ডেঙ্গু জ্বরের কারণ ও লক্ষণ

শনিবার , ১৩ জুলাই, ২০১৯ at ৬:১৩ পূর্বাহ্ণ
497

ইদানীং ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। এই জ্বরে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে বলে এটি নিয়ে ভীতি কাজ করে সকলের মাঝে। প্রতিবছর বর্ষাতে বাড়ে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ। ডেঙ্গু সাধারণত পাঁচ থেকে সাত দিন থাকে। তবে এখন দেখা যাচ্ছে এই জ্বর আরো কম সময় ধরে থাকছে।
কীভাবে ছড়ায়?
ডেঙ্গু জ্বরের উৎপত্তি ডেঙ্গু ভাইরাসের দ্বারা এবং এই ভাইরাসবাহিত এডিস ইজিপ্টাই নামক মশার কামড়ে। ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশা কাউকে কামড়ালে সেই ব্যক্তি চার থেকে ছয় দিনের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হতে পারে। এবার এই আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোনো জীবাণুবিহীন এডিস মশা কামড়ালে সেই মশা ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশায় পরিণত হয়। এভাবে একজন থেকে অন্যজনে মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়িয়ে থাকে।’
লক্ষণ
ডেঙ্গুতে জ্বর আসবে। জ্বর কম হতে পারে, আবার বেশিও হতে পারে। এর সঙ্গে গায়ে ব্যথা হয়। দেখা যায়, জ্বর তিন-চার দিন পর ভালো হয়ে যায়। তবে এরপর প্লেটিলেট কম হতে থাকে। দেখা যায়, মাঝখানে একটি বিরতি দিয়ে আবার একটি জ্বর আসে। এই জ্বরের সঙ্গে প্রচণ্ড মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা এবং চোখের পেছনে ব্যথা করবে। শরীর এমন ব্যথা করবে যেন মনে হবে কেউ হাতুড়ি দিয়ে পেটাচ্ছে। জ্বর সাধারণত দুই দিন থাকার পর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় র‌্যাশ দেখা দেবে। যদি জ্বর জটিল পর্যায় হয়, তাহলে মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়তে পারে, রক্তবমি হতে পারে। কারো কারো ক্ষেত্রে পায়খানার সঙ্গে রক্ত যেতে পারে। কারো কারো ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। আপার অ্যাবডোমিনে বা ওপরের পেটে পানি চলে আসতে পারে। এই জ্বরে যেহেতু পানিশূন্যতা বেশি হয়, তাই প্রগ্রাবের পরিমাণ কমে যেতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কিডনি বিকল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ঘাম হতে পারে। বমি বমি ভাব হতে পারে, খাবারে অরুচি হতে পারে। অন্যান্য ভাইরাস জ্বরের যে লক্ষণ, সেগুলো প্রায় সবই ডেঙ্গু জ্বরে থাকবে।
ডেঙ্গু জ্বরের যে বাহক, তার বায়োলজিক্যাল চরিত্র ও মানুষের বায়োলজিক্যাল চরিত্রের জেনেটিক পরিবর্তনের কারণে ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ছাড়াও খুব জটিল অবস্থায় চলে যেতে পারে। ডেঙ্গু জ্বরের স্টেরিওটাইপ চারটি। আগে ঢাকা শহরে যে স্টেরিওটাপ দুই ও তিন দিয়ে আক্রান্ত হতো। তবে এখন যেটি পাওয়া যাচ্ছে সেটি হলো এক নম্বর। লক্ষণ উপসর্গ একটু আলাদা হয়ে যাচ্ছে। এর জটিলতা আলাদা। ডেঙ্গু জ্বর যার একবার হয়, তার আবার হলে জটিলতা বাড়ে। চিকুনগুনিয়ায় সাধারণত একবার হলে আর হয় না। তবে ডেঙ্গু একবার হলেও আবার হতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
ডেঙ্গু জ্বরের বেলায় জ্বর আসার সঙ্গে সঙ্গে সচেতন হতে হবে। রক্ত পরীক্ষা করতে হবে। তবে জ্বর এলেই যে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে বা আতঙ্কিত হতে হবে, তা নয়। ডেঙ্গু জ্বর হলে একটি বিষয় খুব খেয়াল রাখতে হবে সেটি হলো, এ সময় পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিতে পারে। রোগী পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করছে কি না এ বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। আর প্রেশার কমে যাচ্ছে কি না এটি দেখতে হবে।’

ডেঙ্গু হলে সাধারণ জ্বরের চেয়ে বেশি সাবধানতা প্রয়োজন। এ জন্য আমাদের যা জানতে ও মানতে হবে : ডেঙ্গু ভাইরাসজনিত জ্বর। অন্য সব জ্বর, যেমন টাইফয়েড, সাধারণ জ্বরের সঙ্গে ডেঙ্গু জ্বরের মূল পার্থক্য হলো প্রথম দিন থেকেই জ্বর অনেক বেশি থাকে (১০২-১০৩ ডিগ্রি)। সঙ্গে মাথাব্যথা, চোখের পেছনেসহ দেহের বিভিন্ন অংশে ব্যথা হয়ে থাকে। এছাড়া বমি হওয়া, খেতে না পারা এমনকি ক্লান্তি ভাবও হতে পারে। বাড়ির কারো ডেঙ্গু হলে স্বাভাবিক খাবারের সঙ্গে পানি, খাওয়ার স্যালাইন, স্যুপ, দুধ, তাজা ফলের রস বেশি বেশি পান করতে দিন।
ডেঙ্গু সারাতে প্রাথমিকভাবে পান করুন পেঁপের পাতার রস। পেঁপে পাতার রসে কাইমোপ্যাপিন ও প্যাপাইন রয়েছে৷ যা রক্তের প্লেটলেটের সংখ্যা ও রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে। ফলে, ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা বেড়ে যায়।
পেঁপের পাতার রস করতে প্রথমে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে, পরিষ্কার পাটা বা হাম্বলদিস্তায় থেঁতো করে নিন। এবার রস ছেকে নিয়ে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে নিন। তৈরি হয়ে গেলো পেঁপে পাতার জুস, ডেঙ্গু রোগীকে প্রতিদিন তিন বেলা তিন কাপ পরিমাণ পান করতে দিন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এমনিতেই কয়েক দিনেই ডেঙ্গু জ্বর ভালো হয়ে যায়। তবে ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি জ্বর হলে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। ফলে কোষের অভ্যন্তরীণ তরল কমে যায়, আশপাশের রক্তনালিতে চাপ পড়ে, শুরু হয় রক্তক্ষরণ। বেশি মাত্রায় রক্তক্ষরণ চলতে থাকলে অণুচক্রিকা বা প্লেটলেট সংখ্যায় কমে যায়। জ্বর যদি খুব বেশি হয়, অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আমরা জানি এডিস মশা কামড় দিলেই ডেঙ্গু হয়। আর রাতে নয়, এডিস মশা দিনে কামড়ায়। তাই দিনের বেলায় ঘুমালেও মশারি ব্যবহার করুন। ঘর-বাড়ি ও এর চারপাশে পড়ে থাকা ক্যান, টিনের কৌটা, মাটির পাত্র, বোতল বা পানি ধারণ করতে পারে এমন পাত্র ধ্বংস করে ফেলতে হবে, যেন পানি জমে মশা না বাড়তে পারে। প্রয়োজনে নিজেদের উদ্যোগে নিয়মিত মশার স্প্রে বা ওষুধ ছিটাতে হবে।

x