টেম্পল গ্রান্ডিন (২০১০)

নীলাঞ্জনা অদিতি

শনিবার , ৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৫:৫৭ পূর্বাহ্ণ

মেরি টেম্পল গ্রান্ডিন কলোড়াডো স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের পশু বিজ্ঞানের একজন অধ্যাপক এবং অটিজম-এর একজন মুখপাত্র। তাঁর জীবনের ওপর ২০১০ সালে নির্মিত হয় টেম্পল গ্রান্ডিন সিনেমাটি।
মুভিটিতে দেখানো হয় যে, টেম্পল গ্রান্ডিন অটিজমে আক্রান্ত একজন শিশু যে-কিনা চাপা স্বভাবের, খেয়ালী বদমেজাজী এবং একই সাথে অসামাজিক। তাকে মানসিক হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেয়া সত্ত্বেও টেম্পলের মা উস্তাসিয়া একজন থেরাপিস্ট নিয়োগ করেন যাতে তাঁর কন্যা সামাজিকতা আয়ত্ত্ব করতে পারে।
বয়:সন্ধিকালে সে তার আঙ্কেল আন্টির বাসায় গবাদি পশু প্রতিপালনের কাজে যোগ দিতে যায়। সেখানে গিয়ে সে দেখে গবাদি পশুদের শক্তিশালী খাঁচায় রাখা হয়েছে তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার সুবিধার জন্য। যখন টেম্পল ভয়ে কুঁকড়ে যেত সে-সেই খাঁচার সাহায্য নিত নিজেকে শান্ত করতে। তাঁর শিক্ষক ড. কার্লক দ্বারা অনুপ্র্রাণিত হয়ে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনার উদ্দেশ্যে সে ফ্রাঙ্কলিন পিয়ার্স কলেজে ভর্তি হয়। সেখানে সে কঠিন সময়ে যাতে শান্ত থাকা যায় অ্যার জন্য খাঁচার প্রাথমিক রূপ তৈরি করে। কিন্তু তার কলেজ এই যন্ত্রের ব্যবহারকে ভুলভাবে ব্যখ্যা করে এবং বলে যে এই যন্ত্রটি যৌন উস্কানিমূলক কাজে ব্যবহার হচ্ছে এই কারণে টেম্পলকে এই যন্ত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য করা হয়। প্রত্যুত্তরে সে একটি বিজ্ঞানভিত্তিক চুক্তি করে যেখানে দেখানোর চেষ্টা করে যে তার বানানো যন্ত্রটি বিশুদ্ধ থেরাপিক যন্ত্র যেখানে বিভিন্ন মানুষের প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করা হয়। গ্রান্ডিন মনোবিজ্ঞানে স্নাতক ও পশু বিজ্ঞানে স্নাতকত্তোর করেন।
এই মুভির শেষ অংশে দেখা যায় ১৯৮১ সালে জাতীয় অটিস্টিক সম্মেলনে বক্তা যখন অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ হচ্ছিল তখন ভিড়ের মাঝ থেকে টেম্পল বলে ওঠে কীভাবে সে অটিজমের শিকার হওয়া সত্ত্বেও সফল হয়েছে এবং এক্ষেত্রে তার মায়ের কী অবদান।
মুভিটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ক্লেয়ার ডেন্স, জুলিয়া ওরমন্ড, ডেভিড শ্‌ত্রাটহেয়ার্ন প্রমুখ। পরিচালনা করেছেন মিক জনসন।
মুভিটি প্রাইমটাইম এমি পুরস্কার, গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার, স্ক্রিন একটরস গিল্ড পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরস্কার জিতে নেয়।

x