্রিস গেইল এবং জিয়াউর রহমান। তবে তৃতীয় ওভার থেকে হাত খোলা শুরু করেন জিয়াউর রহমান। মাশরাফির সে ওভার থেকে ১৫ রান তুলে নেন জিয়াউর রহমান। ওপেনিংয়ে তার আগ্রাসী ব্যাটিংয়েই উড়ন্ত সূচনা পায় চট্টগ্রাম। মেহেদির অফ স্পিনে দুটি ছক্কা মারলেও ক্রিস গেইল বাকি সময়টায় ছিলেন সাবধানী। মূলত জিয়ার সৌজন্যেই ৫ ওভারে ৪১ তুলে ফেলে দল। ১২ বলে ২৫ করে আউট হন জিয়া। তিন নম্বরে নেমে আক্রমণের সেই ধারা অব্যাহত রাখেন ইমরুল কায়েস। চট্টগ্রাম এগোতে থাকে অনায়াসে। মাশরাফির স্পেলের শেষ দুই বলে দুটি ছক্কায় ইমরুল রাখেন দাপটের ছাপ। থিসারা পেরেরাকে টানা দুই বলে চার ও ছক্কায় সহজ করে দেন রান রেটের হিসাব। দুই বাঁহাতি দেখে হয়তো লেগ স্পিনার শাদাব খানকে আক্রমণে আনছিলেন না মাশরাফি। সেই শাদাবই পরে ভাঙেন জুটি। নিজের প্রথম ওভারে ফেরান ২২ বলে ৩২ রান করা ইমরুলকে। এরপর শাদাব নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান গেইলকেও। ৪৯ বলে ৩৮ করে ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যান আউট হন মাশরাফির এক হাতের ক্যাচে। তবে চট্টগ্রামের জিততে সমস্যা হয়নি। দুর্দান্ত ঝড়ো ইনিংসে দলের জয় সঙ্গে নিয়ে ফেরেন মাহমুদউল্লাহ। টানা দুই ছক্কায় ম্যাচ শেষ করেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। ৪ ছক্কায় চট্টগ্রাম অধিনায়ক অপরাজিত থাকেন ১৪ বলে ৩৪ রান করে। ব্যাট হাতে ঢাকার সেরা ব্যাটসম্যান শাদাব খান বল হাতেও দলের সেরা। ৩২ রানে নিয়েছেন দুই উইকেট। ফাইনালের আগে বিদায় নিল ঢাকা প্লাটুন। এবার ফাইনালের অপেক্ষায় চট্টগ্রাম চ্যারেঞ্জার্স।

x