‘টেনশন নেই’ শিমলার

মঙ্গলবার , ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৬:৪৯ পূর্বাহ্ণ
1146

বিমান ছিনতাই করতে গিয়ে নিহত পলাশ আহমেদের সঙ্গে সাড়ে তিন মাস আগেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়েবিচ্ছেদ ঘটায় বিষয়টি নিয়ে কোনো ‘টেনশন’ করছেন না জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী চিত্রনায়িকা শামসুন নাহার শিমলা। রোববার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কমান্ডো অভিযানে পলাশ নিহত হওয়ার সময় তার নাম-ঠিকানা জানা যায়নি। তখন তাকে বলা হচ্ছিল, শিমলার প্রেমিক। তিনি বিমানের ক্রুদের জিম্মি করে ‘পারিবারিক সমস্যা’ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চাইছিলেন। পরে ধীরে ধীরে উদ্ঘাটিত হয়, নিহত যুবক চিত্রনায়িকা শিমলার স্বামী। খবর বিডিনিউজের।
এদিকে ঘটনার পর রাত থেকে আলোচনার কেন্দ্রে শিমলা। কিন্তু তার কোনো খোঁজ মিলছিল না। সোমবার দুপুরে জানা গেল, তিনি বর্তমানে ভারতের মুম্বাইয়ে অবস্থান করছেন। সকালে তার সঙ্গে পুরো পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন তার ভাই ভুট্টু মিয়া। ভুট্টু মিয়ার বরাত দিয়ে শিমলার চাচাত ভাই আব্দুর রহমান মিল্টন বিডিনিউজকে বলেন, ‘শিমলা ভালো আছেন। উনি কোনো টেনশন করছেন না। কারণ পলাশের সঙ্গে বিয়ে হলেও সাড়ে তিন মাস আগে বিয়ে-বিচ্ছেদ ঘটেছে তার।’
গত বছরের ৫ নভেম্বর স্বামী পলাশ আহমেদের ঠিকানায় তালাকের নোটিস পাঠিয়েছেন শিমলা। নোটিস সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৬ মার্চ বিয়ে করেন তারা। বয়সে নিজের চেয়ে ২০ বছরের ছোট পলাশকে বিয়ের ৯ মাসের মাথায় তালাকের সিদ্ধান্ত নেন এ নায়িকা। বিয়েবিচ্ছেদের কারণ হিসেবে শিমলা নোটিসে উল্লেখ করেন, ‘দাম্পত্যজীবনে সুখী হতে না পারা, মনের অমিল, বনিবনা না হওয়া, পারিবারিক অশান্তি ও মানসিক নির্যাতন’। আইন অনুযায়ী নোটিস পাঠানোর ৯০ দিনের মাথায় তাদের তালাক কার্যকর হয়েছে।
বিচ্ছেদের আরেকটি কারণ হিসেবে ‘দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাকে’ তুলে আনেন শিমলার মা নুরুন্নাহার জোৎস্না। তার বরাত দিয়ে মিল্টন বলেন, ‘বিয়ের কিছুদিন পর জানতে পারি পলাশের সঙ্গে বিভিন্ন শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়মিত উঠাবসা ছিল। বিষয়টি জানতে পেরেই শিমলা পারিবারিকভাবে বিচ্ছেদের মাধ্যমে সেই সম্পর্ক থেকে সরে আসে।

শিমলার আগে মেঘলা নামে বগুড়ার এক মেয়ের সঙ্গে পলাশের প্রথম বিয়ে হয়। সেই স্ত্রীর সঙ্গেও তার বিচ্ছেদ হয়ে যায়। প্রথম স্ত্রীর ঘরে পলাশের একটি ছেলে রয়েছে বলে জানান তার পিতা পিয়ার জাহান।
চলতি বছরের শেষের দিকে পলাশের সঙ্গে দাম্পত্য জীবনে টানাপড়েনের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে থিতু হন শিমলা। শুরুর দিকে কয়েকমাস কলকাতায় কাটিয়ে মুম্বাইয়ের একটি ফ্লাটে উঠেছেন। মাঝে-মধ্যে দেশে ফেরেন তিনি। সবশেষ গত ঈদুল আজহায় গ্রামের ঝিনাইদহে শৈলকুপায় দেখা গিয়েছিল তাকে। শিমলার মা জানান, তিনি নিজেও শিমলার সঙ্গে কিছুদিন মুম্বাইয়ে ছিলেন। সেখানে সে ভালো আছে। মাস তিনেক আগে তিনি মেয়েকে রেখে দেশে ফিরেছেন। বলিউডের ‘সফর’ নামে একটি চলচ্চিত্রে শুটিং শেষ করেছেন সমপ্রতি; ছবিটি পরিচালনা করেছেন তরুণ পরিচালক অর্পণ রায় চৌধুরী। মাস খানেক আগে ছবির ডাবিং হওয়ার পর থেকে এ অভিনেত্রীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন অর্পণ। বিষয়টি নিয়ে শিমলার নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে তার সাড়া পাওয়া যায়নি।
১৯৯৯ সালে শহীদুল ইসলাম খোকন পরিচালিত ‘ম্যাডাম ফুলি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হয় শিমলার। প্রথম ছবিতেই শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। পরে ‘গঙ্গাযাত্রা’, ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’ ‘নিষিদ্ধ প্রেমের গল্প’, ‘নাইওর’সহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

x