ট্রেনচালক ও স্টেশন মাস্টার সঙ্কট প্রকট

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগেই চলছে বেশিরভাগ ট্রেন

শুকলাল দাশ

মঙ্গলবার , ২৫ জুন, ২০১৯ at ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে লোকোমাস্টার ও স্টেশন মাস্টার সংকট প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন-নতুন লোক নিয়োগ দেয়া হলেও অভিজ্ঞতার অভাবে সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। রেলওয়ে সূত্র জানায়, প্রতিটি ট্রেনে একজন লোকোমাস্টারের (মূল চালক) সঙ্গে এএলএম থাকেন। লোকোমাস্টার হওয়ার বিভিন্ন যোগ্যতার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, শারীরিকভাবে সবল এবং তীক্ষ্ণ দৃষ্টিসম্পন্ন হওয়া। এএলএম থেকে লোকোমাস্টার বা পূর্ণাঙ্গ চালক হতে কমপক্ষে ১০-১২ বছর সময় লাগে। কেবল ট্রেন চালনাই নয়, তাদের ট্রেনের ইঞ্জিনের যান্ত্রিক ও তড়িৎ (মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল) দিকগুলো শিখতে হয়। জানতে হয় সিগন্যালব্যবস্থা থেকে শুরু করে ইঞ্জিনের রক্ষণাবেক্ষণসহ ছোটখাটো মেরামতের কাজও। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মেকানিক্যাল বিভাগ থেকে জানা গেছে, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ৩৬৯ জন লোকোমাস্টারের বিপরীতে মাত্র দেড়শ জনের মতো (চুক্তিভিত্তিকসহ) লোকোমাস্টার কর্মরত আছেন। তাদের প্রত্যেকের বয়স ৫০ পেরিয়ে গেছে। তাদের মধ্যে অবসরে চলে যাওয়া চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্তরাও রয়েছেন। তাদের গড় বয়সও ৫৮ বছরের ওপরে। এই ব্যাপারে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ ফারুক আহমদ আজাদীকে জানান, ট্রেনচালক (লোকোমাস্টার), স্টেশন মাস্টার ও গার্ড (পরিচালক) স্বল্পতা রয়েছে। ইতোমধ্যে ৪২ জন লোকোমাস্টার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নিয়োগের পর ৬ মাস প্রশিক্ষণ শেষে সহকারী হিসেবে তারা ট্রেন উঠে।
পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে লোকোমাস্টারের সংকট রয়েছে উল্লেখ করে রেলওয়ের চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (পূর্বাঞ্চল) মো. মিজানুর রহমান আজাদীকে জানান, শুধু পূর্বাঞ্চলে নয় সারাদেশে লোকো মাস্টারের স্বল্পতা রয়েছে। এখন নতুন-নতুন নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। তবে নতুন নিয়োগ দিলেও হুট করে সংকট কাটছেনা। নতুন যারা নিয়োগ পেয়েছে তারা দক্ষ হয়ে উঠলে এই সংকট কেটে যাবে বলে জানান তিনি।
রেলওয়েতে ট্রেনচালক (লোকোমাস্টার), স্টেশন মাস্টার, গার্ড (পরিচালক) ও পয়েন্টসম্যান এ ৪টি পদ খুবই জরুরি। এ চারটি পদের লোকই মূলত ট্রেন পরিচালনা করেন। এর কোনো একটিতে সমন্বয়হীনতা থাকলে দুর্ঘটনা ঘটবে।

x