ড্রীম উইভারস একাডেমীতে হ্যালোইন উৎসব

তানভীরুল ইসলাম নাহিদ

বৃহস্পতিবার , ৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ at ৫:৩৩ পূর্বাহ্ণ
129

হ্যালোইনের কথা আমরা কম বেশি সবাই শুনেছি। প্রতিবছর অক্টোবরের শেষ দিনটি অর্থাৎ ৩১ তারিখ মৃত আত্মাদের স্মরণে পালিত হয় এ দিবস। বিগত কয়েক বছরে পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যের অলিগলির প্রায় সর্বত্রই হ্যালোইন ডে পরিচিতি পেয়েছে। হ্যালোইন’ বা ‘হ্যালোউইন’ শব্দটি এসেছে স্কটিশ ভাষার শব্দ ‘অল হ্যালোজ’ ইভ থেকে। হ্যালোইন শব্দের অর্থ ‘শোধিত সন্ধ্যা বা পবিত্র সন্ধ্যা’। সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিতহয়ে ‘হ্যালোজ’ ইভ’ শব্দটি এক সময় ‘হ্যালোইন’এ রূপান্তরিত হয়।প্রায় দুই হাজার বছর আগে বর্তমান আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও উত্তর ফ্রান্সে বসবাস করতো কেল্টিক জাতি। নভেম্বরের প্রথম দিনটিতাদের নববর্ষ বা ‘সাহউইন’ হিসাবে পালন হতো। এই দিনটিকে তারা গ্রীষ্মের শেষ এবং অন্ধকারের বা শীতের শুরু মনে করতো। আর অক্টোবরের শেষ একটি দিনকে মনে করতো সবচেয়ে খারাপ রাত, যেই রাতে সকল প্রেতাত্মা ও অতৃপ্ত আত্মা তাদের মাঝে ফিরে আসে। এদের সঙ্গে যদি মানুষের দেখা হয় তবে সেই মানুষের ক্ষতি হতে পারে। আর তাই মানুষরা এই রাতে বিভিন্ন রকম ভূতের মুখোশ ও কাপড় পরে কাটাতো। আর রাতের বেলা আগুনের পাশে মুখোশ পরে বৃত্তাকারে একসঙ্গে ঘুরতে ঘুরতে মন্ত্র বলা, নিজের পরিবার ছোট হলে অন্যের বাড়িতে থাকাসহ সামাজিকভাবে একত্রিত হত। সময়ের পরিক্রমায় কেল্টিক জাতির এই ‘সাহউইন’ উৎসবই এখনকার দিনের ‘হ্যালোইন’ উৎসব। অক্টোবরের ৩১ তারিখ মৃতের দেবতা সামান সব মৃত আত্মাদের পৃথিবীতে আহ্বান জানান। হ্যালোইনের দিনটি সম্পর্কে লোকজ ধারণা এটি। হ্যালোইন উৎসব পালনের শুরুটা ছিলো মধ্যযুগে। প্রাচীন কেল্টদের পালিত সামহাইন উৎসব থেকেই মূলত হ্যালোইনের সূত্রপাত। যত ভূতপ্রেত আছে, সবাই নাকি এ রাতে চলে আসে লোকালয়ে। আর সেই সব ভূতপ্রেতদের খুশি করতে না পারলে তো বিপদ! আর সে জন্যই এই রাতটিতে পালন করা হয় হ্যালোইন উৎসব। অক্টোবর মাসের শেষ দিনে এই হ্যালোইন পালন করা হয়। এই হ্যালোইন পালন করা নিয়ে ইউরোপআমেরিকায় রাতটি উদযাপন করতে সেখানে প্রস্তুতি চলে মাসজুড়েই। এখন তো পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই হ্যালোইন পালিত হয়। ইউরোপআমেরিকায় তো বটেই, পালিত হয় জাপানে, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডে এমন কি বাংলাদেশেও। হ্যালোইন উপলক্ষে ড্রীম উইভারস একাডেমী, আয়োজন করেছিল, নানা অনুষ্ঠান মালার। স্কুল সেজেছিল ভিন্ন আঙ্গিকে। এক দিকে সাজ সাজ রব, আবার অন্যদিকে ভয়ংকর পরিবেশ, তবে ভয়ংকর পরিবেশটায় ছিল শিশুদের আনন্দ উৎসবের স্থল।

আলো আঁধারের মাঝে ভূতুড়ে অবয়ব জানান দিচ্ছে এটা ভূতের রাজ্য। আর এই রাজ্যের ভূতগুলো হলো ড্রীম উইভারস এর ছোটো বন্দুরা। হরেক রকম মুুখোশ, কাল জামা, পেইজ পেইন্টিং এক নান্দনিক ভূতের মেলা। শিশুরা যেন কিছু সময় হারিয়ে গিয়েছিল তাদের কল্পনার জগতে। ভয় কে তারা জয় করেছে। তারা যে শুধু কস্টিউম নিয়েছে তা কিন্তু নয়। কস্টিউম এর সাথে সাথে তাদের অঙ্গ ভঙ্গিতে পুরো পরিবেশটাই ছিল চোখ কাড়ার মতো। যার যার মতো সবাই অভিনয়ও করে যাচ্ছিল। তাদের স্বপ্নের ভূবনে তারাই যেন রাজা। স্কুলের এ আয়োজনগুলো শিশুদের সৃজনশীলতাকে গতিশীল করে। ড্রীম উইভারস একাডেমী এ ভাবে বাংলাদেশের জাতীয় দিবস থেকে শুরু করে, নানা ফান ডে এবং হরেক রকম ইভেন্ট এর আয়োজন করে থাকে,যা শিশুদের প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।লেখা পড়ার পাশাপাশি শিশুদের ক্রিয়েটিভিটি স্কুলের সুনাম দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ড্রীম উইভারস একাডেমী তাদের সুপরিকল্পিত শিক্ষা ব্যবস্থায় আরো এগিয়ে যাক এ প্রত্যাশা করছি।

x