টেস্ট ক্রিকেটে আবারো লজ্জার রাস্তায় হাঁটছে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

রবিবার , ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ at ৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ
3

টেস্ট ক্রিকেটের ভুবনে প্রায় দুই দশক পার করতে চলেছে বাংলাদেশ। অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে আজ এ পর্যায়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট। ওয়ানডের পাশাপাশি টেস্ট ক্রিকেটেও বিশ্বের পরাশক্তিগুলোর সমীহ আদায় করে নিতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু কেমন যেন আবার ছন্দ হারাতে বসেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। টেস্ট ক্রিকেটে ইনিংস পরাজয় কিংবা আড়াই কিংবা তিন দিনে হার অনেকটা ভুলেই গিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সে অধ্যায়টা আবার যেন চলে এসেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটে। আবার বাংলাদেশ দল যেন সেই শুরুর দিকের দলে পরিণত হয়েছে। আবার যেন বাংলাদেশ দলকে নিয়ে খেলতে শুরু করেছে অন্য দল গুলো। যার সব শেষ প্রমাণ ভারতের বিপক্ষে ইন্দোর টেস্ট। ভারতের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজে এতটাই খারাপ করবে বাংলাদেশ সেটা যেন চিন্তাও করতে কষ্ট হচ্ছে দেশের ক্রিকেট প্রেমীদের। কারণ আবার সেই আড়াই কিংবা তিন দিনে হারতে শুরুর করেছে বাংলাদেশ। যদিও ভারতের বিপক্ষে এই টেস্টের ফল কি হবে সেটা জানা হয়ে গিয়েছিল অন্তত টেস্টের প্রথম দিনেই। যেখানে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে অল আউট হয় ১৫০ রানে। ভারতের মত দলের বিপক্ষে এত কম রান করে প্রতিরোধের আশা করাটা নিশ্চয়ই বোকামি। আর সেটা বেশ ভালই টের পেয়েছে মোমিনুল হকরা। পারলনা লজ্জার হাত থেকে দলকে বাঁচাতে। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এই ইন্দোর টেস্ট লজ্বার আরেকটি অধ্যায় হয়ে থাকল।
যদিও এরকম পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর নজির রয়েছে বাংলাদেশের। তবে সেটা সংখ্যায় খুবই কম। এই ভারতের বিপক্ষেও একবার ঘুরে দাঁড়ানোর ইতিহাস রয়েছে বাংলাদেশের। সেটা সেই আড়াই বছর আগে। ২০১৭ সালের ৯-১৩ ফেব্রুয়ারির সেই হায়দ্রাবাদে। ভারতের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ফলোঅন এড়াতে প্রাণপণ লড়েছিলেন মুশফিকুর রহীম। সংগ্রামী শতক উপহার দিয়ে সেবার দলকে ফলোঅন থেকে রক্ষা করেছিলেন। গতকালও সেই মুশফিকই আরেকবার লড়লেন। তাই মনে বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রেমীরা হয়তো ভাবছিল যদি কোনমতে ইন্দোরেও হায়দ্রাবাদের সে স্মৃতি ফিরিয়ে আনা যায়। কিন্তু এবার আর ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটেনি। এবার আর মুশফিক সেঞ্চুুরি করতে পারেননি। ইনিংস পরাজয়ও এড়ানো সম্ভব হয়নি। ভারতের কাছে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টটা বাংলাদেশ হেরেছে এক ইনিংস ও ১৩০ রানের বড় ব্যবধানে।
অথচ মুশফিকের দায়িত্বশীল ব্যাটিং আশা জাগাচ্ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রেমীদের মনে। আর যাই হোক হয়তো লজ্জার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। কিন্তু সেটা আর হলোনা লজ্জা নিয়েই ফিরেেত হলো বাংলাদেশকে। আড়াই বছর আগের যে ম্যাচে ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলি অনবদ্য ডাবল সেঞ্চুরিতে (২৪৬ বলে ২০৪) ভারত ৬ উইকেটে ৬৮৭ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে দিয়েছিল। জবাবে মুশফিকুর রহিমের একার লড়াইয়ে ফলোঅন এড়িয়েছিল বাংলাদেশ। ৩৮১ মিনিটে ২৬২ বলে ১৬ বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায় মুশফিকের উইলো ছুঁয়ে এসেছিল ১২৭ রানের চোখ ধাঁধানো এক ইনিংস। যে ইনিংসে ভর করেই ৩৮৮ রান করে ভারতকে আবারো ব্যাটিংয়ে নামাতে সক্ষম হয়েছিল বাংলাদেশ। গতকাল যিনি আট নম্বরে নেমে মুশফিককে সঙ্গ দিয়েছেন, সেই মেহেদি হাসান মিরাজ আড়াই বছর আগে হায়দ্রাবাদের ম্যাচটিতে প্রথম ইনিংসেও মুশফিকের সাথে লড়াই-সংগ্রাম করেছিলেন। সপ্তম উইকেটে ৯৭ রানের জুটিও গড়েছিলেন। সেবার মিরাজের ব্যাট থেকে এসেছিল ১০৭ বলে ৫১ রানের দারুন লড়াকু এক ইনিংস। গতকালও তার সুযোগ ছিল তেমন কিছু করার। কিন্তু সেই টেস্টের মতো আজ হাফসেঞ্চুরি করতে পারেননি এই অলরাউন্ডার। ৫৫ বলে পাঁচ বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় ফিরে গেছেন ৩৮ রানে। মুশফিক আর মিরাজের জুটিটি ছিল ৫৯ রানের। মূলত মিরাজ ফেরার পরই মুশফিকের মনোবলটা ভেঙে যায়। আর এগুতে পারেননি মুশফিক।
যদিও এই টেস্টে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন মুশফিক। উইকেটকিপিং করলে তিনি ব্যাটিংটাও ভালো করেন, এতকাল সেটা ছিল পরিসংখ্যানে। আর গতকাল আরও একবার দেখা গেল, কিপিং ছাড়লেই তিনি ব্যাট হাতে বড় ইনিংস খেলতে পারবেন এমন ধারণা সত্য নয়। টেস্ট ক্যারিয়ারের সব কটা শতক মুশফিক পেয়েছেন কিপার কাম ব্যাটসম্যান হিসেবেই। ভারতের সাথে আগের চার টেস্টের দুই সেঞ্চুরিও কিপার কাম মিডল অর্ডার হিসেবে। এ ম্যাচে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলে ষাটের ঘরে গিয়েই থামতে হলো মুশফিককে। কিন্তু দলকে পারলেননা বড় লজ্জা থেকে রক্ষা করতে।

x